জাহেদুল ইসলাম, নীলফামারী : ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়া জোরেশোরে শুরু করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নীলফামারী জেলার রেকর্ডরুম শাখার ভূমির রেকর্ড সিএস, এসএ খতিয়ান ই-সেবার মাধ্যমে অনলাইনে শতভাগ প্রাপ্তির আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল ওয়াহাব ভূঞা প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে নীলফামারী জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শতভাগ অনলাইনে সেবা বিশেষ করে ভূমি সংক্রান্ত ই-সেবা তৈরি বিশেষ করে ভূমি রেকর্ডের ভূমি জরিপ ও রেকর্ড প্রণয়ন, সংরক্ষণ (প্রথম পর্যায়ে বিদ্যামান মৌজা, ম্যাপস সিএস, এসএ খতিয়ান অনলাইনে সংরক্ষণ করা হবে এবং প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনলাইনে সরবরাহ করা হবে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন সেবা ই-সেবায় রূপান্তিত হবে। সূত্র মতে, এ জেলার ৬ উপজেলায় ৩৭০টি মৌজার ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫৩টি ডাটা সংরক্ষণ করা হয়েছে অনলাইনে।
উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ দৃশ্যমান। বর্তমান যুগে উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। আজ সবাই ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা ভোগ করতে সক্ষম হচ্ছে। জিজিটাল পদ্বতিতে অনলাইনে শতভাগ ভূমি জরিপ ও রেকর্ড প্রণয়নে নীলফামারী জেলা আজ থেকে মডেল জেলা হিসেবে গড়ে উঠলো।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শেখ হাসিনার জিডিটাল বাংলাদেশের কার্যক্রম অনলাইনে ভূমি খতিয়ান দিয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো। ২০০৮ সাল থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশের সেøাগান জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার যে উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন তা বাস্তবায়নের শেষের দিকে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে যে ভিশন-মিশন রয়েছে তা সম্পূর্ণ হবে। বাংলাদেশ বিশ্বের মাঝে আরও একটি রোল মডেল হয়ে দাঁড়াবে। অনলাইনভিত্তিক কাজে নীলফামারী আজ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো। নীলফামারী জেলায় কর্মরত যে বিসিএস সদস্যরা রয়েছেন তারা তাদের যে বিষয় শিক্ষা অর্জন করেছেন তা কাজে লাগিয়ে নীলফামারীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, রংপুর বিভাগের ৮টি জেলা নিজেদের শিক্ষা, চিকিৎসার, বাসস্থানসহ অন্যান্য বিষয়ে নিজেদেরকে রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলেছে। উত্তরবঙ্গ আজ মঙ্গা থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। উত্তরা ইপিজেডে ৪০ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করছে। তার মধ্যে ৭০ ভাগ নারী। কর্মসংস্থানের দিক দিয়েও নীলফামারী এগিয়ে আছে। নীলফামারী জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে দীপ্তিমান নীলফামারী এগিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দিকনিদের্শনামূলক বক্তব্য রাখেন।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান, নীলফামারী পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, ডিডিএলজি আব্দুল মোতালেব সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খন্দকার নাহিদ হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা মুরাদ হাসান বেগ, ৬ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারি। এ ছাড়া সিএস ও এসএ রেকর্ডের খতিয়ান অনলাইনে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডাটা এন্ট্রি করায় মনোয়ার হোসেন শাহকে শুভেচ্ছা স্মারক ও সনদপত্র প্রদান করেন বিভাগীয় কমিশনার।

