ঢাকাWednesday , 17 September 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ
টাঙ্গাইলে বিএনপির ছত্রছায়ায় আওয়ামী সাংবাদিক জাফর

Link Copied!

শেখ হাসিনা স্বৈরাচার হয়ে উঠার পেছনে সাংবাদিক সমাজের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এ ক্ষেত্রে ঢাকায় যেমন সুবিধাবাদি ও দালান-চাটুকার সাংবাদিকদের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। তেমনি দেশের প্রত্যেকটি জেলা এমনকি উপজেলা পর্যায়েও সাংবাদিক নামের দালাল শ্রেণি গড়ে উঠে। দীর্ঘ ১৭টি বছর আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার দালালী করে তেলবাজরা কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান। এ থেকে বাদ পড়েনি টাঙ্গাইল জেলাও। একটি সিন্ডিকেট অক্ষাত-কুখ্যাত ব্যক্তিদের সাংবাদিক বানিয়ে সরকারি অফিস-আদালতসহ সর্বত্র নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। সাধারণ মানুষ তাদের অত্যাচার, নির্যাতন ও জুলুমের শিকার। অসহায় মানুষগুলো ভেবে ছিলেন গণঅভ্যুত্থানের পর এই জালেমদের নিকট থেকে নিস্তার পাবেন। কিন্তু বিএনপির শীর্ষ কতিপয় নেতা আওয়ামী দুঃশাসনের মতো তারাও ভুলে যান তাদের অতীতের নিপীড়ন-নির্যাতনের সব ঘটনা। টাকার বিনিময়ে বিএনপি নেতারা তাদেরকে শেল্টার দিচ্ছেন। টাঙ্গাইলবাসি অর্থলোভী এই ব্যক্তিদের হাত থেকে কবে মুক্তি পাবেন তা অনিশ্চিত। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিষ্ট হাসিনা গত বছরের ৫ আগষ্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায়। ওইদিন দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে হাসিনার দেশ ত্যাগের খবর টাঙ্গাইলে পৌঁছায়। হাসিনা পালানোর এই খবরে বিকেল ৫ টার দিকে টাঙ্গাইলে দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও হামলা-মামলার শিকার বিক্ষুদ্ধ সাংবাদিকরা টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে ঢুকে আওয়ামী লীগের আস্তানা ভেঙ্গে দেয়। আওয়ামী দালাল সাংবাদিকদের বের করে তালা ঝুলিয়ে দেয়। বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা ও সাংবাদিকরা প্রথমেই প্রেসক্লাবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের জুয়া খেলার কক্ষে তালা দেয়। এসময় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতিসহ আওয়ামী দোসররা পালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নেয়। কথিত আছে প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ তার কাগমাড়া বাসায় টয়লেটে লুকিয়ে ছিলেন কয়েক দিন পর্যন্ত। প্রায় ১৭ বছর টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব ছিল জেলা আওয়ামী লীগের বিকল্প কার্যালয়। জেলায় টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, জমি দখল, নিয়োগ বাণিজ্য, মনোনয়ন বাণিজ্য, খুন-হত্যা, বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের দমনপীড়ন ও গায়েবি মামলাসহ সকল অপকর্ম পরিচালিত হত এই প্রেসক্লাব থেকেই। এই সবের যিনি নেতৃত্ব দিতেন তিনি হলেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ। তিনি ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে ভোল্ট পালটিয়ে বিএনপিপন্থী সাংবাদিক নেতা বনে যান। খুব কম সময়ের মধ্যে জাফর বিএনপির বিভিন্ন মিটিং-মিছিল ও সভা-সেমিনারে যোগ দিয়ে বক্তব্যও প্রদান করেন। বিষয়টি হাস্যকর এবং পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য লজ্জাজনক পরিস্থিতি হলেও জাফরের জন্য এটি সুখবর। পর্যালোচনা ও গোপন খবর হচ্ছে, তিনি বিএনপি নেতাদের সামলাতে এবং কাছে পেতে তার অবৈধ অর্জিত কোটি কোটি টাকা উপঢোকন দিয়েছেন শীর্ষ নেতাদের। যা শুধু সাংবাদিক সমাজের মান ক্ষুন্নই হয়নি, কুলষিত করা হয়েছে মহৎ এই পেশাকে। সাংবাদিকতার আড়ালে জাফরের ভয়ংকর রূপের খবর বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অবগত রয়েছে। তার নির্যাতনের শিকার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। ভুক্তভোগীরা এতোটাই অসহায় যে, তাদের বিচার চাওয়ার জায়গা নেই।
