জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার চাকলমুয়া গ্রামে পূর্ব শত্রুতা ও কলহের জেরে একটি পরিবারের ওপর পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন এক নারী, তার পুত্রবধূ, ছেলে ও নাতি। আহতদের কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মোঃ আফজাল হোসেন থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানান, গত ১৩ নভেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে একই গ্রামের মোঃ কহিনুর ইসলাম, মোঃ শরিফুল ইসলাম, মোছাঃ রাশেদা বেগমের নেতৃত্বে কয়েকজন বিবাদী লোহার রড, বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। অভিযোগে বলা হয়, বিবাদীরা প্রথমে আফজালের স্ত্রী মোছাঃ শাহেনা বেগম এবং পুত্রবধূ মোছাঃ মহসিনা বেগমকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। তারা প্রতিবাদ করলে বিবাদী শরিফুল ইসলাম পুত্রবধূর চুলের মুঠি ধরে কিল-ঘুষি মারেন এবং তাকে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর কহিনুর ইসলাম লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মহসিনা বেগমের মাথা, বুক ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে নাক ফেটে রক্তাক্ত হন। শাহেনা বেগম বাধা দিলে তাকেও বাঁশের লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম করে বিবাদীরা। এ সময় মহসিনা বেগম মাটিতে পড়ে থাকাকালে বিবাদীরা তার গলায় থাকা প্রায় ১ ভরি স্বর্ণের চেইন (মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা) জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এর কিছুক্ষণ পর বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে, আফজালের ছেলে মোঃ মিলন হোসেন ও নাতি মোঃ মেহেদী হাসান মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে গ্রামের সোহেল রানার দোকানের সামনে পৌঁছালে বিবাদীরা আবারও তাদের পথরোধ করে। পরে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর জখম করে। এ সময় মিলন হোসেনের পকেটে থাকা ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় কহিনুর ও শরিফুল ইসলাম। চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মিলন ও মেহেদীকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা আহত শাহেনা বেগম, মহসিনা বেগম ও মেহেদী হাসানকে অটোভ্যানে করে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ভর্তি করেন। তারা সবাই বর্তমানে চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অভিযোগকারী আফজাল হোসেন বলেন, বিবাদীরা পূর্ব শত্রুতার কারণে আমাদের পরিবারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমরা বিচার ও নিরাপত্তা চাই।”

