ঢাকাMonday , 4 March 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বেড়েই চলেছে শয্যা, বাড়ছে না সুবিধা

Link Copied!

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর পার হয়েছে ৯ বছর। কিন্তু সেই ৩১ শয্যার সুবিধাটুকুও আজো মিলেনি মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
সাইন বোর্ডে লেখা ৫০ শয্যা গোপালগঞ্জ মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ শয্যার তো নেই-ই উপরন্তু ৩১ শয্যার জনবলও নেই এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। উচ্চপদ থেকে নিম্নপদ পর্যন্ত সর্বস্তরেরই জনবল সংকট। এর মধ্যেই শুরু হয়েছে একশ’ শয্যায় উন্নীত করার কাজ।
এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। হাসপাতালের ডাক্তার থেকে সুইপার প্রতিটি স্তরই গুরুত্বপুর্ণ। কিন্তু ডাক্তার থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাজনৈতিক তদবিরে বদলি করে আনা হলেও কয়েকদিন থাকার পর অনেকেই প্রশিক্ষণ, উচ্চ শিক্ষার জন্য চলে যান, আর আসেন না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ২৭ জুন মুকসুদপুর উপজেলার ৩১ শয্যার থেকে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য লে: কর্নেল (অব:) ফারুক খান। কিন্তু উদ্বোধনের পর গত ৯ বছরে আসবাবপত্র এবং ভাউচারে রোগীদের খাদ্যের বিল প্রাপ্তি ছাড়া আর কোন কার্যক্রমই নেই বলা যায়।
এ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্ট ৪ জন থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ২ জন। জুনিয়র কনসালটেন্ট ৪ জনের বিপরীতে আছে মাত্র ২ জন। ১৬ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভায় মোট ১৭ জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলে রয়েছে ৪ জন। প্যাথলজিক্যাল পদে ২ জনের জনবল থাকার কথা থাকলেও অবসরজনিত কারণে এখন ২টি পদই শূন্য। ফলে রোগীদের প্রায় বিনা খরচে রক্ত, পায়খানা, প্রস্রাব পরীক্ষা করার প্যাথলজিক্যাল ল্যাবটিও বন্ধ রয়েছে। অফিস সহকারী ২ জন থাকার কথা থাকলেও একজনও নেই। ওয়ার্ড বয় ৪ জনের ৪ জনই শুন্য। এলএমএসএস ৬ জন থাকার কথা থাকলেও রয়েছে ৪ জন, বাবুর্চি ২জন থাকার কথা থাকলেও রয়েছে ১ জন। সুইপার ৬ জন থাকলেও আছে ৩ জন। নাইটগার্ড ২ জন থাকলেও ২ জনই রয়েছেন ডেপুটেশনে। ইসিজি ও আলট্রাসোগ্রাম কেন্দ্র থাকলেও টেকনিশিয়ান নেই।
নার্স থাকার কথা ১৪ জন। তবে ১৪ জন থাকলেও দু’জনের বেতন ভাতা এখান থেকে হলেও একজন দায়িত্ব পালন করেন মাদারীপুরের শিবচর উপজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আর অপরজন গোপালগঞ্জে। ফলে এক বিভাগের কর্মী দিয়ে অন্য বিভাগ চালাতে গিয়ে রীতিমত হিমসিম খাচ্ছে উপজেলা হাসপাতাল প্রশাসন।
তৃণমূলে প্রতি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডে রয়েছে জনবল সংকট। স্বাস্থ্য সহকারী থাকার কথা ৭০ জন। রয়েছে মাত্র ৫৩ জন। তাদের দেখভাল করার জন্য ১৪ জন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ৩ জন।
তবে চমকানো তথ্য হচ্ছে, প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে আরও একটি ৫০ শয্যার নতুন ভবন। মাত্র ২ বছরের মধ্যে মুকসুদপুর হাসপাতাল হচ্ছে ১শ’ শয্যার।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একজন রোগী জানান, এ হাসপাতালে অনেক রোগী চিকিৎসা সেবা না নিতে না পেরে ফিরে যান। আর যারাও নিতে পারছেন তারা পুরোপুরি স্বাস্থ্য সেবা পান না। চিকিৎসা সেবা নিতে এসে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়তে হচ্ছে। ফলে অনেকেই এখন আর এ হাসপাতাল থেকে সেবা নিতে চান না। জনবল সংকটে হাসপাতালটিই এখন রোগীতে পরিনত হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মাহমুদুর রহমান জানান, ৩১ শয্যার হাসপাতালে ৫০ শয্যার রোগীর পথ্য এবং ওষুধ সরবরাহ করা হলেও স্বল্প সংখ্যক জনবলে এটা বাস্তবায়ন খুবই কষ্টদায়ক। শীর্ষ পর্যায় থেকে সুইপার, নাইটগার্ড- অনেকেই স্বাস্থ্য কর্মকতার আদেশ-নিষেধ ঠিকমত মানেন না। তারা কোন কোন সপ্তাহে ২ দিন আসেন কোন কোন সপ্তাহে আসেনই না। এজন্য অনেক রোগী তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও আশার কথা হচ্ছে- স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নির্মিত হচ্ছে এক’শ শয্যার আধুনিক এবং ৬ তলা ভবন। প্রাথমিক পর্যায়ে এর নির্মাণ ব্যয় ৩০ কোটি টাকা। এছাড়া ৫০ শয্যার জন্য নির্মিত বর্তমান ভবনের সম্প্রসারণ হচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবার জন্য বাড়ছে আরও জনবল, তদারকিতে যানবাহন পাওয়া গেছে। ৩১ শয্যার জনবলের পূর্ণতা পাওয়া যাবে হয়তো শিঘ্রই।’