নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : নষ্ট বস্তা গোডাউনে দিয়ে সেটিকে ভাল দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে আসছে একটি চক্র। খাদ্য বিভাগের অনেক অসাধু কর্মকর্তা জড়িত থাকায় চুপিসারে চালানো হচ্ছে এসব কার্যক্রম। গত ১৩ সেপ্টেম্বর নীলফামারীতে ১ লক্ষ পিস ৩০ কেজি ওজনের নষ্ট বস্তা আসলে তা ফেরত প্রদান করা হলে খাদ্য বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়।
আঞ্চলিক খাদ্য বিভাগ রংপুরের স্মারক নং: ১৯২০ তারিখ: ০৮-০৯-২০২০ ইং মোতাবেক নীলফামারী সদর এলএসডিতে ১ লাখ পিস ৩০ কেজি ধারণ ক্ষমতার খালি বস্তা চলাচলের সূচি জারি করেন। যার প্রোগ্রাম নং-২১/ডিআরটিসি। উক্ত চলাচল সূচির আওতায় নীলফামারী সদর এলএসডিতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ৪টি খালি বস্তার ট্রাক প্রবেশ করে। নীলফামারী জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বস্তাগুলো যাচাইকালে চরম ত্রুটিপূর্ণ দেখা যায়। বস্তাগুলো বিভিন্ন এলএসডিতে ব্যবহৃত। বস্তাগুলো ২০১৫/১৬ সালের, ছেঁড়াফাটা ও সেলাই করা। কিছু বস্তায় ৫/৬ বছর আগের মহিলা বিষয়ক দপ্তরের বিভিন্ন খাতে ব্যবহৃত ও বিলি বিতরণের স্টেনসীল ব্যবহার করা হয়েছে। বস্তাগুলো উল্টানো ও ক্যালেন্ডার করা। বস্তাগুলো সরকারি বিনির্দেশ সম্মত না হওয়ায় নীলফামারী সদর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান গত ১৩-০৯-২০২০ ইং তারিখে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে স্ব-হস্তে স্বাক্ষরিত পত্র প্রেরণ করে মহাপরিচালক বরাবর অনুলিপি প্রেরণ করে ১ লাখ পিস ব্যবহার অযোগ্য বস্তা প্রেরণ কেন্দ্র কুড়িগ্রাম সদর এলএসডিতে পাঠিয়ে দেন। জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর এলএসডিতে টেন্ডারের মাধ্যমে ৭ লাখ বস্তা প্রতি পিস ৩৫/৪০ টাকায় ক্রয় করা হয়। কোম্পানিগুলো বিভিন্ন খাতের ব্যবহৃত বস্তা খোলা বাজার থেকে ৮/১০ টাকা দরে ক্রয় করে বস্তা উল্টিয়ে স্টেনসিল ব্যবহার ও ক্যালেন্ডার করে তা পুনরায় নতুন বস্তা দেখিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে।
কুড়িগ্রাম সদর গুদাম কর্মকর্তা, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক রংপুরের যোগসাজসে কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে নতুন বস্তার পরিবর্তে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পুরাতন ছেঁড়া-ফাটা রিপেয়ারিং বস্তা গ্রহণ করা হয়।
গত ২৬/০৮/২০২০ ইং তারিখের কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিজানুর রহমানের আদেশের সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর এলএসডিতে এসএফ-২, এফএস-৫ নং গুদামে ৫০ কেজি ও ৩০ কেজির পুরাতন ছেঁড়া-ফাটা ও খালি বস্তা পাওয়া তিনি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। অনেকে ধারণা করছেন, সেখানো নষ্ট বস্তাগুলো নীলফামারীতে পাঠানো হয়েছিল।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিদেশী পুরাতন চাল ক্রয় করার সময় সৈয়দপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দপুর খাদ্য গুদামে অভিযান পরিচালনা করলে পুরাতন চাল ফেরত পাঠানো হয়। যে ট্রাকে চাল ফেরত পাঠানো হয় সেটির মালিক সৈয়দপুর গুদাম কর্মকর্তা ফজলুল হকের মর্মে জানায় একাধিক কর্মচারি। যার নম্বর ঢাকা মেট্রো-ট ১৬৫৪৪০। সৈয়দপুর খাদ্য গুদামে ৫০ মেট্রিক টন চাল কম থাকার কারণে উক্ত চাল সেখানে ঢুকানো হয়েছিল। ঘটনার দিন গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, সদর খাদ্য নিয়ন্ত্রক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্ত করলেও গুদাম সিলগালা না করে তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিজানুর রহমান বলেন, নীলফামারীতে কোন খারাপ বস্তা দেয়া হয়নি। খাদ্য বিভাগের দুইটি গ্রুপের দ্বন্দ্বের কারণে বস্তাগুলো ফেরত পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, গত ৩ দিন থেকে বস্তার ঠিকাদারের ৩ জন লোক সেখানে অবস্থান করছেন। গত ২৬ আগস্ট বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। নীলফামারী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক বলেন, কুড়িগ্রাম থেকে এক লক্ষ পিস নিম্নমানের বস্তা ঘটনার দিন ফেরত পাঠানো হয়েছিল। সৈয়দপুর খাদ্য গুদামের ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুস সালাম বলেন, কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ীতে বস্তাগুলো পরিদর্শন করেছি সেখানে নিম্নমানের বস্তা ছিল না। নীলফামারী ১ লক্ষ পিস বস্তা ফেরত পাঠানো প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সৈয়দপুরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বস্তার সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন খালি বস্তাগুলো ঢাকা থেকে পাঠানো হয়েছিল সেখানে আমার কিছু করার নাই।

