কুমিল্লা প্রতিনিধি : প্রাচীন ঐতিহ্য ও প্রত্মতাত্ত্বিক পর্যটন স্পট সমৃদ্ধ কুমিল্লা জেলায় ভ্রমণ পিপাসুদের জন্যে নতুন করে ভিন্নমাত্রার আরেকটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠার অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে গোমতী নদীর অববাহিকায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের কারণে পর্যটকদের কাছে দিন দিন আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়ে উঠছে নদীর দুই তীর।
ভারতে উৎপত্তি হওয়া এই গোমতী নদী কুমিল্লা জেলার সদর উপজেলা, বুড়িচং, দেবীদ্বার, মুরাদনগর, তিতাস ও দাউদকান্দি এই ছয় উপজেলার ওপর দিয়ে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। কুমিল্লা অংশে দীর্ঘ ৯৫ কিলোমিটার এ নদীর দুই ধারে বিশাল চর ও পাড়ের প্রকৃতি, চরে সবজির ক্ষেতজুড়ে সবুজের সমারোহ পর্যটকদের কাছে সৌন্দর্য্যের হাতছানি দেয়। নদীর উভয় তীর এখন পিচঢালা রাস্তা। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এসে দেখতে পারেন গোমতী নদীর অপূর্ব সুন্দর।
সম্প্রতি নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে তোলা হচ্ছে ছোট ছোট কটেজ। এসব কটেজে আছে কফি, চাসহ হালকা জলখাবারের ব্যবস্থা। শেষ বিকেলে বাঁশের বেঞ্চিতে বসে চা পান করতে করতে উপভোগ করা যায় নদীর সুর্য ডুবার নান্দনিক চিত্র।
খরস্রোতা এ নদীর পানির প্রবাহমাত্র ১০০ থেকে ২০,০০০ কিউসেক পর্যন্ত উঠানামা করে। ফলে, নদীর স্রোতের ঘূর্ণিপাকের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে বিকেল হলেই সববয়সী মানুষের ভিড় বাড়ে। নদীর ধারে জেগে থাকা পাথরগুলো যেন সমুদ্র সৈকতের অনন্য অনুভবের অনুরণন এনে দেয়।
কুমিল্লা শহরের টিক্কারচর এলাকায় নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজটিকে ঘিরে প্রতিদিন বিকেলে দর্শনার্থীদের ভিড় জমে। আর ছুটির দিনগুলোতে দূর-দূরান্ত থেকেও আসে দর্শনার্থীরা। দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে গোমতীর দুই পাড়। টিক্কাচর ছাড়াও ছুটির দিনগুলোতে গোমতী নদীর পালপাড়া, বানাশুয়া, রত্নাবতী, চাঁনপুর এলাকা দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে।
পর্যটন শিল্প হিসেবে গড়ে উঠার অপার সম্ভাবনার গোমতী নদীতীরে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা গড়ে জরুরি বলে মনে করছেন সবাই। সেই সাথে শিশুদের জন্য রাইড, বিশ্রামাগার, শৌচাগারসহ নদীর পাড়ে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করার পরামর্শ দর্শনার্থীদের।
গোমতীর পাড়কে দর্শনীয় করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার রয়েছে বলে জানান কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর। বেসরকারিভাবেও কেউ পর্যটন কেন্দ্র করতে এগিয়ে এলে জেলা প্রশাসন সহযোগিতা করবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

