ঢাকাWednesday , 1 August 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাট নিয়ে বিপাকে যশোরের চাষিরা

Link Copied!

যশোর প্রতিনিধি : বৃষ্টির অভাবে বিপাকে পড়েছেন যশোরের পাটচাষিরা। খাল-বিল ডোবা-নালায় পর্যাপ্ত পানি না থাকায় চাষিরা তাদের উৎপাদিত পাট পচাতে পারছেন না। ফলে পাট নিয়ে এ অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে যশোরের ৮ উপজেলায় ৩ হাজার ১৩৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়। এক বছরের ব্যবধানে পাটের আবাদ অর্ধেকে নেমে এ বছর মাত্র ১৪শ’ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। পাটচাষিরা পাটের মূল্য কমসহ নানাবিধ সমস্যার কারণে পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। অধিকাংশ কৃষকই এখন পাটের বিপরীত অন্য ফসল চাষ করছেন। তবে যৎসামান্য জমিতে যে পাটচাষ হয়েছে তা নিয়েও চাষিরা রীতিমত হতাশ। বিশেষ করে পর্যাপ্ত পানির অভাবে তারা পাট জাগ দিতে পারছেন না।
যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের বীল হরিনার বিস্তীর্ণ মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা পাট কেটে জমিতে ফেলে রেখেছেন। কোন কোন কৃষক তার ক্ষেতের উৎপাদিত পাট নসিমনে করে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে নিয়ে খাল বা ডোবায় জাগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বেশির ভাগ চাষিই উৎকন্ঠায়- খেতের পাট কোথায় জাগ দেবেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত বছর আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে বৃষ্টির কারণে বীল হরিনার বিল পানির নিচে ছিল। যে কারণে তারা খেতেই তাদের পাট জাগ দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু এবছর আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণের মাঝামাঝি সময় এলেও যশোরাঞ্চলে প্রত্যাশিত বৃষ্টি না হওয়ায় খাল-বিলে পানি না থাকায় তারা পাট জাগ দিতে পারছেন না।
এলাকার চাষি কালিপদ দাস জানান, গত বছর তিনি ৩ বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছিলেন। পাটের দাম ভালো না পেয়ে বিঘা প্রতি তিন থেকে চার হাজার লোকসান দিয়েছিলেন। যে কারণে এবছর মাত্র ২ বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছেন। কিন্তু পানির অভাবে শুরুতেই পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বলে জানান।
তিনি বলেন, ‘এবছর বৃষ্টির অভাবে খাল-বিলে পানি জমেনি। যে কারণে পাট পচাতে আমরা কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছিনা। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমরা নিশ্চিত পাট নিয়ে এবার পথে বসবো।’
একই কথা জানান, পাটচাষি আমির হোসেন। তিনি বলেন, ‘এবছর পাট আবাদে আমাদের বেশি খরচ হয়েছে। পোকা-মাকড়ের আক্রমন থেকে রক্ষা পেতে প্রচুর কীটনাশক খরচ করতে হয়েছে। এতো খরচ আর পরিশ্রমের পর যদি ভালো দাম না পাই তাহলে আর পাটচাষ করবো কীনা, তা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।’
চাষিরা জানান, পাটের ভালো দাম পেতে হলে রং ভালো হতে হবে। আর ভালো রং পেতে হলে খাল-বিল, নদী-নালায় পাট পচাতে হবে। তবে এবছর বৃষ্টির অভাবে খাল-বিলে পানি নেই। যে কারণে ডোবা-নালায় সামান্য পানিতে পাট জাগ দিতে হচ্ছে। ফলে মানসম্মত পাট উৎপাদন নিয়েও চাষিরা শঙ্কিত রয়েছেন।
আব্দুর রহমান নামে একজন পাটচাষি বলেন, ‘পাট চাষ অন্যান্য চাষের তুলনায় ব্যয়বহুল। একবিঘা জমিতে পাটচাষ, কাটা, জাগ দেওয়া, ছাল ছাড়ানো, শুকানোসহ বাজারে তুলতে কৃষকের ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ বাজারে পাটের যে দাম তাতে উৎপাদন খরচও উঠছে না। এ অবস্থায় আমরা আগামীতে পাটচাষ করবো কীনা সে বিষয়ে আমাদের ভাবতে হচ্ছে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এ বছর যশোরাঞ্চলে পাটের আবাদ কিছুটা কম হলেও ফলন ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে যশোরের ৮ উপজেলার চাষিরা তাদের খেতের পাট কাটতে শুরু করেছেন। তবে পানি অভাবে পাট পচাতে কিছুটা সমস্যা হলেও সামনে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।’
তিনি জানান, শ্রাবণ মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে কৃষককে কষ্ট করা লাগবে না। এবছর পাটের দাম বাড়বে বলেও তিনি আশা করছেন।
ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলে উৎপাদিত প্রায় ৩০০ কোটি টাকার পাট ও পাটজাত পণ্য মজুদ রয়েছে। এসব পাট সময়মতো বিক্রি করতে না পেরে আর্থিক সংকটে পড়েছে পাটকলগুলো। আন্তর্জাতিক বাজারে পাটপণ্যের চাহিদা কমে যাওয়া এবং সিনথেটিক পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রটি জানায়, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে পাটক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল আট লাখ ৩৫ হাজার ২৫২ কুইন্টাল। এর মধ্যে গত ৩০ জুন পর্যন্ত ক্রয় করা হয়েছে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ২৬৭ কুইন্টাল। যা লক্ষ্যমাত্রার ৬৩ শতাংশ। ফলে পাট পণ্যের উৎপাদন কমেছে। গত অর্থবছরে ক্রয় করা পাট মিলিয়ে ১১ জুলাই পর্যন্ত মিলগুলোতে পাট রয়েছে দুই হাজার ১৪৭ কুইন্টাল। ফলে এবছর মিল মালিকরা বাজার থেকে পাট কিনবেন কীনা তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, এসব কারণে প্রতিবছরই পাটের দাম কমছে। আর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রান্তিক চাষিদের ওপর।