সম্প্রতি এসব বিষয়ে সরেজমিনে টাঙ্গাইলে গিয়ে প্রতিবেদক বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সামাজিক সংগঠনের লোকজন, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে যে সকল তথ্য উপাত্ত পায় তা রীতিমত গাঁ শিউরে উঠার মত। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় ৫৪ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব ছিল সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রেসক্লাবের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক দৈনিক যুগান্তর ও বৈশাখী টিভির জেলা প্রতিনিধি জাফর আহমেদ নিজের পদ দীর্ঘস্থায়ী করতে আওয়ামী লীগের নেতাদের ক্লাবের সদস্যপদ দেয়া শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে গত ১৭ বছরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি জোয়াহেরুল ইসলাম, সদরের এমপি ছানোয়ার হোসেন, এমপি খান আহমেদ শুভকে সদস্যপদ দেয়া হয়। এছাড়াও আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাসহ আওয়ামী আশির্বাদপুষ্ট অন্তত ২৫ জনকে সদস্যপদ দিয়ে নিজের পদ ধরে রাখেন জাফর আহমেদ। এর ফলে প্রেসক্লাব কার্যত জেলা আওয়ামী লীগের বিকল্প কার্যালয়ে পরিণত হয়। যা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারেননি সাধারণ সদস্যরা। এছাড়াও জাল সনদ দাখিল করে অনেককে সদস্যপদ দেয়া হয়েছে। অথচ এখনো অনেক পেশাদার সাংবাদিককে সদস্যপদ দেয়া হয়নি। কিন্তু কিছু করার নেই। প্রতিবাদ করলেই মামলা দিয়ে শায়েস্তা করা হয়। গত ১৫ বছর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ক্লাবের একটি কক্ষ দখলে নিয়ে রাতভর জুয়ার আড্ডা বসাতেন সেখানে। জেলার সকল টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, মনোনয়ন বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, খুন-হত্যার পরিকল্পনা, বিএনপি-জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলাসহ সকল অপকর্ম পরিচালিত হতো প্রেসক্লাব থেকে। সব কিছুর নেতৃত্ব দিতেন জাফর আহমেদ। তিনি এতোটাই ভয়ংকর এবং নির্লজ্জ যা টাঙ্গাইলের সর্বস্তরের মানুষ অবগত রয়েছেন। ভয় ও সম্মানের দিকে তাকিয়ে কেউ জাফরের অন্যায়-নিপীড়নের বিষয়ে প্রতিবাদ করেন না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা পালানোর আগের দিন পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলির নির্দেশ দেয়া হয় প্রেসক্লাবে বসেই। বিক্ষুদ্ধ সাধারণ সদস্যরা হাসিনার পতনের অপেক্ষায় ছিল প্রায় ১৭ বছর। ৫ আগষ্ট প্রেসক্লাব দালালমুক্ত ঘোষণাও করেছিল তারা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। জেলা বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা জাফরকে রক্ষা করে প্রেসক্লাবে বহাল রেখেছেন এখনো। একই ভাবে বহাল রয়েছেন আওয়ামী আশির্বাদপুষ্ট সদস্যরা। এদের সিন্ডিকেট বাণিজ্য চলছে আগের মতোই। সাধারণ মানুষ এদের আচরণে অতিষ্ঠ। প্রশাসন নিরবে এদেরকে ঘৃণা করে। জাফর বাহিনীর কলমের মিথ্যা লেখুনির শিকার অসংখ্য নিরীহ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নেতাদের খুশি রাখতে এবং সুযোগ-সুবিধা নেয়ার জন্য টাঙ্গাইলের বিএনপি নেতারা ছিলেন জাফরের কলমের শিকার। প্রায় ১৭ বছর বিএনপি নেতারা ঘরে ঘুমাতে পারেননি। শত শত মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাদেরকে পুঙ্গ করা হয়েছে। বিএনপির ৯৯ ভাগ নেতাকর্মী আওয়ামী দুঃশাসকদের হামলা-মামলার শিকার। বিএনপির শীর্ষ কতিপয় নেতা আওয়ামী দোসর জাফরকে শেল্টার দিয়ে জনগণের কাছে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন। এর প্রভাব আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পড়বে বলে টাঙ্গাইলের বিএনপি নেতারা আশঙ্কা করছেন। তারা দাবি করেছেন, বিএনপির ওই শীর্ষ নেতাদের এক সময় নুন আনতে পান্তা ফুরানোর দশা ছিলো। আর ৫ আগস্টের পর তারা আওয়ামী নেতা ফারুক ও জাফর আহমেদসহ অনেককে টাকার বিনিময়ে মামলা থেকে অব্যাহতি এবং শেল্টার দিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বিষয়টি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি কামনা করেছেন নেতৃবৃন্দ।
গত প্রায় দুই মাস আগে এরকম একটি অভিযোগপত্র আসে দৈনিক পাঞ্জেরী পত্রিকা অফিসে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বার্তা কক্ষ খোঁজ নিতে একটি টিম গঠন করে। প্রায় দুই মাস অনুসন্ধান ও যাঁচাই বাছাঁই করে সত্যতা পাওয়া যায় অভিযোগের। টাঙ্গাইলে সাংবাদিকতার নামে ফ্যাসিষ্ট হাসিনার গত প্রায় ১৭ বছর যে সকল ঘটনার বিষয়ে জানা গেছে তা রীতিমত গাঁ শিউরে উঠার মত। ভুক্তভোগীদের মুখে শুনে গল্প কাহিনীর মতো মনে হলেও এটিই ছিল টাঙ্গাইলের বাস্তব চিত্র। বিএনপির অনেকেই এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে হাউমাউ করে কান্না করেন। তাদের দু’চোখ দিয়ে অশ্রু ঝড়ায় আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠে। নিষ্পাপ মানুষের চোখে হাজারো প্রশ্ন।
জেলা পর্যায়ে সাংবাদিকতার আড়ালে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের দালালী করে শতাধিক কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলা যায়। এ যেন অবাক বিস্ময়। আওয়ামী দালালী করে শত কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন জাফর আহমেদ। ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, মার্কেটে অর্ধশত দোকান, আলিশান বাড়ি, একাধিক প্লট, নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ জায়গাসহ সম্পদের বিবরণ তুলে ধরে বেশ কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। কিন্তু কি কারণে, কেন দুদক জাফরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব করছে তা অজানা রয়ে গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৫ আগষ্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় স্কুলছাত্র মারুফ হোসেন। ১৮ আগষ্ট টাঙ্গাইলে হত্যা মামলা দায়ের হয়। এ মামলায় টাঙ্গাইলের এমপি-মন্ত্রী ও কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আসামী করা হয়। কিন্তু মামলায় বাদ পড়েন টাঙ্গাইলের গডফাদার ও সকল অপকর্মের হোতা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান ফারুক। তাকে মামলা থেকে রেহাই দিতে লেনদেন হয় তিন কোটি টাকা। বিষয়টি টাঙ্গাইলে এখনো একটি আলোচিত ঘটনা।
