ঢাকাSunday , 16 November 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গ্যাস সংকটে ২৩ মাস ধরে বন্ধ সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানা 

Link Copied!

গ্যাস সংকটে ২৩ মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে আছে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা (জেএফসিএল)। এতে প্রতিদিন লোকসান হচ্ছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে এই শিল্প কারখানাটি বন্ধ থাকায় মরিচা ধরে নস্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রাংশ। ফলে আসন্ন বোরো মওসুমে ইউরিয়া সারের সংকট হতে পারে বলে মনে করছে কৃষকেরা। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে এই যমুনা সার কারখানাটি বন্ধ থাকার কারণে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে এ কারখানার সাথে জড়িত ও বিভিন্ন পরিবহনের হাজার হাজার শ্রমিক পরিবার। অতি দ্রুত পুনরায় গ্যাস সংযোগ দিয়ে কারখানাটি চালু করে এ উপজেলার হাজার হাজার শ্রমিক পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেয়ার দাবী জানান স্থানীয়রা। কারখানা সুত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে তারাকান্দি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা। এ কারখানাটি বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প সংস্থা নিয়ন্ত্রণাধীন এবং কেপিআই-১ মানসম্পন্ন সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। কারখানার সঠিক উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন গড়ে ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কারখানাটি প্রতিদিন ১ হাজার ৭০০ টন সার উৎপাদন করছিলো। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে গ্যাসের প্রেসার স্বল্পতা ও নানা ত্রুটির কারণে উৎপাদন কমে গিয়ে ১ হাজার ২০০ টনে নেমে আসে। এ কারখানা থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও উত্তরাঞ্চলের রাজবাড়ী ও উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলায় প্রায় আড়াই হাজার ডিলারের মাধ্যমে সার সরবরাহ করা হয়ে থাকে। গত ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে তিতাস কোম্পানী গ্যাসের প্রেসার কমিয়ে দেয়ার কারনে উৎপাদন ও কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বেকার হয়ে পড়ে কারখানাসংশ্লিষ্ট শ্রমিক, কর্মচারী, পরিবহনের চালক, হেলপার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হোটেল মালিকরা।
এদিকে বন্ধ থাকার দীর্ঘ ১৩ মাস পর ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী গ্যাস সংযোগ পেয়ে আবার উৎপাদনে ফিরে কারখানাটি। উৎপাদন শুরুর ৪ দিনের মাথায় কারখানার অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে ২৬ ফেব্রুয়ারী বুধবার রাত ৭টার পর ফের উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। তারপর থেকে বন্ধ রয়েছে বৃহৎ এ কারখানাটি। দীর্ঘ ২৩ মাস ধরে কারখানাটি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন সাড়ে ৩ কোটি টাকা করে লোকসান হচ্ছে বলে জানান সিবিএ নেতারা। অতি দ্রুত গ্যাস সংযোগ দিয়ে দেশের বৃহৎ এ শিল্প কারখানাটি সচল করতে না পারলে এক সময়কার চিনি ও পাট শিল্পের মতো এ কারখানাটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান স্থানীয়রা। এদিকে গত ১৫ আগষ্ট বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান যমুনা সার কারখানা পরিদর্শন করতে এসে দ্রুতই পুনরায় গ্যাস সংযোগ দিয়ে কারখানা চালু করার আশ্বাস দেন। তবে আশ্বাস দেয়ার ৩ মাস হলেও চালু হয়নি এ কারখানাটি। যমুনা সার কারখানা এলাকার একাধিক শ্রমিক জানান, এ কারখানার সাথে জড়িত শত শত ট্রাক, ট্যাঙ্ক ও লড়ি পরিবহন আছে। দীর্ঘদিন ধরে কারখানা বন্ধ থাকার কারনে আমরা শ্রমিকরা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি। কারখানা বন্ধ থাকলেও প্রতিদিন সকালে কারখানার সামনে এসে বসে থাকি চালুর আশায় ও কাজের আশায়। অধিকাংশ দিনই খালি হাতে বাড়ীতে ফিরে যেতে হয়। কারখানা এভাবে বন্ধ থাকলে আমরা না খেতে পেরে মারা যাবো। যমুনা সারকারখানা শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক মোরর্শেদ আলম তালুকদার বলেন, প্রায় ২ বছর ধরে কারখানাটি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। এতে করে কারখানার ডিলারদের আমদানীকৃত সার সরবরাহ করা হচ্ছে। কারখানাটি চালুর বিষয়ে আমরা একাধিকবার উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অনুপ সিংহ বলেন, যমুনা সার কারখানার সারের গুনগত মান ভালো। আমাদের কৃষকেরা যমুনার সার জমিতে ব্যবহার করে। এতে ফসলের ফলন ভালো হয় ও গুনগত মান বৃদ্ধি পায়। আমদানীতকৃত সার গুলো দীর্ঘদিন ধরে কারখানায় মজুদ রাখার কারনে এটির গুনগত মান অনেকটাই কমে যায়। ফলে কৃষক আমদানী করা সার শষ্যক্ষেতে ব্যবহার করতে চায় না। কৃষি ও কৃষকের কথা চিন্তা করে হলেও সারকারখানাটি চালুর প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) এস.এম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ মুঠোফোনে বলেন, গ্যাস সংযোগ দেয়ার বিষয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। খুব তারাতাড়ি যমুনা সারকারখানায় পুণরায় গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে। যাতে আবার আগের মতো যমুনা সারকারখানা পুরোদমে উৎপাদনে ফিরতে পারে। আশা করি অতি দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।