চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : বৃষ্টি আর সমুদ্রের জোয়ারে বিপর্যস্ত চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ। চট্টগ্রামের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আর দাপ্তরিক বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদ তলিয়ে যাচ্ছে কোমর সমান পানিতে। এর ফলে দুর্ভোগে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।
ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা বলেছেন, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদী দখল, নদী ও নালাসমূহ ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নেতা সোলাইমান বাদশা বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে খাতুনগঞ্জ। এতে ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
জোয়ারের সময় খাতুনগঞ্জের ছোটবড় শত শত আড়ৎ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হাটু সমান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এখানকার ব্যবসায়ীরা ভোগ্যপণ্য আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা করলেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জলাবদ্ধতায় আমাদের কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হয়।’
খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহাম্মদ বলেন, ‘খাতুনগঞ্জকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে হলে কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিটেল ড্রেজিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। নদী দখলদারদের উচ্ছেদ করে নদীর স্বাভাবিক গতি ও পানির ধারণক্ষমতা ফিরিয়ে না দিলে চট্টগ্রাম নগরের বড় এই ব্যবসায়ীক কেন্দ্রটি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে না।’
এদিকে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, সিডিএ আবাসিক এলাকা, মা ও শিশু হাসপাতালসহ হালিশহরের বিভিন্ন এলাকায় জোয়ারের পানি উঠেছে। দুর্ভোগের শেষ নেই স্থানীয়দের।
আগ্রাবাদ এলাকায় বসবাসকারী ব্যবসায়ী কাদের মুনতাসির বলেন, ‘এখন বৃষ্টি আর জোয়ারের সময়ের সঙ্গে শিডিউল মিলিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সকাল-বিকেল নিয়ম করেই আগ্রাবাদ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন থাকলেও এখনও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির কোনও সম্ভাবনা চোখে পড়ছে না।’
আগ্রাবাদ আয়কর বিভাগে কর্মরত একাধিক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের এখন অফিস করাই দূরহ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন পানি মাড়িয়ে অফিসে যেতে হয়, অফিস থেকে ফিরতে হয়। অফিসের নিচতলা প্রায় সময় পানির নিচে তলিয়ে থাকছে। এই অবস্থা থেকে আমরা কবে মুক্তি পাবো তা জানা নেই।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন জানান, নগরীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করতে নদী, খাল, নালা দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হয়েছে। এ অভিযান চলমান থাকবে।

