ঢাকাThursday , 26 July 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আগামী নির্বাচনে জাপার সাফল্য চায় ভারত

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘আগামী নির্বাচনে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির সাফল্য চায় প্রতিবেশী প্রভাবশালী দেশ ভারত। দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় জাতীয় পার্টির ভূমিকার প্রশংসাও করে দেশটি। রাষ্ট্র পরিচালনার অতীত নয় বছরে যেমন দেশটি এরশাদের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।’
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নয়াদিল্লি সফর নিয়ে বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এসব কথা বলেন।
দিল্লি সফর নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত হননি। সংবাদ সম্মেলন ডাকা হলেও দিল্লি সফর নিয়ে কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি দলটির মহাসচিব।
জাপার মহাসচিব বলেন, ভারত সরকারের আমন্ত্রণে আমাদের পার্টির চেয়ারম্যানের এই ভারত সফর। সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ দমনে এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় দুই দেশ একযোগে কাজ করবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ভারত সরকারের এই আমন্ত্রণ আমাদের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। এজন্য আমরা ভারত সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ। ভরতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নয়াদিল্লিতে না থাকায় তার সঙ্গে বৈঠক হয়নি। কিন্তু তার পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ আমাদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনা করেছেন। অনেক সময় দিয়েছেন। এজন্য আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।
রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, দিল্লি সফরে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সাথে তার বাসভবনে বৈঠকে মিলিত হয়েছি। এক ঘণ্টারও অধিক সময় আমরা পারস্পারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। ভারতের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সাথেও আমারা বৈঠক করেছি।
জাপার মহাসচিব বলেন, ভারত সফরে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিন শীর্ষ কর্তার সঙ্গে বৈঠকই অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় ওই তিন নেতার সাথে প্রায় অভিন্ন বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, ভারত সরকার এবং জনগণ বাংলাদেশের সঙ্গে বিরাজমান সুসম্পর্ক আরো সুদৃঢ় দেখতে চায়। তাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ যেন বজায় থকে। ভারত সব সময়ই বাংলাদেশে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করে।
বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় ভারত জাতীয় পার্টির ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছে, এ কথা জানিয়ে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা সরাজ বলেছেন, জাতীয় পার্টি বিরোধী দলে থেকেও সরকারের সাথে দায়িত্ব পালন করেছে। এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত। বিরোধী দল মানে শুধু বিরোধিতাই করবে, সরকারের সাথে কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারবে না- এই প্রচলতি ধারা থেকে জাতীয় পার্টি বেরিয়ে আসতে পেরেছে, এটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। এই দৃষ্টান্ত আগামীতে হয়তো আরো অনেক গণতান্ত্রিক দেশ গ্রহণ করতে পারবে।
আলোচনাকালে ভারতের নেৃতৃবৃন্দ বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে চলায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
জাপার মহাসচিব বলেন, ভারতীয় নেতৃবৃন্দ আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে জাপার প্রতি নৈতিক সমর্থন সবসময় অব্যাহত থাকবে। আগামী নির্বাচনেও জাপার সাফল্য চায় তারা। তারা সব সময় আমাদের পাশে থাকবেন বলেও জানিয়েছেন।
রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ভারতীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনাকালে আমরা জাতীয় পার্টির ৯ বছরের শাসনামলে ভারতের সাথে সুসম্পর্কের কথা স্মরণ করেছি। বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাকে ভারত যেভাবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে সে কথা আমরা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেছি। বিশেষ করে, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ভারতের অবদানের কথা আমরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছি।
‘আমরা জানিয়েছি যে, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে জাতীয় পার্টি সব সময় সোচ্চার থাকবে। আমরা এখন আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা বলেছি, অত্যন্ত বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যেও জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। লেভেল প্লেইং ফিল্ড আমরা পাইনি, তবুও নির্বাচন থেকে কখনো সরে যাইনি। আমাদের সাংগঠনিক অবস্থা এখন আগের চাইতে অনেক বেশি সুসংগঠিত আছে। তাই আশা করছি, আগামীতে আমরা সরকার গঠন করতে পারব,’ বলেন রুহুল আমিন হাওলাদার।
তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকাকাল থেকেই বিশ্বে আমাদের অনেক বন্ধু দেশ ছিল। তারা আমাদের নৈতিক-আর্থিক এবং মনস্তাত্ত্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে। প্রতিবেশী ভারত তার মধ্যে অন্যতম একটি দেশ। ভারত আমাদের বৃহৎপ্রতিবেশী গণতান্ত্রিক দেশ। স্বাধীন বাংলাদেশকে ভারত বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করে আসছে। ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত সুনিবিড়। জাতীয় পার্টির শাসনামলে সেই সম্পর্ক সুউচ্চ মাত্রায় অবস্থান করেছে। আমরা এখন ক্ষমতায় না থাকলেও সেই সম্পর্ক রক্ষা করে চলছি। বন্ধুপ্রতীম ভারতও আমাদের সাথে গভীর সম্পর্ক রক্ষা করে যাচ্ছে। আমরা আশা করি, এই সম্পর্ক আগামী দিনে আরো সুদৃঢ় হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দিন আহমেদ এমপি, ফখরুল ইমাম এমপি, সুনীল শুভ রায়, মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা, এস এম ফয়সল চিশতী, নাসরিন জাহান রতনা এমপি, সোলায়মান আলম শেঠ, সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর খালেদ আখতার, এ টি ইউ তাজ রহমান, ইসলামী মহাজোটের চেয়ারম্যান আলহাজ আবু নাসের ওয়াদে ফারুক, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আশরাফ উদ দৌলা, আলমগীর শিকদার লোটন, শওকত চৌধুরী এমপি, আমানত হোসেন, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, ইয়াহ ইয়াহ চৌধুরী এমপি, জহিরুল আলম রুবেল, সুলতান মাহমুদ, শাহজাহান মনসুর, এম এ সত্তার, এম এ রাজ্জাক খান, পারভিন তারেক, শারমিন পারভিন লিজা, ডা. সেলিনা খান, আবু সাঈদ স্বপন, রেজাউল করিম প্রমুখ।