ঢাকাFriday , 17 August 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিরিজ বোমা হামলার মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা

Link Copied!

খুলনা প্রতিনিধি : জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ- জেএমবি কর্তৃক ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা বিস্ফোরণের মধ্যে খুলনার ১০টি স্পটে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন থানায় ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়। ইতোমধ্যেই একটি মামলার বিচার শেষ হয়েছে। অন্য পাঁচটি মামলার বিচার কাজ এখনো শেষ হয়নি। এসব মামলার সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য দিতে না আসায় মামলার কাজ বিলম্বিত হয়েছে।
খুলনায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটনার স্থানগুলোর মধ্যে ছিল- খুলনা মুখ্য মহানগর হাকিমের এজলাসের সামনে, এজি পেনশন অফিসের পেছনে, ডাকবাংলো জামে মসজিদের পাশে, রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে, দৌলতপুরের বিএল কলেজের পূর্ব পাশে ও সরকারি শিশুসদন এলাকায়, সোনাডাঙ্গা কেডিএ নিউ মার্কেটের সিঁড়িঘরে ও লতিফ ফিলিং স্টেশনের পাশে, বটিয়াঘাটা উপজেলার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাশে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রাবাসের পাশে। এ ১০টি স্থানে একযোগে পরিকল্পিতভাবে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ ঘটনায় দুটি শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বোমার স্প্লিন্টার ও জেএমবির লিফলেট উদ্ধার করে। এসব ঘটনায় খুলনায় ছয়টি মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে সদর থানায় দুটি, দৌলতপুর থানায় দুটি, খানজাহান আলী থানায় একটি ও বটিয়াঘাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
খুলনা সদর থানায় করা মামলায় পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে ২০০৫ সালের ৮ নভেম্বর। আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয় ২০০৮ সালের ১২ জুন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ওই বছরের ২২ জুলাই। এ মামলায় সাক্ষী রয়েছে ৪৭ জন। দৌলতপুর থানায় দায়েরকৃত মামলায় চার্জ গঠন হয় ২০০৮ সালের ২০ মে। সাক্ষী রয়েছে ২৯ জন। সোনাডাঙ্গা থানায় করা মামলায় চার্জ গঠন হয় ২০০৮ সালের ২৯ জুন। এ মামলায় ৩৯ জন সাক্ষী রয়েছে।
বটিয়াঘাটা থানায় দায়েরকৃত মামলায় ২০১০ সালের ৩১ মে খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সেকেন্দার আলী রায় দেন। মামলার রায়ে জেএমবি প্রধান শায়খ আব্দুর রহমান ও সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাইকে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
খুলনা সদর থানায় দায়েরকৃত মামলার আসামিরা হলেন- শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই, শহীদুল্লাহ ওরফে লোকমান, মাহবুবুর রহমান ওরফে লিটন ওরফে পলাশ, আসাদুল ইসলাম ওরফে আসাদুল ওরফে আরিফ ওরফে আসাদ, মেহেদী হাসান ওরফে তানভীর, খালিদ হাসান ওরফে মন্টু, হাফেজ মাহমুদ ওরফে হাসান ওরফে সুমন, সাইফুল ইসলাম। এদের মধ্যে শায়খ আব্দুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাইকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।
যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. জাকির হোসেন জানান, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় তিনটি মামলা যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আগামী ২৭ আগস্ট এ মামলায় স্বাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।
কারাগারে থাকা ছয় আসামি হচ্ছে-মেহেদী হাসান ওরফে তানভীর, হাফেজ মাহমুদ হাসান, শহিদুল্লাহ ওরফে লোকমান, মাহবুবুর রহমান লিটন, খালিদ হাসান মিন্টু ওরফে রুহুল কুদ্দুস, শায়খুল ইসলাম ওরফে সাইফুল ওরফে রাকিব ওরফে মিরাজ এবং জামিনে রয়েছে আশরাফুজ্জামান বাবু।
যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের এপিপি অ্যাড. আল-আমিন উকিল বলেন, ‘দীর্ঘসূত্রিতার কারণে খুলনার সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হয়েছে। তবে, সাম্প্রতিককালে তিনটি মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ৪৫ থেকে ৪৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি সাক্ষীও দ্রুত সম্পন্ন হবে। বিচার বিভাগ, এসি প্রসিকিউশন ও এপিপির সমন্বয়ে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে যাচ্ছে।’ আগামী ১৭ আগস্টের আগেই রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জেএমবির জঙ্গিরা খুলনাসহ ৬২ জেলায় একযোগে একই সময়ে কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক জায়গায় বোমা ফাটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে। এ সময় আইনজীবী, বিচারক, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হতাহত হয়।