ঢাকাTuesday , 18 November 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জয়পুরহাটে নবান্ন উৎসবে মেয়ে–জামাইদের নিয়ে কালাইয়ে বসেছে মাছের মেলা

Link Copied!

অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম দিন। শুরু হয়েছে প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদে প্রাণের নবান্ন উৎসব। কৃষকের ঘরে উঠেছে নতুন ধান। পিঠা–পায়েসসহ বিভিন্ন আয়োজনকে কেন্দ্র করে মেয়ে–জামাই ও আত্মীয়–স্বজনদের নিয়ে উৎসব পালন করছেন সবাই। আর এ উৎসবকে কেন্দ্র করে জয়পুরহাটের কালাই পৌরশহরের পাঁচশিরা বাজারে এক দিনের জন্য বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। ভোর ৪টা থেকেই চলে মাছ কেনা–বেচার এই উৎসব। প্রতি বছর এই দিনের অপেক্ষায় থাকেন উপজেলার নানা প্রান্তের মানুষ। মেলায় ভিড় জমিয়েছে জামাই ছাড়াও সব বয়সী নারী–পুরুষ। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে পূর্ব আকাশে উঠতে শুরু করেছে সূর্য। বইছে হিমেল বাতাস। শীত উপেক্ষা করে ভোর রাত থেকেই বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে হাজির হন বিক্রেতারা। আর সেই মাছ কেনার মূল আকর্ষণ জামাইরা। মেলা জুড়ে ছিল ক্রেতা–বিক্রেতা ও কৌতূহলী মানুষের ঢল। প্রায় একশ বছর ধরে নবান্ন উৎসবকে ঘিরে কালাই উপজেলার পাঁচশিরা বাজারে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এ মাছের মেলা। মেলায় নদী, দিঘি ও পুকুরে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা দেশীয় প্রজাতির টাটকা মাছের প্রাচুর্য দেখা যায়। সারাদেশে বসবাসরত জামাই মেয়ে, বিয়াই বিয়ানসহ আত্মীয় স্বজনরা এদিন শ্বশুরবাড়ির অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসেন। প্রতিযোগিতার মনোভাব নিয়ে জামাইরা এখান থেকে বড় মাছ কিনে নিয়ে যান শ্বশুরবাড়িতে। প্রত্যেক দোকানে সাজানো ছিল দেশীয় বোয়াল, রুই, মৃগেল, কাতলা, চিতল, সিলভার কার্প, পাঙ্গাস, ব্রিগেট, বাঘার, আইরসহ নানা জাতের মাছ। মেলায় আগত জামাই দর্শনার্থীমেলায় সর্বোচ্চ ২৫ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ ২৬ হাজার ৬’শ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, তারা প্রায় ১৫ দিন আগে থেকেই মেলার জন্য প্রস্তুতি নেন। ব্যবসায়ীরা পঞ্জিকা অনুসারে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম দিনই এ মেলা বসে। নতুন ধান কাটার আনন্দে কৃষকদের প্রস্তুতকৃত চালের প্রথম রান্না উপলক্ষে আয়োজিত হয় নবান্ন উৎসব। আমন ধান কাটা শেষে প্রতি বছর অগ্রহায়ণে নেয়া হয় এ আয়োজন। এলাকাবাসীর মতে, মেলার কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজক নেই, বরং এদিন স্বতঃস্ফূর্তভাবেই বসে মাছের মেলা। তবে মেলার আগে ব্যবসায়ীরা এক সপ্তাহ ধরে মাইকিং করে প্রচারণা চালান। এদিন প্রচুর মাছ আমদানি হয় এবং বিক্রিও হয় বেশ। সারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জামাই মেয়ে, নাতি নাতনি ও অন্যান্য আত্মীয়রা এদিন শ্বশুরবাড়ির আমন্ত্রণে এখানে জড়ো হন। কালাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদা মোহতামিম বলেন, প্রতি বছর অগ্রহায়ণের এই দিনটি পাঁচশিরা বাজারে মাছের মেলা বসে। বিভিন্ন ধরনের ছোট–বড় মাছ এ মেলায় ওঠে। বড় মাছ দেখে এলাকায় চাষীদের আগ্রহ বাড়ছে। আজকের মেলায় কমপক্ষে এক কোটি টাকার মাছ বিক্রি হবে বলে আশা করা যায়। মৎস্য বিভাগ সবসময় চাষীদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।” তৌহিদা মোহতামিম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, কালাই, জয়পুরহাট ব্যবসায়ীরা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ক্রেতা বেশি ছিল। মাছও ভালো বিক্রি হয়েছে। দাম ছিল স্বাভাবিক। ফলে লাভও হয়েছে মোটামুটি। আর বছরজুড়ে এই দিনের অপেক্ষায় থাকেন মেয়ে জামাই ও আত্মীয় স্বজনরা। তাই আনন্দ উপভোগ করতেই নবান্ন ঘিরে এমন প্রাণের আয়োজন।