কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কটি এখন এক মহাদুর্ভোগের সড়কে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন একেবারেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মহাসড়কটির বেশিরভাগ স্থানজুড়েই রয়েছে ছোট-বড় গর্ত। ফলে প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। খানা-খন্দের কারণে চরম ভোগান্তিতে এই সড়কের যানবাহন চালক ও যাত্রী সাধারণ।
এ মহাসড়কের অনেক স্থানেই সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও ভাঙ্গণ। বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে উঠে গেছে সড়কের উপরের স্তর। গত দুই বছর ধরেই এ সড়কটির এমন বেহাল দশা চলছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণের জাঙ্গালিয়া কেন্দ্রীয় বাস স্ট্যান্ড এলাকা, পদুয়ার বাজার, বিজয়পুর বাজার, লালমাইয়ের বাগমারা বাজার, হরিশ্চর বাজার, আলীশ্বর বাজার, লাকসাম জংশন, লাকসাম বাইপাস, মনোহরগঞ্জের খিলা বাজার, নাথেরপেটুয়া বাজার, বিপুলাসার বাজার, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী, চৌমুহনী, বেগমগঞ্জ থানা এলাকাসহ বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে দুর্ঘটনার ভয়ঙ্কর ফাঁদের সৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও উঠে গেছে সড়কের পিচ, আবার কোথাও ঢেউয়ের মত হয়ে সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। এ সড়কের বাগমারা বাজার ও লাকসাম জংশনের উত্তরাংশে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। অবস্থা নাজুক হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
কুমিল্লা থেকে নোয়াখালীর মাইজদীগামী উপকূল পরিবহনের বাসের চালক আবুল হোসেন জানান, সড়কটি ভাঙা থাকায় ঘন ঘন গাড়ি বিকল হচ্ছে। মাঝেমধ্যে দায়সারাভাবে কিছু ইট-সুরকি ফেলা হলেও সপ্তাহ না যেতেই সড়ক আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
কুমিল্লা জেলা পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. কবির আহমেদ জানান, সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ায় প্রায় সময় গাড়ি বিকল হয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে যানজট লাগছে, অন্যদিকে যাত্রীরাও কষ্ট পাচ্ছে। সড়ক বিভাগের এক পরিসংখ্যানে দেখাগেছে, এ মহাসড়কটিতে ২০১৫ সালে ৪১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৪৫ জন আহত হয়েছেন। ২০১৬ সালে ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৪০ জন, আহত হয়েছেন ৪৬ জন। ২০১৭ সালে ৩৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ২৮ জন, আহত ৭৬ জন।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, এই সড়কটিতে কিছুদিনের মধ্যে কুমিল্লা থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পর্যন্ত ফোর লেনের কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সড়কটির দিকে বিশেষ নজরে হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগে্র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ রেজা-ই-রাব্বি।

