ঢাকাThursday , 1 October 2020
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুলনা আরসি ফুড অফিসের হিসাব রক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, তবুও বহাল তবিয়তে

Link Copied!

মো. মাসুদ রানা, খুলনা : খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অফিসের হিসাব রক্ষক মো. ইদ্রিস আলী বিরুদ্ধে দুর্নীতির অসংখ্য অভিযোগ। প্রায় দুই যুগ ধরে বদলি না হওয়ায় প্রভাব বিস্তার ও তার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে একটি সিন্ডিকেট চক্র। তার বিরুদ্ধে সরকারি একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়। ঐ অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হিসাব রক্ষক মো. ইদ্রিস আলী খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অফিসে দীর্ঘ ২৫ বছর খুলনা অফিসে কর্মরত আছে। দীর্ঘদিন একই অফিসে অবস্থানের জন্য তার প্রভাব দিন দিন বেড়ে চলেছে। অফিসের সকল কর্মচারি তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তার নির্যাতনে অফিসের সকল কর্মচারি অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তার কথা না শুনলে তাকে বদলি করে দেয় এবং বলে মহপরিচালকসহ কর্মকর্তারা নাকি তার পকেটের লোক। ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন একই জায়গায় থাকার ফলে তিনি টাকা দিয়ে অফিস এলাকায় তার ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলেছে। কেউ যদি সাহস করে কিছু বলে তবে তাকে তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে হুমকি ধমকি এমনকি মারধর করিয়ে থাকে। অফিসের প্রত্যেক কর্মচারি তার কাছে কোন না কোন ভাবে লাঞ্ছিত বা অপমানিত হয়েছে। তিনি কোন কর্মচারিকে সম্মানতো দূরের কথা ভাল ব্যবহারও করে না। আমাদেরও বোধগম্য নয় যে, তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে একই অফিসে কিভাবে থাকছে বা তার খুঁটির জোর কোথায়? ইদ্রিসের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে বা অবৈধ কোন কাজে নাক গলালে তাকে বদলি করে দেয়া হয় যা এখন খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসে ওপেন সিক্রেট। বিভিন্ন সংগঠন থেকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলেও তিনি এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
হিসাব রক্ষক ইদ্রিস জামায়াতপন্থি ও তার ছেলে ছাত্র শিবির একজন সক্রিয় নেতা। সে কারণে গত ৪ বছর আগে তাকে এবং তার বাবা ইদ্রিসকে র‌্যাব আটক করে। কিন্তু ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে র‌্যাবের কাছ থেকে ছাড়া পায়। কিন্তু তার ছেলের বিরুদ্ধে নাশকতা মামলা হয় যা আজও খুলনা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে, খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অফিসের এমএলএসএস পদে চাকরিরত মনিরা পারভীন (মুক্তিযোদ্ধার সন্তান) হিসাব রক্ষক ইদ্রিস আলীর কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে সেখান থেকে বদলি করে দেয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ইদ্রিস দীর্ঘ ২৫ বছর খুলনা অফিসে অবস্থান করায় ২-৩ বার প্রমোশন পাওয়ার সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত তিনি বদলি হননি। একই অফিসে দীর্ঘদিন থাকার প্রভাবে সে কোন অফিসারকে মূল্যায়ন করে না। ইদ্রিস অবৈধভাবে টাকা ও রাজশাহীতে অঢেল সম্পত্তি গড়ে তুলেছে। পাশাপাশি অফিস এলাকায় তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলেছে। তার সাথে কারো মনোমালিন্য হলে বা তার কথা না শুনলে ক্যাডার বাহিনী দিয়ে লাঞ্ছিত এবং তাকে বদলি করে দেন। তিনি মহাপরিচালকের নাম ভাঙিয়ে নিয়ম-শৃঙ্খলার কোন তোয়াক্কা না করে ২৫ বছর একই অফিসে অবস্থান করছেন। সে কারণে অফিসের ভাবমূর্তি এবং খাদ্য অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি অক্ষুণœ রাখার স্বার্থে হিসাব রক্ষক ইদ্রিসকে অনত্রে বদলিসহ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তপূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা খুবই জরুরি।
অভিযোগে অনতিবিলম্বে হিসাব রক্ষক ইদ্রিস আলীকে অন্যত্র বদলিসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।