যশোর প্রতিনিধি : যশোরের মণিরামপুরে ইটভাটায় জমি দিতে রাজি না হওয়ায় রহমতউল্যাহ (৫০) নামের এক কৃষককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ভাটা মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে।
কৃষক রহমতউল্যাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। গত ১২ জুলাই নিজ জমিতে কাজ করার সময় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন তিনি। রহমতউল্যাহ উপজেলার খেদাপাড়া গ্রামের মৃত দিদার বক্সের ছেলে।
নিহতের স্বজনরা জানান, উপজেলার মণিরামপুর-খেদাপাড়া সড়কের খড়িঞ্চি কোম্পানি মোড়সংলগ্ন এলাকায় এমআরএম ব্রিক্সস নামে একটি নতুন ভাটা স্থাপন করেন রোহিতা বিশ্বাসপাড়া এলাকার জনৈক আব্দুর রাজ্জাক ও খেদাপাড়া এলাকার মকবুল হোসেন। ভাটাসংলগ্ন এক খণ্ড জমি রয়েছে কৃষক রহমতউল্যার। সেই জমিটি ইজারা নেন ভাটা মালিকপক্ষ। কিন্তু ঠিকমতো দেনা-পাওনা পরিশোধ না করায় গত ১২ জুলাই সকালে নিজ জমিতে কাজ করতে যান রহমতউল্যাহ। এ সময় মকবুলের ছেলে জুয়েলসহ কয়েকজন যুবক রহমতউল্যাহকে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। কৃষক রহমতউল্যাহর স্বজনরা খবর পেয়ে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১৬ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর রাতে তিনি মারা যান।
এ ঘটনার পরপরই কৃষক রহমতউল্যাহর ভাই আব্দুর রহমান বাদি হয়ে চারজনকে অভিযুক্ত করে মণিরামপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- মালিক আব্দুর রাজ্জাক, মকবুল হোসেন, তার ছেলে জুয়েল ও আবু হুরায়রা নামের এক যুবক।
মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন রহমতউল্যাহর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ ঘটনায় আগে ৩২৬ ধারায় থানায় একটি মামলা হয়েছিল। এখন মৃত্যুর সনদটি হাতে পেলে তার সাথে ৩০২ ধারাটি যোগ করে আদালতে আবেদন দেওয়া হবে।’

