সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা : সিরাজঞ্জের বাহুকায় নির্মাণাধীন তীর সংরক্ষণ বাঁধে আকস্মিক ধসের কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ। যমুনা নদীর বাহুকা পয়েন্টে পানির প্রবল স্রোত থাকায় বাঁধে ধস নেমেছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে।
এই ধসের কারণে গত এক সপ্তাহে বাঁধের ৮০ মিটার এলাকা যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ধস ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালির বস্তা ও সিসি ব্লক ফেলছে। নতুন করে ধসের আশঙ্কায় লাল পতাকা টাঙ্গিয়ে সকলকে সতর্ক করা হয়েছে।
বাঁধের আরো কিছু অংশ যে কোন সময় যমুনা নদী গর্ভে বিলীন হতে পারে। এর ফলে জনমনে তীব্র উদ্ব্যেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত অর্থ বছর থেকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ২৪শ’ এবং কাজিপুর উপজেলা অংশে ১৬শ’ মিটারসহ মোট ৪ হাজার মিটার এলাকা জুড়ে যমুনা নদীর ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে তীর রক্ষার কাজে ১০টি প্যাকেজে ২০৭ কোটি এবং ড্রেজিং কাজের জন্য বাকি টাকা ব্যয় হবে।
কিন্তু কাজ শেষ না হতেই গত ৭ দিনে বাঁধে একাধিকবার ধ্বস নামে। ইতিমধ্যে ৮০ মিটার নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ওই সাইডে বর্তমানে কাজ বন্ধ রেখেছে পাউবো।
বাহুকা গ্রামের জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘কাজের মান নিশ্চয় খারাপ ছিলো। এখন শুস্ক মৌসুম। এখনই যদি বাঁধ ভেঙ্গে যায় তাহলে বর্ষা মৌসুমে কি অবস্থা হবে। বর্ষা মৌসুমে নদীতে যে স্রোত হয় তাতে বাঁধ টিকবে না। বাড়িঘর ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তখন আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো।’
একই গ্রামের নুর হোসেন বলেন, ‘কাজের গাফিলতি ছিলো, যে কারণে বাঁধ ভেঙ্গেছে। বর্ষা মৌসুমে বাঁধ থাকবে কি না তা বলতে পারছি না। এখনও সময় আছে বাঁধের সংস্কার কাজ করে নদী পাড়ের মানুষকে রক্ষা করার।’
বাঁধের কাজ শেষ না হতেই কেন ধস নামলো তা নিয়ে নদীর তীররক্ষা কাজের ৯ এবং ১০ নং সাইডের কাজে তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারি প্রকৌশলী জাকির হোসেন কোন মন্তব্য করেননি। বরং সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি অন্যত্র চলে যান।
বুধবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলাম নির্মাণাধীন বাঁধ ধসের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘বাঁধ এলাকায় নদীর গভীরতা ও স্রোত- দুটোই প্রবল হওয়ায় ধস নেমেছে। তীর সংরক্ষণ কাজের যেকোন অংশে যেকোন সময় ধস নামতে পারে। তবে এখন শুষ্ক মৌসুম তাই আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ’

