ঢাকাSaturday , 10 August 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাত মাস ধরে বন্ধ পড়ে আছে যমুনা সারকারখানা : চলতি মৌসুমে সার সংকটের আশংকা : প্রতিদিন লোকসান সাড়ে ৩ কোটি টাকা

Link Copied!

গ্যাস সংকটে সাত মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে আছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা। কারখানা বন্ধ থাকায় মরিচা ধরে নস্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রাংশ। চলতি মৌসুমে ইউরিয়া সারের সংকটের আশংঙ্খা করছে কৃষক। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে কারখানার সাথে জড়িত দৈনিক মজুরি ভিত্তিক হিসেবে নিয়োজিত ও পরিবহনের শত শত শ্রমিক পরিবার।
কারখানা সুত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে জামালপুরে সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের তারাকান্দি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় যমুনা সার কারখানা। এ কারখানাটি বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প সংস্থা নিয়ন্ত্রণাধীন এবং কেপিআই-১ মানসম্পন্ন সার উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন করে আসছিল কারখানাটি।
কারখানার নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৪২-৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু গ্যাসের চাপ স্বল্পতা ও বিভিন্ন ত্রুটির কারণে কারখানার উৎপাদন কমে বর্তমানে ১ হাজার ২০০ টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করছে। সম্প্রতি ঘোড়াশাল ও পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানিতে সার উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিআইসি। এজন্য সেখানে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে যমুনা সার কারখানায় গত ১৫ জানুয়ারি থেকে গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। এরপর থেকেই যমুনায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। দ্রুত গ্যাস সংযোগ দিয়ে বৃহৎ এ শিল্প কারখানাটি সচল রাখতে না পারলে পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে বলে জানান কারখানা কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানা থেকে জামালপুর জেলাসহ শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী, ও উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার প্রায় আড়াই হাজার ডিলারের মাধ্যমে যমুনার ইউরিয়া সার সরবরাহ করা হয়। যদি এভাবে দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকে তবে কারখানার কমান্ডিং এরিয়ায় সার সংকট হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।
এ দিকে স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, বাহিরে থেকে আমদানী করা সার গুলোর গুনগত মান ভালো না। যমুনার সারের মান ভালো। যমুনার সার জমিতে ব্যবহারের ফলে ফসল বৃদ্ধি পায়। গাছও সতেজ থাকে। বাইরের দেশ থেকে আমদানিকৃত সার জমিতে ব্যবহার করলে ফসল ভালো হয় না। জমির উর্বরতা কমে যায়।
কারখানার দৈনিক মজুরী ভিত্তিক একাধিক শ্রমিক, ট্রাক পরিবহন শ্রমিক সহ একাধিক শ্রমিক বলেন, কারখানার সঙ্গে জড়িত প্রায় ৪ শতাধিক ট্রাক, লড়ি পরিবহন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কারখানা বন্ধ থাকায় পরিবহনের ড্রাইভার, শ্রমিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। আমাদের জীবনযাপন অনেক নিম্নমানে চলে গেছে। সেই সঙ্গে কারখানা বন্ধ থাকায় কারখানার যন্ত্রাংশও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কারখানা বন্ধ থাকলে এক সময় চিনি ও পাট শিল্পের মতো এ শিল্পও বন্ধ হয়ে যাবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তাই যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সংযোগ দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিবহন শ্রমিক, ব্যবসায়ীদের মানবেতর জীবনযাপন থেকে উদ্ধার করবে বলে দাবি তাদের।
এদিকে যমুনা সার কারখানার শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, একদিন যমুনা সারকারখানা বন্ধ থাকলে সরকারের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। দেশের বাইরে থেকে আমদানি করলে ১ টন সারে খরচ লাগে প্রায় এক লাখ টাকা। আর আমাদের যমুনার সার কারখানা এক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করতে খরচ হয় ২৫ হাজার টাকা। তাই এই কারখানাটি চালু থাকলে দেশের লাভ হবে আর কৃষকরাও বাড়তি খরচের হাত থেকে বাচবে। এছাড়া যদি অতি তাড়াতাড়ি কারখানাটি চালু না করা হয় তাহলে সরকারকে ভর্তুকি দিয়ে বাহিরে থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার যন্ত্রাংশ কিনে এনে চালাতে হবে।
এ বিষয়ে যমুনা সার কারখানার উপ-প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) ও এ্যামোনিয়া এন্ড ইউটিলিটির বিভাগীয় প্রধান মোঃ ফজলুল হক জানান, আমাদের প্লান্ট চালু ছিলো এসময় হটাৎ করে হেডঅফিস থেকে ফোন আসে যে এখনি প্লান্ট বন্ধ করতে হবে। তখন আমরা সাথে সাথেই প্লান্ট বন্ধ করে দেই। এখন পর্যন্ত গ্যাসের কারনে আমরা কারখানাটি পূনরায় চালু করতে পারিনি। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে প্লান্ট চালু করতে কঠিন হয়ে যায়। এছাড়া কবে নাগাদ কারখানা চালু হবে সেটা উর্ধতন কতৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে।