
ডিসের লাইন, ঘরে এলইডি টিভি, বাইরে রয়েছে অঢেল সম্পত্তি। তাছাড়া কর্মঠ স্বামী থাকার পর পাচ্ছেন বিধবা ভাতা। ছবিটি নান্দাইলের মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামের।
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : নিজেরও দ্বিতীয় বিয়ে, স্বামীরও দ্বিতীয়। এলাকায় তাকে চিনে জামালপুইর্যা মিস্ত্রির বউ রাহিমা খাতুন হিসেবে। মিস্ত্রি এখন আর এই পেশায় নেই। করেন ঘটকালি। ছেলে দুইজন ঢাকায় থাকে। সহায় সম্পদ অনেক। ঘরের চালের ওপরে আছে বিশাল আকৃতির ডিসের খাঁচা। এলইডি টিভিতে শতাধিক চ্যানেল নিজেও দেখেন প্রতিবেশীদেরও দেখান। আর সেই রাহিমা খাতুন পাচ্ছেন বিধবা ভাতা। স্বামী থাকলেও বিধবা কেন জানতে চাইলে রাহিমা বলেন, ‘কি যে কইন, স্বামী তো ভাদাইম্যা। থাইক্যাও নাই। দেশ বিদেশে (দেশের মধ্যেই) এর লাইগ্যাই তো বিধবা ভাতা পাই।’
কথিত বিধবা এই রাহিমা হচ্ছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুরন ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ ওরফে দুলাল মিয়ার স্ত্রী। বিধবা না হয়েও সমাজকল্যাণ অফিসের বিধবা তালিকায় তার নাম রয়েছে। সেই দুই বছর ধরে টানা ভাতা উত্তোলন করে আসছেন নির্বিঘ্নে। স্থানীয় ইউপি সদস্যরা (সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যসহ) এ কর্মের সাথে জড়িত। তবে এ ঘটনায় একে অপরকে দায়ী করলেও কেউ দায়িত্ব নিতে চাননি। তবে রাহিমা বলেন, অফিসের লোকদের দিয়ে করিয়েছেন। স্থানীয় মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। এসব বই করতে তার কোনো স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়নি। অফিসের একটি চক্র টাকার বিনিময়ে এ ধরনের কাজ করেছে।
নান্দাইল উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. ইনসান আলী জানান, এ ধরনের অনেক বিষয়ই তার কাছে এসেছে। সকল বিষয়ই তদন্ত করে দেখা হবে।

