ঢাকাTuesday , 3 July 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সমিতির ফাঁদে ঘুম হারাম ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের!

Link Copied!

খুলনা প্রতিনিধি : খুলনায় সমিতির ফাঁদে পা দিয়ে ঘুম হারাম হয়ে গেছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। ঋণ পরিশোধের পরও হুমকি-ধামকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এমন শতাধিক পরিবার।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম। নগরীর ডাকবাংলার মোড়ে ছোট্ট পান-বিড়ির দোকান দিয়ে ৩ জনের সংসার চালান। স্বপ্ন দেখেন মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার। সংসারের অভাব অনটন কাটিয়ে তার লেখাপড়া নিয়মিত রাখতে সে ‘মুক্তিযোদ্ধা, সন্তান ও প্রজন্ম কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেড’ থেকে গত বছর জানুয়ারিতে ১ লাখ টাকা ঋণ নেন। ৬ মাসের মধ্যে যথানিয়মে সুদে আসলে পরিশোধ করেন প্রায় দেড় লাখ টাকা। হঠাৎ তাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে ৩ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য। টাকা পরিশোধের জন্য দেওয়া হচ্ছে হুমকি-ধামকি, দেখানো হচ্ছে মামলা দায়েরের ভয়-ভীতি। দুঃশ্চিন্তায় খাওয়া-দাওয়া ঘুম হারাম হয়ে গেছে শহিদুলের। ছোট্ট দোকান বন্ধের উপক্রম। বন্ধ হতে চলেছে তার সন্তানের পড়ালেখাও।
একই অবস্থা ওই এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আফগান হোসেন, হাবিবুর রহমান মৃধা, মোঃ সালাউদ্দিন, পারভেজ আলম (ভোলা), মোঃ জাহাঙ্গীরসহ আরও অনেকের। নিয়ম মাফিক সুদসমেত ঋণ পরিশোধের পরও লাখ লাখ টাকা দাবী করে লিগ্যাল নোটিশ ও হুমকি-ধামকিতে শতাধিক পরিবারকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে ।
৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধের পরও আফগান হোসেনকে ১৫ লাখ টাকার লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ৫০ হাজার টাকার ঋণে ১০ লাখ টাকার লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে হাবিবুর রহমান মৃধাকে। ৪০ হাজার টাকার ঋণে ৬ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য লিগ্যাল নোটিশ করা হয়েছে মোঃ সালাউদ্দিনকে। ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ৫ লাখ টাকার লিগ্যাল নোটিশ পেয়েছেন পারভেজ আলম (ভোলা)। ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধের পরও ২ লাখ টাকার লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে মোঃ জাহাঙ্গীরকে।
এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ডাকবাংলা মোড়ে সৎ এবং সুজ্জন ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত শহিদুল ইসলাম ওরফে ভান্ডারি। সমিতির শীর্ষ কর্মকর্তার এমন প্রতারণায় দু’চোখে অন্ধকার দেখছেন তারা, নিন্দার ঝড় উঠেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সমবায় অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন নিয়ে নগরীতে ক্রেডিট প্রোগ্রামে নামেন হোসাইন মোঃ ইউছা ওয়ায়েজ আররাফী নাজু নামক এক ব্যাক্তি। নাজু তার প্রতিষ্ঠানের নাম দেন ‘মুক্তিযোদ্ধা, সন্তান ও প্রজন্ম কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠানের ব্যানারেই তিনি নগরীর সহজ সরল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ জালে আটকে ফেলেছেন। নানা রকম সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করা হয়। ঋণের শর্ত হিসাবে প্রত্যেকের নিকট হতে দু’টি করে ব্ল্যাঙ্ক চেক রাখা হয়। ঋণ পরিশোধের শেষ পর্যায়ে এলেই ওই চেকে বড় অংকের টাকা বসিয়ে ডিজঅনার করা হচ্ছে। এরপরই লিগ্যাল নোটিশ-ভয়ভীতি আর হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে আররাফী নাজু প্রত্যেককে ফোন করে বলছেন, ‘আমার অফিসে আসেন। একা আসবেন। আমরা ওয়ান টু ওয়ান আলোচনা করে একটা এমাউন্ট পরিশোধের পর বিষয়টি মিটিয়ে ফেলবো।’
তিনি ভুক্তভোগীদের আরও বলছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কোনরূপ বাড়াবাড়ি করার চেষ্টা করলে বড় বিপদে পড়বেন। এটি মুক্তিযোদ্ধা সমিতি। এর নিয়ম কানুন আলাদা। কেউ এটা নিয়ে কথা বলার সাহস পাবে না। কোন প্রশাসন এ ব্যাপারে নাক গলাবে না। আর সাংবাদিকদের বলবেন। আমি নিজেইতো সাংবাদিক। কেউ আমার কিছু করতে পারবে না। বাড়াবাড়ি করলে শুধু বিপদই বাড়বে’।
অব্যহত হুমকি-ধামকি আর হয়রানীর হাত থেকে বাঁচতে আররাফী নাজুর বিরুদ্ধে খুলনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শহিদুল ইসলাম।অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, শহিদুল ঋণকৃত সম্পূর্ণ টাকা সুদসমেত ফেরতের পরও তার ব্ল্যাঙ্ক চেক ফেরত দেয়নি আররাফী নাজু। চেক ফেরত চাইলে তাকে ৩ লাখ টাকা প্রদানের লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। খুলনা থানার এসআই আশরাফ অভিযোগটি তদন্ত করছেন।
এছাড়া অপর ভূক্তভোগী মোঃ আকবার হোসেন ২৪ জুন খুলনা থানায় আরও একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
এসব ব্যাপারে খুলনা জেলা সমবায় কর্মকর্তা ফারহানা আফরোজ বলেন, ‘সমবায়ের নিবন্ধনভূক্ত কোন সমিতি সদস্যদের নিকট থেকে ব্ল্যাঙ্ক চেক নিতে পারবে না। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ।’
জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, খুলনা মহানগর ইউনিটের কমান্ডার অধ্যাপক আলমগীর কবির জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন ধরণের সংগঠণ গড়ে উঠেছে। এগুলো আমাদের জন্য বিব্রতকর। তিনি বলেন, ‘আররাফি নাজু একটি সমিতি চালায় বলে আমি শুনেছি। তবে তিনি আমাদের সংসদের সঙ্গে কোনভাবে সংশ্লিষ্ট নন।’
মুঠোফোনে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা,সন্তান ও প্রজন্ম কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেড’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হোসাইন মোঃ ইউছা ওয়ায়েজ আররাফী নাজু বলেন, ‘সমিতির কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ আছে। যাদেরকে লাখ লাখ টাকার লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে তাদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত লেনদেন রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার বাবা ঢাকার মুক্তিযোদ্ধা। সমিতির সাথে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অনেকেই জড়িত আছেন।’