ঢাকাSaturday , 5 September 2020
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাবনার বেড়ায় আয়নাল হত্যা মামলা মীমাংসায় বাদীর বিরুদ্ধে গুমের মামলা, প্রাণনাশের হুমকি

Link Copied!

পাবনার বেড়ায় মাছখালী গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত আয়নাল শেখ।

শফিউল আযম, বেড়া (পাবনা) : পাবনার বেড়ায় আয়নাল শেখ (২৬) হত্যা মামলার পলাতক আসামিরা মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে বাদী মো. বেল্লাল শেখ অভিযোগ করেছেন। শুধু তাই নয়, হত্যা মামলার আসামিরা মামলার মীমাংসায় বাধ্য করতে বাদী, সাক্ষী ও তাদের আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে পাবনা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গুম এবং লুটপাটের পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেছে। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট বেড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে মামলা দু’টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
বেড়া মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল উপজেলার কৈটোলা ইউনিয়নের মাছখালী গ্রামে যমুনার শাখা কাকেশ্বরী নদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের মৃত তমছের আলীর ছেলে মো. সালাউদ্দিন গংদের সাথে মো. বিল্লাল শেখের বাকবিত-া হয়। এতে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে মাছ ধরায় বাধা দেয়। পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। এর জের ধরে পরে দিন ১৬ এপ্রিল সকাল ৭টার দিকে বিল্লাল শেখের ভাই আয়নাল শেখ কাকেশ্বরী নদীতে মাছ ধরতে যাবার পথে খাইরুল ইসলাম (আতাই) মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন গেলে পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা সালাউদ্দিন ও তার সহযোগীরা আয়নাল শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। এ সময় তার চিৎকারে বেল্লাল শেখ, আফসার শেখ, মো. মোফাজ্জল, রানা দ্রুত ঘটনাস্থলে গেলে সালাউদ্দিন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী তাদেরও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আয়নাল শেখের অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। রাজশাহী নেয়ার পথে নাটোর বাইপাস সড়কের কাছে সে মারা যায়।
এ ঘটনায় মো. বেল্লাল শেখ বাদী হয়ে মো. সালাউদ্দিন, মো. নুরজামাল, মো. আশিক, মো. রেজাউল প্রামানিক, মো. নূরনবী, মো. গোলজার প্রামানিক, মো. আলী প্রামানিক, মো. আবু বকর প্রামানিক, মো. ওসমান প্রামানিক, মো. হাসান প্রামানিক, মোহাম্মদ প্রামানিক, মো. মামুন প্রামানিক, মো. কালু, মো. সিরাজুল ইসলামসহ অজ্ঞাত আরো ১৪/১৫ জনের বিরুদ্ধে বেড়া মডেল থানায় ১৬/০৪/২০২০ ইং তারিখে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৪। ওই দিনই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সালাউদ্দিন, মো. আশিক, মো. নূরুজ্জামান ইসলাম দুখুকে গ্রেপ্তার করে। গত ৬ জুন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ মো. শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে। অন্যান্য আসামিরা পলাতক রয়েছে।
এদিকে পলাতক আসামিরা বাদী ও সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হত্যা মামলার আসামি হাসান প্রামানিক আত্মগোপনে রয়েছে। অন্যদিকে হত্যা মামলা মীমাংসায় চাপ সৃষ্টি করতে আনজেল প্রামানিক তার ছেলে হাসান প্রামানিককে বাদী পক্ষ হত্যা করে লাশ গুম করেছে বলে আদালতে মামলা দায়ের করেছে। এই অভিযোগ মিথ্যা ভিত্তিহীন বলে বাদী অভিযোগ করেছেন।
এদিকে হত্যা মামলার আসামিদের আত্মীয় মো. আলমগীর প্রামানিক বাদী হয়ে গত ১৬/০৪/২০২০ ইং তারিখে জেলা পাবনার সিনিঃ জুডিঃ ম্যাজিস্ট্রেট কগঃ (৩) আদালতে বাদী পক্ষের ২০ জনের বিরুদ্ধে বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও চুরির অভিযোগে নং পি-/১৩/২০২০ইং (বেড়া) মামলা দায়ের করে। এছাড়া হত্যা মামলার ১০ নম্বর আসামি মো. হাসান প্রামানিকের পিতা- আনজেল প্রামানিক ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন থানায় তার ছেলে হাসান নিখোঁজ হয়েছে এই মর্মে একটি জিডি করেন। জিডি নং-১০৭২ তারিখ-৩১/০৫/২০২০ ইং। পরবর্তীতে মো. আনজেল প্রামানিক বাদী হয়ে গত ২১ জুলাই জেলা পাবনার বিজ্ঞ সিনিঃ জুডিঃ ম্যাজিস্ট্রেট কগঃ (৩) ও ভার্চুয়াল-৩ আদালতে তার ছেলে হাসানকে হত্যা করে লাশ গুমের অভিযোগে ১৫ জনকে আসামি করে নং পি-/১৪/২০২০ইং (বেড়া) মামলা দায়ের করে। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক পৃথক দু’টি মামলা বেড়া থানার অফিসার ইনচার্জকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
আয়নাল শেখ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বেড়া মডেল থানার এসআই আব্দুর রহিম জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বেড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, হত্যা মামলাটিকে কাউন্টার এবং বাদীকে চাপে রাখার জন্য আদালতে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে আয়নাল শেখ নিহত হওয়ার পর আসামিদের বাড়িতে কিছু ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।