নিজস্ব প্রতিবেদক : নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামীর ২৫ নেতা নির্বাচন করতে পারবে বলে ইসির দেওয়া সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
তবে আদালত নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্ত স্থগিত না করায় কিংবা জামায়াত নেতাদের ভোটের অযোগ্য ঘোষণা না করায় নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো আইনি বাধা থাকছে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চার ব্যক্তির করা একটি আবেদন গত ২৪ ডিসেম্বর নামঞ্জুর করে নির্বাচন কমিশন।
ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদনকারীদের রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো.খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার রুল জারি করেন।
বিএনপির মনোনয়নে ও স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হওয়া ওই ২৫ জনের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে করা আবেদন নামঞ্জুর করে নির্বাচন কমিশনের পাঠানো চিঠি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশন সচিব, জামায়াতের ২৫ প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তানিয়া আমীর। জামায়াত নেতাদের পক্ষে শুনানি করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহের হোসেন সাজু। আর নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. ইয়াসিন খান।
হাইকোর্টের আদেশের পর নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, ‘রুল বিবেচনাধীন থাকাকালে ২৫ জনকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণার আবেদন করা হয়েছিল রিটে। আদালত সে নির্দেশনা দেননি। ফলে ২৫ প্রার্থীর নির্বাচন করতে বাধা নেই।’ জামায়াতের যে ২৫ নেতা এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তাদের মধ্যে ২২ জন ধানের শীষে ও বাকিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন।
প্রার্থীরা হলেন- দিনাজপুর-১ মোহাম্মদ হানিফ, দিনাজপুর-৬ মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-২ মনিরুজ্জামান মন্টু, নীলফামারী-৩ মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ মাজেদুর রহমান সরকার, সিরাজগঞ্জ-৪ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, পাবনা-৫ মাওলানা ইকবাল হুসাইন, ঝিনাইদহ-৩ অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, যশোর-২ আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন, বাগেরহাট-৩ অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ অধ্যাপক আবদুল আলীম, খুলনা-৫ অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-৬ মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, সাতক্ষীরা-২ মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ মুফতি রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ গাজী নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১ শামীম সাঈদী, ঢাকা-১৫ ডা. শফিকুর রহমান, সিলেট-৬ মাওলানা হাবিবুর রহমান, কুমিল্লা-১১ ডা. আবদুল্লাহ মো. তাহের, চট্টগ্রাম ১৫- আ ন ম শামসুল ইসলাম এবং কক্সবাজার-২ হামিদুর রহমান আযাদ।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র তিন প্রার্থী হলেন- পাবনা-১ ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, চট্টগ্রাম-১৬ জহিরুল ইসলাম এবং চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ নুরুল ইসলাম বুলবুল।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে তরিকত ফেডারেশনের দায়ের করা এক রিট মামলার রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন (২০১৩ সালের ১ আগস্ট) অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। এর বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী আপিল করলেও তারা এর শুনানি করেননি।

