নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের ১৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে কর ফাঁকির উদ্দেশ্যে অর্থ পাচারে সহযোগিতা করার অভিযোগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এইসএসবিসিতে পরিদর্শক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাছাড়া সুইস ব্যাংকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে চিঠিও দেয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাখ্যা চাইলে বৃহস্পতিবার এইসএসবিসির চার সদস্যের একটি টিম বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে। এ সময় তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলে তারা জানায় বাংলাদেশের এইচএসবিসি শাখায় এ বিষয়ে কোন তথ্য নেই।
এইসএসবিসির চিফ এন্টি-মানিলন্ডারিং কমপ্লায়েন্স (ক্যামেলকো) অফিসার ইব্রাহীম সরোয়ার, প্রধান মিডিয়া অফিসার নোমান আনোয়ার সহ চার সদস্যের টিম বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে। এসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ম. মাহফুজুর রহমান ও মানিলন্ডারিং বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাহফুজুর রহমান জানান, তাদের কাছে আমরা ব্যাখ্যা চেয়েছিলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তারা এখানে এসেছিল। তবে এ বিষয়ে তাদের বাংলাদেশ শাখায় কোন তথ্য নেই বলে জানিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এ কারণে আমরা সেখানে পরিদর্শক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাছাড়া সুইস ব্যাংকের কাছেও আমরা শিগগিরই চিঠি দেব তাদের কাছে কোন তথ্য থাকলে তা আমাদের দেয়ার জন্য।’
উল্লেখ্য, ২০৩টি দেশের ২ লাখ ৬ হাজার ব্যাংক হিসাবের তথ্য বিশ্লেষণ করে গত সোমবার দেশভিত্তিক একটি তালিকা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সাংবাদিক কনসোর্টিয়াম (আইসিআইজে)। সেখানে বলা হয়, কর ফাঁকির উদ্দেশ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১১ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার পাচারে সহায়তা করেছে এইচএসবিসি। পাচারের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৮।
ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের ১৬ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে ১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০২ কোটি টাকা পাচার করেছে। এর মধ্যে একটি হিসাবেই পাচার হয় ৪৪ লাখ ডলার বা ৩৪ কোটি টাকা। ১৯৮৫ থেকে ২০০৬ সাল সময়ের মধ্যে এই পাচারের ঘটনা ঘটেছে। মূলত এইচএসবিসির সাবেক কর্মকর্তা হার্ভি ফ্যালসিয়ানি ২০০৮ সালে ফ্রান্স সরকারের কাছে প্রথম তথ্যগুলো ফাঁস করেছিল। তবে এসব তথ্য সঠিক নয় এমন কোনো দাবিও করেনি এইচএসবিসি।

