ঢাকাSunday , 16 November 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গাইবান্ধায় শীতের আগেই জমে উঠেছে লেপ-তোষকের বাজার

Link Copied!

ভোরের হাওয়ায় হালকা শীতের গন্ধ। গাইবান্ধা শহরের কাচারী বাজারে লেপ-তোষকের রঙিন সারি, তুলার গন্ধ, আর কারিগরদের ব্যস্ত হাতের শব্দ। শীত পুরোপুরি না নামলেও বাজারজুড়ে এখন লেপ-তোষক তৈরি করা করছেন এবং বেঁচাকেনা চলছে পুরাদমে।
সকালে কথা হলো গাইবান্ধা জেলার সবচেয়ে বড় লেপ-তোষক ও তুলা বিক্রয়ের প্রতিষ্ঠান, তৃষা বেডিং হাউস-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ আব্দুল লতিফ মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, শীত পড়া শুরু হয়েছে ঠিকই, তবে আর এক সপ্তাহ পর পুরো দমে ঠান্ডা নামলে লেপ-তোষকের বিক্রি চোখে পড়ার মতো বাড়বে। আমাদের কাছে ৬ ফিট ও ৭ ফিট মাপের কার্পাস তুলার লেপ সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। ভালো তুলা দিয়ে তৈরি প্রতিটি লেপ-তোষকের দাম ২,০০০ থেকে ২,১০০ টাকা। এদিকে বাজারের আরেক জনপ্রিয় দোকান বিসমিল্লাহ বেডিং স্টোর-এর মালিক জানান, একই সাইজের লেপ-তোষক তারা বিক্রি করছেন ১,৯০০ থেকে ২,০০০ টাকায়। দোকানের সামনে তখনই কয়েকজন ক্রেতা তুলার মান দেখছিলেন। বিক্রেতাদের আশাবাদ শীত বাড়লেই বিক্রি দ্বিগুণ হবে। কথা হলো গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের কোল ঘেষে, ছোট দোকান, ডালেস বেডিং–এর মালিকের সঙ্গে। তিনি হাসিমুখে বললেন,বড় দোকানের চেয়ে আমি একটু কম দামে লেপ দিই। দোকান ছোট, খরচ কম এটাই সুবিধা। সব আইটেমই পাওয়া যায় আমার কাছে। ৬ বা ৭ ফিটের লেপ দিচ্ছি ১,৯০০ থেকে ১৯৫০ টাকায়। আর কভার ছাড়া লেপ পাওয়া যায় ১,৪০০ থেকে ১,৫৫০ টাকায়। কাচারি বাজারের বেডিং দোকান দুলাল বেডিং স্টোর–এর মালিক দুলাল জানান, মূল্য প্রায় সব দোকানে কাছাকাছি। তবে বড় দোকানে ভিড় বেশি থাকে। অথচ আমরা অনেক সময় বড় দোকানের চেয়ে কম দামে লেপ–তোষক বিক্রি করি। কিন্তু অনেক ক্রেতা কষ্ট করে তা বুঝতেই চান না। সাধারণ তুলার লেপও দিই ১,১০০-১,২০০ টাকায়। লাভ কম করি, কারণ গরিব ও মধ্যবিত্তদেরও বাজেট ছোট থাকে তাদের কথা মাথায় রাখি। মগাইবান্ধা প্রেসক্লাবের আশপাশের পুরো এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে আছে এসব দোকান। প্রতিটি দোকানের সামনে বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে ভিড় বাড়তে থাকে। তুলার স্তূপ, কভারের রঙ, আর হাসিমাখা বিক্রেতাদের কণ্ঠ বাজারকে সাজিয়ে রাখে উৎসবের মতো। মাত্র কয়েক কদম দূরে টেনিস মাঠের নিকটে লেপ–তোষক প্রস্তুতকারক মোঃ মজিবর রহমানের সঙ্গে কথা হলো, ৩২ বছর ধরে তিনি লেপ তোষক, কারিগরি পেশায় আছেন। তিনি জানান, একটা লেপ বানাতে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পাই। সারাদিন পরিশ্রম করলে ২ থেকে ৩টা লেপ বানানো যায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করলে তিনটাও হয়, কিন্তু একটু বিরতি নিলে দুইটা পর্যন্ত গিয়ে ঠেকে। শীত বাড়তেই অর্ডার বাড়বে। বাজারের টেনিস বল খেলার মাঠের পাশেই কাজ করেন অভিজ্ঞ কারিগর সৈয়দ এব্রাহা। তিনি জানান, গাইবান্ধা জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেপ-তোষক বিক্রি হয় এই কাচারি বাজার প্রেসক্লাবের সামনে। এখান থেকেই গাইবান্ধার সাতটি উপজেলার বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করা হয়। রংপুরের তুলনায় গাইবান্ধায় লেপ বানানোর কারিগরি খরচও কম। তিনি আরও জানালেন, সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্ল্যাপুর, পলাশবাড়ীসহ সব উপজেলায় ইতোমধ্যে লেপ–তোষক বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। দামও গতবারের মতো একই আছে বেশি বাড়েনি। শেষে কথা হলো লেপ-তোষক বিক্রেতা ইয়াকুব আলী ও কারিগর ইয়াসিন এর সঙ্গে। তাদের কথায় উঠে এলো বাজারের নতুন বাস্তবতা। আগের মতো মানুষ লেপ–তোষক কম কিনে বা বানায়। কারণ কম্বলের বাজার ধীরে ধীরে জায়গা দখল করে নিয়েছে। তবুও যার প্রয়োজন আছে সে লেপই নেয়। বিশেষ করে যারা তুলার নরম লেপের আরাম বোঝে, তারা আজও লেপের দিকেই ঝুকে যায়। শীতের কুয়াশা নামার অপেক্ষায় বাজার। তবে লেপ-তোষকের দোকানগুলোতে ইতোমধ্যে জমতে শুরু করেছে ক্রেতাদের ভিড়।