দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ও গণআন্দোলনের ফলশ্রুতিতে স্বৈরাচার সরকারের অধঃপতনের কারণে হাসিনা সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। পরবর্তীতে অর্জিত দলগুলোর মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হয় যা জনগণের আশা আকাংখা ভুলণ্ঠিত করে। এ জন্য কোন কিছু অর্জনের চেয়ে তা ধরে রাখা কঠিন।পতিত সরকারের প্রেতাত্মারা ঘুরে বেড়ায় তাদের আস্তানা ধরে রাখতে। তাদের কাজই হলো আন্দোলনকারীদের মধ্যে ফাটল ধরানো, একে অপরের প্রতি বিষোদাগার তৈরিকরা,বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তার ও অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়া। এতে পতিত স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলনের ফল ম্লান হয়ে যায়। এর ব্যতিক্রম হয়নি দীর্ঘ ১৭ বছরের সৈরাচার হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং সর্বোপরি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের ফলাফল। পরিনামে আকাশচুম্বী জনসমর্থিত দলের জনসমর্থন সাগরের অতল গভীরে তলিয়ে যেতে পারে। সম্প্রতি ডাকসুর নির্বাচন পরবর্তী অনেকর অভিব্যক্তি, পর্যালোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সমালোচনার ঝড় তুলেছে। নিঃসন্দেহে ডাকসুর নির্বাচন তাৎপর্য বহন করে, কিন্তু ডাকসু কে দেশের দ্বিতীয় পার্লামেন্ট ভাবার অবকাশ কতটা যুক্তিসংগত সেদিকে না তাকিয়ে, আমাদের শিক্ষনীয়, করনীয়, বর্জনীয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে সুসংগঠিত করাই বিবেচ্য বলে আমার মনে হয়। ডাকসু নির্বাচনে সফলতা, ব্যর্থতার তথ্য সংগ্রহ করে নিজেদেরকে সেই ভাবে গঠনমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। যা আমাদেরকে যেতে পারে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে ইনশাআল্লাহ। এ ক্ষেত্রে এদেশের সর্ববৃহৎ এবং সর্বোচ্চ জনপ্রিয় দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল অগ্রণী ভূমিকা রাখবে এটাই ছিল নির্দলীয় সরকারের মাধ্যমে একটি অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের মনে রাখতে হবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নীতিতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের উদ্বদ্ধু হয়ে মূল দল ও অঙ্গসংগঠন সমুহকে সুসংগঠিত করে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। দেশের ক্রান্তিলগ্নে যে মানুষটির কথা সর্ব প্রথমেই মনে পড়ে তিনি হচ্ছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, যিনি দিশেহারা জাতিকে ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র চট্টগ্রাম থেকে স্বধীনতার ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশ নামক দেশটির স্বাধীনতার সূচনা করেন। এ দেশের মানুষের আশা আকাংখাকে ভুলন্ঠিত করে একদলীয় শাসনের অবসান গঠে ১৯৭৫ সালে তৎকালীন সরকারের। ১৯৭৫ সালে ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এদেশের জনসাধারণ খুঁজে নিরাপদ, স্বনির্ভর ও দুবৃত্তপরায়নমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার রূপকার। ৭৫ পরবর্তী দেশ গড়ার সাথে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল শাসনভার গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে ৩০ মে আস্থা ভোটে ব্যাপক আস্থা অর্জন এবং ১৯৭৮ সালে ৩ জুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর উনি উপলব্ধি করতে পারেন দেশটি তলাবিহীন ঝুড়ির সমতুল্য। তিনি মনে করেন এই দেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও দুবৃত্তপরায়নমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদে ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসে ১৯ টি উপাদেয় নিয়ে গঠন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৮। ১৮ ফেব্রুয়ারী, ১৯৭৯ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে জিয়াউর রহমান ১৫ এপ্রিল, ১৯৭৯ সালে ৪২ সদস্যের বিজ্ঞজন নিয়ে দেশ পরিচালনার প্রত্যয়ে গঠন করেন এক শক্তিশালী সর্বজন গ্রহণীয় মন্ত্রী পরিষদ। সেখানে স্থান পায় বিচারপতি আব্দুস সাত্তার ( উপ রাস্ট্রপতি), মশিউর রহমান, একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মওদুদ আহমেদ, এসএ বারী, মির্জা গোলাম হাফিজ, কাজী আনোয়ারুল হক, মির্জা নূরুল হুদা, নুরুল ইসলাম শিশু, কেএম ওবায়দুর রহমান, ফসিহ উদ্দিন মাহতাব, মুহাম্মদ শামসুল হক, সাইফুর রহমান, আবদুল মোমেন খান, মাজিদ উল হক, এএসএম মোস্তাফিজুর রহমান, ইউসুফ আলী, রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ ভোলা মিয়া, আরএ গনি, চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী, জমির উদ্দিন সরকার, আমিনা রহমান, ফরিদুল হুদা প্রমূখ।
