ঢাকাTuesday , 6 May 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মোড়েলগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পিটুনিতে ছাত্রদল কর্মী নিহত : আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ২

Link Copied!

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে আটক করার সময় সাফায়েত তালুকদার (২৫) নামে এক ছাত্রদল কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা ও অপর দুজনকে গুরুতর আহত করার ঘটনা ঘটেছে। নিহত শাফায়েত ১৩ নং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের জিউধরা গ্রামের ফারুক হোসেন তালুকদারের ছেলে। বেলা ১০টার দিকে নিহত শাফায়েত হোসেনের মরদেহ এবং তার চাচা গুরুতর আহত শাহিন তালুকদার (৫৮) ও চাচাতো ভাই একই গ্রামের সোহেল তালুকদারকে থানা পুলিশ হাসাপাতালে পৌঁছে দিয়েছে। নিহত সাফায়েত তালকুদারের মা শাফিয়া বেগম ও স্ত্রী তন্বী বেগম অভিযোগ করে বলেন, রাত তিনটার দিকে পুলিশ বাড়িতে এসে শাফায়াতকে ঘরের বাইরে নিয়ে বেধড়ক পিটায়। তার শরীরে সিগারেটের চ্যাঁকা দেওয়া হয়। বারবার পানি চাইলেও তাকে পানি দেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শাফায়াতকে বিনা অপরাধে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যার বিচার চাই। তবে একটি সূত্র বলছে, সোহেল নামে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে আটকের জন্য পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে ডাকাত ডাকাত বলে পুলিশের ওপর কিছু লোক চড়াও হয়। পরে পুলিশ তাদের জনবল বাড়িয়ে সাফায়েত, শাহিন ও সোহেলকে আটক করে থানার উদ্দেশে রওয়ানা হলে পথিমধ্যে সাফায়েত মারা যায়। এদিকে নিহতের চাচাতো ভাই ইউনিয়ন বিএনপি নেতা লোকমান হোসেন হাওলাদার বলেন, নিহত সাফায়েত হোসেন নিশানবাড়ীয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী। নিহত ওই যুবক মাত্র ১মাস পূর্বে তন্বী নামে এক তরুণীকে বিয়ে করেছিলেন। তিনি পেশায় একজন চিংড়ি ঘের ব্যবসায়ী। নিহত সাফায়েত স্ত্রীসহ পিতা ও মাতার সঙ্গে বসবাস করতেন। আহত ২ জনের মধ্যে একজন বিএনপি সদস্য ও অপর জন পৌর শ্রমিক দলের সদস্য।মোড়েলগঞ্জ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আহাদ নাজমুল হাসান বলেন, পুলিশের গাড়িতে করে ৩ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। এদের মধ্যে শাফায়েত তালুকদারকে মৃতাবস্থায় আনা হয়েছে। আরও ২ জনকে মারাত্মক আহতাবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানার ওসি মো. রাজিব আল রশিদ বলেন, ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশের পৃথক টিম পাঠানো হয়েছে। ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে নিহত যুবকের লাশ এখনও হাসপাতালে রয়েছে। মোড়েলগঞ্জ থানা পুলিশের এএসআই পিন্টু সকাল সাড়ে ৬ ঘটিকায় দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, আমরা যখন অভিযানে আসি তখন তারা পুলিশের কাজে বাধা দেন। এ সময় মোড়েলগঞ্জ সেনা ক্যাম্পের সহযোগিতা চাইলে ক্যাপ্টেন তাবিবের নেতৃত্বে একদল সেনা সদস্য ঘটনাস্থলে আসেন। তখন তারা ঘরের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করেন এবং ব্যাপক মারধর করেন তাদের। এতে করে সাফায়েত মারা যান। অপর দুইজনকেও বেড়ধক মারপিট করা হয়। তাৎক্ষনিক মোড়েলগঞ্জ থানার ওসিকে দৈনিক পাঞ্জেরীর নির্বাহী সম্পাদক তালুকদার রুমী বিষয়টি জানতে ফোন দিলে তিনি জানান, অভিযুক্তদের কাছ থেকে পুলিশের পোষাক উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মাদকও পাওয়া গেছে। এ সময়ে মোবাইলে কান্নার ব্যাপক শব্দ শোনা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানা নাটকীয়তার মধ্যে ছাত্রদল কর্মী নিহত এবং দুইজন বিএনপি কর্মী এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।এ বিষয়ে মোড়েলগঞ্জ সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন তাবিবের সঙ্গে যােগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সাফায়েত স্ট্রোক করতে পারেন। মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হককে দৈনিক পাঞ্জেরীর পক্ষ থেকে অবহিত করা হলে তিনি তাৎক্ষনিক গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দেন।বিষয়টি ঢাকায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। এদিকে নিহত সাফায়েতের পরিবারে বইছে শোকের মাতম। পুত্র শােকে স্বজনরা বর্তমানে পাগল প্রায়। তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন। এছাড়া এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, বিনা অপরাধে একজন যুবককে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অপর দুইজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। নিহত সাফায়েত তালুকদারের স্ত্রী তন্বী তার স্বামী হত্যার বিচার দাবি করেন।