ঢাকাSaturday , 25 August 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাগরকন্যা কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল

Link Copied!

কুয়াকাটা প্রতিনিধি : ঈদুল আজহার ছুটিতে অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে হাজারো পর্যটকের ঢল নেমেছে। সৈকতসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সমুদ্র সৈকতের যেদিকে চোখ যায় শুধু পর্যটক আর পর্যটক।
আবাসিক হোটেলগুলোতে দেখা দিয়েছে রুমের সংকট। ঝিনুকের দোকান, খাবার হোটেল, রাখাইন মার্কেট ও শুঁটকি পল্লীতে বেচাকেনার ধুম পড়ে গেছে। তবে পর্যটক সমাগমকে পুঁজি করে তৃতীয় শ্রেণির আবাসিক হোটেলগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
পর্যটকদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশসহ সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন নিয়োজিত রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিন বিকেল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারযোগে সুর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত অবলোকন করতে দলবেঁধে নারী শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা আসতে শুরু করেন। রুম সংকটের কারণে কুয়াকাটায় এসেই পর্যটকদের নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। পথে পথে গাড়িতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন পর্যটকরা।
তবে নানা বিড়ম্বনা সত্ত্বেও সমুদ্র সৈকতে গিয়ে তাদের মন জুড়িয়ে যাচ্ছে। সমুদ্রের ঢেউয়ের তরঙ্গ আর হিমেল বাতাস যেন শত বিড়ম্বনাকে ধুয়ে মুছে সতেজ করে দিয়েছে পর্যটকদের মন। হই হুল্লোড় আর সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে নেচে-গেয়ে দিন রাত-আনন্দ ফূর্তিতে মেতে ওঠে ভ্রমণ পিপাসুরা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের জিরো পয়েন্ট, আন্ধার মানিক মোহনা সংলগ্ন লেম্বুর বন, ঝাউ বাগান, গঙ্গামতির লেক, কাউয়ার চরের লাল কাঁকড়ার বিচরণ স্থল, মৎস্যবন্দর আলীপুর-মহিপুরে জেলেদের জীবন চিত্র অবলোকন, মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দির, কুয়াকাটার কুয়া, সীমা বৌদ্ধ বিহার, রাখাইন মহিলা মার্কেট দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত।
ঢাকা থেকে সপরিবারে আসা পর্যটক রেদোয়ান ইসলাম জানান, কুরবানির দ্বিতীয় দিন তারা কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে লঞ্চযোগে পটুয়াখালী হয়ে কুয়াকাটায় এসে পৌঁছেছেন। লঞ্চের ভ্রমণ তাদেরকে খুব আনন্দ দিয়েছে। খুব উপভোগ করেছে তারা। তবে পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটায় আসতে বাসের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং পথে পথে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে একটু বিরক্ত হলেও সমুদ্র সৈকতের হিমেল বাতাস, সমুদ্রের ঢেউ, দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী সব ক্লান্তিকে ভুলিয়ে আনন্দে আত্মহারা করে দিয়েছে।
আবাসিক হোটেল সৈকতের ব্যবস্থাপক মো. সোহেল জানান, তাদের হোটেলে ৫৬টি রুম রয়েছে। ২৬ আগস্ট পর্যন্ত বেশির ভাগ রুমই অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। রুমের জন্য অসংখ্য পর্যটক আসলেও রুম দিতে পারছেন না তারা।
পর্যটন করপোরেশনের মোটেল ইয়ুথ ইন’র ব্যবস্থাপক সুভাষ চন্দ্র নন্দী বলেন, তাদের মোটেলে ৭৫টি কক্ষ রয়েছে, সবগুলোই বুকিং হয়ে গেছে। বাইরের চেয়ে আমাদের রেঁস্তোরায় খাবারের মূল্য কম থাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। আগামীদিনেও এমন পর্যটক থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করছেন।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ মোতালেব শরীফ জানান, ২৪ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত দুইদিন বেশির ভাগ আবাসিক হোটেল অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। অনেক পর্যটকই রুম সংকটে পড়বে। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত পর্যটকদের আগমন ঘটায় এমন সংকট দেখা দিয়েছে।
প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলোতে নির্ধারিত ভাড়া নিলেও তৃতীয় শ্রেণির আবাসিক হোটেলগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও পৌর মেয়রের সমন্বয়ে মনিটরিং সেল গঠনের মাধ্যমে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের ওসি মো. খলিলুর রহমান বলেন, বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমনকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় কাজ করছেন তারা। দর্শনীয় স্পটগুলোতে নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। সৈকতে বিচ বাইক নিয়ে টহল দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া সমুদ্রে গোসল করতে নামা পর্যটকদের নিরাপত্তায় ওয়াটার বাইক নিয়ে সমুদ্রে টহল রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি টিম। তবে এখন পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।