সুত্র জানায়, মারুফ হত্যা থেকে ফারুককে বাদ দেয়ার মূল কারিগরের দায়িত্ব পাল করেন আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া দোসর প্রেসক্লাব সভাপতি জাফর আহমেদ। তিন কোটি টাকার বিনিময়ে হত্যা মামলা থেকে ফারুককে মুক্তি দিতে জেলা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতাকে কাজে লাগানো হয়। এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এক সমন্বয়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। চুক্তি মোতাবেক তিন কোটি টাকা পরে তারা ভাগবাটোয়ারা করে নেন। এরপর থেকেই টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতাদের রক্ষা ও মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করে চলেছে সাংবাদিক জাফর আহমদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিন্ডিকেটটি। জেলার বালু মহাল দখল থেকে শুরু করে টেম্পু ষ্ট্যান্ড দখল, বাস টার্মিনালসহ সবকিছু সেই আওয়ামী শাসনামলের মতই প্রেসক্লাব থেকে পরিচালিত হচ্ছে। নিকৃষ্ট মনের অধিকারী জাফরের কব্জা থেকে বাদ পড়েনি টাঙ্গাইলের পতিতালয়ও। সরেজমিনে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের শহরের আকুর টাকুর পাড়ায় অবৈধ আয়ে গড়ে তোলেন বিলাসবহুল অট্রালিকা। স্বৈরাচারি হাসিনার পতন হলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি জোয়াহেরুল ইসলাম গোপনে আশ্রয় নেন পৌর এলাকা কাগমারায় জাফর আহমদের নিজ বাসায়। এ বাড়িতে জোয়াহের অনেকটা নিরাপদ ভেবে আত্মগোপন করেন। সাত-আট দিন অতিবাহিত হলে হঠাৎ স্থানীয় এক সাংবাদিক তার ফেসবুকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনৈক সাংবাদিকের বাসায় লুকিয়ে আছেন-এমন একটি পোষ্ট দেন। এরপর রাতেই জাফর আহমদের ব্যক্তিগত গাড়িতে আত্মগোপনে যান জোয়াহের। বিষয়টি ছিল সে সময় টাঙ্গাইলের টক অব দ্যা টাউন। পরে জাফরের সহায়তায় জোয়াহের বিদেশ পালিয়ে যায়। আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক এমপি জোয়াহের শহরের আকুর টাকুর পাড়ায় আশিসান অট্রালিকা নির্মাণ করেন অবৈধ টাকায়। হাসিনা পালানোর পর ভবনটি পরিত্যাক্ত ফেলে রেখে তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যায়। এদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে টাঙ্গাইলের রাজপথে প্রথমসারির অগ্নিকন্যা সমন্বয়ক মারইয়াম মুকাদ্দাস মিষ্টি ৮ মার্চ কয়েকজন পাগল এনে জোয়াহেরের বাসার নিচতলায় আশ্রয় দেয়। এ সময় আত্মগোপনে থাকা এমপি জোয়াহের তার স্ত্রীকে প্রেসক্লাবে পাঠায়। সেখানে জাফর আহমদের সাথে দীর্ঘ বৈঠকে ত্রিশ লাখ টাকার বিনিময়ে বাড়িটি উদ্ধারের দায়িত্ব নেন জাফর। চুক্তি মোতাবেক জাফর আহমেদ তার বাহামভুক্ত কিছু সাংবাদিক নিয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌছায়। অবৈধভাবে বাসা দখল করছে বলে ফেসবুক ও ভুঁইফোড় অনলাইনে প্রচার চলে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পাগলদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। সমন্বয়ক মিষ্টিকে থানায় নিয়ে গেলেও পরে মুচিলকায় ছেড়ে দেয়া হয়। এদিকে রাতেই এমপি জোয়াহেরের স্ত্রী রওশন আরা খানকে থানায় পাঠিয়ে লুটপাট, ভাংচুর ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করানো হয়। আওয়ামী লীগের পক্ষে এই প্রথম মামলা হয় টাঙ্গাইলে। এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও আওয়ামী লীগের পক্ষে মামলা হওয়ার নজির নেই। তারপর রাত ১২টার দিকে শহরের পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়ার হাউজিং এলাকা থেকে মিষ্টিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এখনো রাজপথের অগ্নিকন্যা খ্যাত মিষ্টি কারাভোগ করছেন। এদিকে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ‘ডামি’ নির্বাচন (দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন) আয়োজন ও ভোট চুরির অভিযোগে দেশের মধ্যে সর্বপ্রথম টাঙ্গাইলে একটি মামলা দায়ের করা হয়। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ১৯৩ জনের নামে আদালতে মামলা দায়ের করেন ভুয়াপুর উপজেলার বিএনপি নেতা কামরুল হাসান। মামলায় নির্বাচনকে ম্যানুপুলেট করার অভিযোগ এনে স্থানীয় চারজন সাংবাদিককেও আসামী করা হয়। এতে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ একাধিক নেতা, এমপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-কৃষিমন্ত্রী, পুলিশের আইজি, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার হাবিবুল আওয়াল, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ওসি, বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে আসামী করা হয়। কিন্তু মামলা দায়েরের দুই দিনের মাথায় মামলা প্রত্যাহার করে নেন বাদি কামরুল হাসান। এর আগে আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে বাদীর জবানবন্দিও গ্রহণ করেন। ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশও দেন। একই সঙ্গে ১৩ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তা প্রত্যাহার করার ঘটনা ফলাও করে প্রচার বিভিন্ন প্রিন্টস ও ইলেট্রনিক মিডিয়ায়। সরেজমিনে হাসিনার মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানায়, মামলার বাদি ছিলেন ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার মিথ্যা মামলার আসামী এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর নির্বাচনী এলাকা ভুয়াপুরের বিএনপি নেতা কামরুল হাসান। মামলা দায়েরের পর পরই দীর্ঘদিনের আওয়ামী দোসর প্রেসক্লাব সভাপতি জাফর আহমেদকে চাপ দেয় পলাতক আসামীরা। জাফরকে আসামিরা বলেন, আপনি গত ১৫ বছর আমাদেরকে ব্যবহার করে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। এখন মামলা কিভাবে প্রত্যাহার করাবেন সেটা আপনার বিষয়। এরপর রাতেই ভুয়াপুর উপজেলা বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা আর মামলার বাদিকে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে ডেকে আনেন জাফর আহমেদ। কয়েক ঘন্টা চলা বৈঠকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বাদিকে চাপ দেয়া হয়। কিন্তু বাদি কামরুল তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। এরপর জাফর আহমেদ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সালাম পিন্টুর সাথে যোগাযোগ করেন। তাকে বলা হয়, মামলায় সাংবাদিকদের আসামী করা হয়েছে। ফলে দেশের সকল সাংবাদিক আপনার বিরুদ্ধে চলে যাবে। এরকম নানা ভীতির সৃষ্টি করে অবশেষে বাদিকে মামলা প্রত্যাহারে রাজি করানো হয়। পরের দিন আদালতে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন বাদি। আদালতের বিচারক রুমেলিয়া সিরাজাম মামলার বাদী ও বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু রায়হান খানের বক্তব্য শোনেন এবং মামলাটি নথিজাত করার আদেশ দেন। সাংবাদিক জাফর আহমেদ জেলাবাসীর কাছে আওয়ামী লীগের দোসর ও দালাল হিসেবে পরিচিত। তার কুর্কীতি সম্পর্কেও সকলে অবগত। কিন্তু কিছুই যায় আসে না। ৫ আগষ্টের পর থেকেই জাফরকে রক্ষা করে চলেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। প্রেসক্লাবে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও সাংবাদিক সম্মেলনে পাশে বসিয়েই জাফরের গুণকীর্তন করেন বিএনপি নেতারা। অথচ আওয়ামী লীগের ১৭ বছর প্রেসক্লাবে বিএনপিকে রেজুলেশনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনার পতনের পর সারাদেশে তাদের রেখে যাওয়া দালাল আর দোসররা এভাবেই আওয়ামী লীগের পক্ষে অনেকটা প্রকাশ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। আত্মগোপনে থাকা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি সকল তথ্য পাচার করছেন এসব সাংবাদিক নামধারী দালালচক্র।