ঢাকাSaturday , 29 August 2020
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভ্রাম্যমাণ আদালতে কনের দুই মামা ও ভুয়া কাজীর কারাদণ্ড
গভীর রাতে কিশোরীর কান্না শুনে প্রতিবেশীর ফোন, ইউএনও’র হাতে ভুয়া কাজী ধরা

Link Copied!

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : গভীর রাতে মহল্লায় পিনপতন নিস্তব্ধতা। এমন সময় কিশোরীর উচ্চস্বরে কান্না শুনতে পায় প্রতিবেশীরা। কাজীর সামনে কবুল বলতে রাজি না হওয়ায় বাবা ও মামাদের চাপের মুখে বেকায়দায় কিশোরী। এ খবর পেয়ে ইউএনও ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কনেকে উদ্ধার করে ভুয়া কাজী ও কিশোরীর দুই মামাকে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ভুয়া কাজীকে ১ মাস ও দুই মামাকে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর এ ঘটনা ঘটে ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার দশালিয়া জোড়পুকুর পাড় মহল্লায়। শুক্রবার সকালে কারা পরোয়ানা দিয়ে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনকে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নান্দাইল পৌরসভার জোরপুকুর পাড় মহল্লার শফিকুল ইসলামের বাড়িতে অতি গোপনে বিয়ের আয়োজন চলছিল। কিন্তু এর মধ্যে রাত সাড়ে ১১টার পর এক কিশোরীর কান্নার আওয়াজ শুনে প্রতিবেশীরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে কিশোরীর অমতেই তাকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে পয়ত্রিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তির সাথে। পরে জানা যায়, পাশের কেন্দুয়া উপজেলার পুরান বাড়ি গ্রামের মো. আবেদ আলীর স্কুলপড়ুয়া মেয়ে বিউটি আক্তারের বিয়ের আয়োজন চলছিল পৌরসভার ওই মহল্লার মামা শফিকুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলামের বাড়িতে। নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের অরণ্যপাশা গ্রামের পয়ত্রিশোর্ধ্ব শহিদুল ইসলামের সাথে। বরের লোকজন বর ছাড়াও কথিত কাজী আবুল হাসেমকে সাথে নিয়ে আসে। নামকাওয়াস্তে খাওয়া-দাওয়া সেরে বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় বিয়েতে কনের সম্মতি নিতে চাইলে কনে কান্নায় ভেঙে পড়ে বিয়েতে অমত পোষণ করে। এ খবর পৌঁছে ইউএনও এরশাদ উদ্দিনের কাছে। তিনি একদল পুলিশ নিয়ে অতি গোপনে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে ভুয়া কাজীসহ কনের দুই মামাকে আটক করেন। এ সময় বর পালিয়ে যায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এনে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ভুয়া কাজীকে ১ মাস ও কনের দুই মামা শফিকুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলামকে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এ বিষয়ে ইউএনও এরশাদ উদ্দন বলেন, বাল্য বিয়ে নিবন্ধনের প্রমাণ হিসেবে ভুয়া বলিউম বহি জব্দ করা হয়েছে। এ অবস্থায় কাজীকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সেই সাথে কিশোরীর দুই মামাকেও কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।