নিজস্ব প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের বিষয়ে এখনও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি বিএনপি। তবে এবারের রোজা ও ঈদে প্রতিটি সংসদীয় আসনে দলের তৃণমূল নেতারা ব্যাপকহারে গণসংযোগে ব্যস্ত ছিলেন। দলটির তৃণমূলের নেতারা বলছেন, এবার রোজার মাসে দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সমাবেশ ঘটিয়েছেন তারা। যাতে করে আগামী দিনে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে নেতাকর্মীরা সক্রিয় থাকেন। পাশাপাশি আগামী দিনের আন্দোলন সফল করতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ব্যাপকহারে গণসংযোগ করা হয়েছে। তারা আরও জানান, বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে কী করবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারপারসন।
দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এ জেড এম রেজোয়নুল হক বলেন, ‘রুটিন ওয়ার্কের মতো এবারের রমজানে প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে আমরা ইফতার ও দোয়া-মাহফিল করেছি। যেহেতু সরকার আমাদেরকে মাঠপর্যায়ে সরাসরি গণসংযোগ করতে দিচ্ছে না, তাই আমরা এসবের মাধ্যমে তৃণমূলে গণসংযোগ করেছি। যাতে করে আগামী দিনে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন সফল করতে পারি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনমুখী একটি দল। নির্বাচনের জন্য সব সময় আমাদের প্রস্তুতি আছে। আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
রাজশাহীর মেয়র ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন বাধার পরও পুরো রমজান মাসজুড়ে আমরা রাজশাহীর প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি। ঈদের দিন নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি। আজকে (রবিবার, ১৬ জুন) একটি সামাজিক অনুষ্ঠান করেছি। এসবের মাধ্যমে নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে সামনে রেখে সংগঠনকে গুছিয়ে আনছি।’
ফেনী জেলা বিএনপির সভাপতি আবু তাহের বলেন, ‘আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। সেই আন্দোলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এবার রমজান ও ঈদে তৃণমূলে গণসংযোগ করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সাধারণ মানুষের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছি।মানুষও আমাদের পক্ষে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।’
তৃলমূল নেতাদের পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও এবার রোজার মাসজুড়ে নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে গণসংযোগ করেছেন। ঈদেও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আমি আমরা এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে এবার ঈদ করেছি। ঈদে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিজ নিজ এলাকায় যাওয়ার নির্দেশনা ছিল। রমজান মাসজুড়ে তারা নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের সঙ্গে গণসংযোগ ও ইফতার করেছেন।’
বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, ‘এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমি ঈদ করেছি। ঈদে কয়েকটি সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন একমাত্র লক্ষ্য আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। সেই লক্ষ্যে রোজার মাসে ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে তৃলমূল নেতাকর্মীদের প্রস্তুত করে তোলা হয়েছে।’
এ্যানী আরও বলেন, ‘বিএনপি সব সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। এ জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি নেওয়ার দরকার নেই। কারণ, মাঠের আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি নির্বাচনের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছে। তবে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত দেবেন আমাদের দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।’