শাসনভার গ্রহণের পর জিয়াউর রহমান সংবিধানে জাতীয়তা-বাংলাদেশী, ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে মহান আল্লাহ পাকের উপর অবিচল আস্থা ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী যুক্ত, সমাজতন্ত্রকে নতুন রূপে সংগায়িত করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায় বিচার অর্থে সমাজতন্ত্র প্রবর্তন করেন। জিয়াউর রহমান দেশকে সুসংহত ও সুরক্ষার্থে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীসহ, পুলিশ বাহিনী, বিডিআর, আনসার, নৌ ও বিমান বাহিনী গঠনে মনোনিবেশ করেন এবং সামরিক ও বেসামরিক মধ্যে একটা সুন্দর সুসম্পর্ক গড়ে তুলেন। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা হিসেবে সবাইকে রাজনীতি করার পথ সুগম করে দেন। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বৈরীভাব কাটিয়ে দ্ধিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, চীন ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করেন। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা আছে যার মূল উদ্দেশ্য হলো একে অপরের সম্পূরক। এই লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে সার্ক গঠনের প্রস্তাব করেন। পরবর্তীতে তার সুফল পেয়েছে সার্কভুক্ত দেশগুলো। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় সার্কের কার্যক্রম বন্ধ থাকাতে এ অঞ্চলের দেশগুলো একে অপরের সম্পূরকের পরিবর্তে একে অপরের শত্রুতে পরিণত হয়েছে। দেশীয় ও বিদেশীয় চক্রান্তে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শাহাদাৎ বরন করেন ১৯৮১ সালে ৩০ মে। পরবর্তীতে স্বৈরাচার এরশাদ অন্যায়ভাবে প্রেসিডেন্ট আব্দুস সাত্তার এর কাছ থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং সৈরাচারের রাজত্ত কায়েম করেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদশে’ বেগম খালেদা জিয়ার ধারাবাহিকতায় ৯০ গণঅভুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার এরশাদের পতন হয়। আবার সূচনা হয় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব ভার গ্রহণের মাধ্যমে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রবর্তন হয়। জুন, ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশীয় ও বিদেশীয় চক্রের আয়োজনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা লাভ করে। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবার বিএনপির আপোষহীন নেত্রী, দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার সুযোগ পায়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার শাসনকালে এদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়। ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত এবং দেশী ও বিদেশী চক্রের আয়োজনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী দুঃশাসনের ভয়ঙ্কর শাসন শুরু হয়। ফলে ১৭ বছর স্বৈরাচার হাসিনা সরকার জনমানুষের চাওয়া পাওয়া উপেক্ষা করে প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে নিজেদের স্বার্থকে চরিতার্থ করার জন্য বিরোধী দলের উপর চালায় জেল-জুলুম, গুম-হত্যা, সম্পদ লুন্ঠন, কেড়ে নেয় মানুষের বাক স্বাধীনতা। এই সুদীর্ঘ ১৭ বছর সৈরাচার হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলনে এবং সর্বোপরি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও তার অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের ব্যাপক অংশ গ্রহণের মাধ্যমে। পরিণামে ৫ আগস্ট, ২০২৪ হাসিনা সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আবারও দেশীয় এবং বিদেশী চক্র সোচ্চার হচ্ছে পতিত স্বৈরাচার হাসিনা সরকারকে পূর্নবাসন করতে। এ চক্র ভেঙে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে শহীদ জিয়ার আদর্শে গড়া, বেগম খালেদা জিয়ার ধারাবাহিকতায় এবং সর্বোপরি তারুণ্যের গর্ব বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সঠিক দিক নির্দেশনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও তার অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরাই পারবে একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও দুবৃত্তপরায়নমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে। বিএনপি সমর্থিত বিপুল জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমানের আশেপাশে থাকবেন সালেহ উদ্দিন আহমেদ, ড. এবিএম মির্জা আজিজ, নতুন দিনের সাইফুর রহমানদের মত অর্থনীতিবিদ, আবুল ফজলদের মত শিক্ষানুরাগী মশিউর রহমান যাদু মিয়াদের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবদুর রহমান বিশ্বাসের মতো আস্থাভাজন যারা ১৯৮০ এর দশকে ভঙ্গুর বাংলাদেশের মেরুদন্ডে নতুন করে গড়েছেন। এ বিষয়গুলো এখন বিএনপির কাছে জনগণের সময়ের দাবী। খালেদা জিয়ার সময় পাশে ছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের ক্লীন ইমেজের তুখোড় রাজনৈতিক সংগঠক, হাসান হাফিজুর রহমানের মত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংকলিত করার কবি সাহিত্যিক। দেশের অর্থনীতি গড়তে, আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে, দেশের মানুষের মন জুগিয়ে চলতে বিজ্ঞ ও দেশ তথা বিএনপি প্রেমিকদের সমন্বয়ে সহসাই গড়তে হবে একটা টাস্ক ফোর্সে যারা পারবে দেশী ও বিদেশী চক্রের হাত থেকে দেশ তথা দলকে সুসংগঠিত করে সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও দুবৃত্তপরায়নমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে। মহান আল্লাহপাক আমাদের সহায় হউন।
অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শাহ আলম তালুকদার
( টাংগাইল-৪ কালিহাতী আসনে বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশী)

