মাদারীপুরের ডাসারে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর জখম মারুফ নামের ১৪ বছরের কিশোর মৃত্যু। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এঘটনায় নিহত মারুফের মা মাহিনুর বেগম বাদী হয়ে ডাসার থানায় একটি হত্যা মামলায় দায়ের করেন এবং এজাহারে মোফাজ্জেল সরদারসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এর আগে শনিবার সকালে ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের খাতিয়াল এলাকায় মারুফসহ চারজনকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। নিহত মারুফ সরদার ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের খাতিয়াল এলাকার নুর ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা নুর ইসলাম সরদার, মা মাহিনুর বেগমসহ একই বাড়ির হোসনেয়ারা বেগম ও পাপিয়া বেগমকে পিটিয়ে গুরতর আহত করা হয়। আহতদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, দীর্ঘদিন ধরে খাতিয়াল এলাকার নুর ইসলাম সরদারের সাথে একই এলাকার মোফাজ্জেল সরদারের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। শনিবার সকালে নুর ইসলামের বাড়ির পাশে একটি বিরোধপূর্ণ জমিতে উভয়পক্ষ মাপের আয়োজন করেন। এসময় দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও তর্ক-বিতর্ক সৃষ্টি হয়। একপর্যায় মোফাজ্জেল সরদারের নেতৃত্বে তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষ নুর ইসলামের ওপর হামলা চালায়। এসময় বাঁধা দিতে গেলে নুর ইসলামের ছেলে, স্ত্রীসহ পাঁচজনকে পিটিয়ে গুরতর জখম করা হয়। পরে গুরতর অবস্থায় নুর ইসলাম ও তার ছেলে মারুফ সরদারসহ পাঁচজনকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় আশঙ্কাজনক অবস্থায় মারুফ সরদারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরবর্তীতে মারুফের অবস্থা অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাইভ সাপোর্ট জন্য তাকে ঢাকাস্থ রামপুরায় অবস্থিত মাল্টি কেয়ার হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে রোববার সকাল ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মারুফের বাবা নুর ইসলাম বলেন, মোফাজ্জেল সরদার ও তার লোকজন আমার পোলারে পিটিয়া, কুপাইয়া মাইরা ফালাইছে। আমার পোলা যদি না থাকে, জমি নিয়ে ওরা কি করবে? আমার পোলারে যারা মারছে তাদের বিচার চাই, তাদের ফাঁসি চাই। এদিকে মারুফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গা ঢাকা দিয়েছে প্রধান অভিযুক্ত মোফাজ্জেল সরদার ও তার লোকজন। এবিষয়ে জানতে চাইলে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
নিহত মারুফ সরদারের মা মাহিনুর বেগম জানান, আমার নিষ্পাপ সন্তানকে ওরা পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে, আজকে আমার সন্তান চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে মারা গেছে, আমি এই খুনিদের ফাঁসি চাই, আমি হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।
এ বিষয়ে ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান, আমরা সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। তিনি আরো বলেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত মারুফের মা মাহিনুর বেগম বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ্য একটি হত্যা মামলা করেছে। এঘটনায় তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

