পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গাইবান্ধা জেলার ৭টি উপজেলা জুড়ে জমে উঠেছে কামারদের কর্মব্যস্ততা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনের লেলিহান শিখায় লোহা পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে দা, ছুরি, চাপাতি, বটি, কুড়ালসহ কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের নানা সরঞ্জাম। ‘ঠং ঠং’ শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে শহর-বন্দর থেকে শুরু করে গ্রামের কামারের বাড়ী বা দোকান।
গাইবান্ধা শহরের পুরাতন বাজার, প্রেস ক্লাবের সামনে, কাচারী বাজার, বালুয়া বাজার, স্টেশন বাদিয়াখালী বাজার, লক্ষীপুরহাট, কামারপাড়া স্টেশন এলাকা, বামনডাঙ্গা, নলডাঙ্গা, কামারজানি, সাদুল্লাপুর, ধাপেরহাট, পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জের তারাপুর ও পাঁচপীর হাটসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, দা, ছুরি, চাপাতি, বটি, কুড়ালসহ কোরবানির কাজে ব্যবহৃত নানান যন্ত্রপাতি বানাতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। কোরবানির জন্য গরু, খাসি, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ও মহিষ জবাইয়ের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে কিংবা পুরনো দা-বটি শান দিতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। কামাররা জানান, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে তাদের কাজ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই চাহিদা সামাল দিতে দিন-রাত কাজ করছেন তারা। কেউ নতুন দা বানাচ্ছেন, কেউ ছুরি ধার দিচ্ছেন, আবার কেউ তৈরি করছেন ছোট-বড় বিভিন্ন চাকু ও মাংস কাটার যন্ত্রপাতি। গাইবান্ধা শহরের পুরান বাজারের এক কামার বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটানা কাজ করছি। ঈদের আগে মানুষ নতুন দা, বটি আর চাপাতি কিনতে বেশি আসে। পুরনো জিনিসও শান দিয়ে নিচ্ছে অনেকে। সাদুল্লাপুরের কামারজানি এলাকার আরেক রতন কামার জানান, আগে হাতে তৈরি করতে অনেক সময় লাগতো। এখন আধুনিক যন্ত্রপাতি আসায় কিছুটা সহজ হয়েছে। তবুও আগুনের সামনে বসে লোহা পিটিয়ে কাজ করা অনেক কষ্টের। কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবছর লোহার দাম বাড়ায় কিছুটা বেড়েছে দা, ছুরি ও বটির দাম। তবে সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে অনেকেই দাম নাগালের মধ্যেই রাখার চেষ্টা করছেন। আকার ও মানভেদে বটি ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা, দা ৫০০ থেকে ১২০০ টাকা, ছুরি ১০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং চাপাতি ৬০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। গোবিন্দগঞ্জের এক ক্রেতা বলেন, কোরবানির সময় ভালো ধারালো দা-ছুরি না হলে কাজ করা কঠিন। তাই ঈদের আগে কামারদের কাছ থেকেই তৈরি করিয়ে নিচ্ছি। কামাররা আরও জানান, সারা বছরের তুলনায় কোরবানির ঈদই তাদের সবচেয়ে বড় মৌসুম। এই সময়ের আয় দিয়েই অনেকে বছরের বড় অংশের সংসার চালান। তাই বাড়তি কষ্ট হলেও পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন জেলার শত শত কামার।
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কামারপাড়ার ব্যস্ততা। আগুনে পোড়া লোহা আর হাতুড়ির শব্দে যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে গাইবান্ধার ঐতিহ্যবাহী।

