ঢাকাSaturday , 16 June 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিষাদময় ঈদ বিএনপি নেতাদের

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : একে তো দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে, সেই সঙ্গে তার গুরুতর অসুস্থতার খবর আসছে প্রতিদিন। ফলে বিমর্ষ বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মীরা। তাই এবার কোনো আনন্দ নয়, বিষাদে ভরা ঈদ কাটবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস যেমন বুধবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘নেত্রীকে ছাড়া আমরা বেদনাবিধুর রমজান পালন করলাম। সামনে আসছে বেদনাবিধুর ঈদ। সবাইকে বেদনাবিধুর শুভেচ্ছা’।
মির্জা আব্বাসের মতো বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অনুভূতি একই রকম। তারা বলছেন, কারাগারে থাকা চেয়ারপারসন অসুস্থ। এই অবস্থায় তাদের এবারের ঈদ অন্যবারের মতো আনন্দময় নয়।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু অবশ্য মনে করেন, শুধু বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগ ছাড়া আর যারা গণতান্ত্রিক রাজনীতি করেন তাদের সবার কাছেই এবারের ঈদের আনন্দ বিব্রতকর। কারণ গণতন্ত্রের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। সরকার ইচ্ছা করলে ঈদের আগে খালেদা জিয়া মুক্তি পেতে পারতেন।
দুদু আরও বলেন, ‘এবার হয়তো নেতাকর্মীরা ঈদের নামাজ পড়বেন, কিন্তু আনন্দ ও বেদনা মিশ্রিত ঈদ করবে সবাই। আমি ছাত্রজীবন থেকে যেহেতু নেত্রীর সঙ্গে আছি, সেহেতু তাকে ছাড়া ঈদ আমাদের জন্য এক কষ্টের উদযাপন।’
সামপ্রতিক সময়ে প্রতিবছর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঈদের দিন বিশিষ্ট নাগরিক, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে আসছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। নেত্রীর সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সেখানে ছুটে যান বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। কিন্তু এবার সেই চেনা দৃশ্য আর চোখে পড়বে না।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হওয়ায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি খালেদা জিয়া। কারণ ঈদে কারাগারে থাকছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি প্রধানের জন্য যে এবারই প্রথম কারাগারে ঈদ, তা নয়। এর আগে এক-এগারো সরকারের সময় বিশেষ কারাগারে ঈদ কেটেছে তার। তবে সেবার নেতাকর্মীরা ঈদের দিন তাদের নেত্রীকে দেখতে কারাগারের সামনে গিয়ে জড়ো হতে পেরেছিলেন। এবার সেই সুযোগ পাবেন কি না সন্দেহ তাদের। তা ছাড়া খালেদা জিয়া অসুস্থ বলে জানতে পেরেছেন তারা।
বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, নেত্রী যেখানে অসুস্থ অবস্থায় কারাগারে পরিবার-পরিজন ছাড়া অনেক কষ্টে থাকবেন, সেখানে তারা এত স্বার্থপর হবেন কী করে। তাই এবারের ঈদের আনন্দকে ছুটি দিয়ে দিয়েছেন তারা।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, ‘চেয়ারপারসন ঈদ করবেন কারাগারে। সেখানে আমাদের কিসের ঈদ? হয়তো পারিবারিকভাবে একটা ঈদের আবহ ঈদের দিন থাকবে, কিন্তু আমরা যারা জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করি তাদের জন্য ঈদের আনন্দ নেই। এর মধ্যে নেত্রী গুরুতর অসুস্থ। এক-এগারোর সময় নেত্রী যখন জেলে ছিলেন, আমরা ঈদের দিন জেলগেটে গিয়ে তার জন্য ফুল, উপহার নিয়ে যেতে পেরেছি। এখন সেই সুযোগও হচ্ছে না।’ এ কথা বলতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন সাবেক এই ছাত্রদল নেত্রী।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলামের কাছেও এবার বিষাদময় ঈদ। বলেন, ‘গণতন্ত্রের মা বিনা দোষে কারাগারে। তিনি গত কয়েক দিন ধরে মারাত্মক অসুস্থ। এই অবস্থায় ঈদের আনন্দ তো আমাদের গোটা বিএনপি পরিবারের জন্য কষ্টের।’
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাদিয়া পাপন পাঠান বলেন, ‘দুই ঈদের একটি গ্রামের বাড়িতে মা-বাবার সঙ্গে, অন্য ঈদ আমাদের দলীয় চেয়ারপারসনের সঙ্গে পালন করার জন্য বরাদ্দ রাখি। তার পা ছুঁয়ে সালাম করা ও একনজর দেখার জন্য ছুটে যাই তার কাছে। কিন্তু এবার সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।’
যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গিয়াস উদ্দীন মামুন বলেন, ‘অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে এবার ঈদ পালন করতে যাচ্ছি আমরা। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, আমাদের মা খালেদা জিয়াবিহীন ঈদ ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। আল্লাহর কাছে দোয়া চাইব, খালেদা জিয়াকে যেন অতিদ্রুত আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন।’
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে বিএনপি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তারেক রহমান। অবশ্য তিনিও বিভিন্ন মামলায় আসামি হয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন।
সবশেষ খালেদা জিয়াকে কুমিল্লায় হত্যা ও নাশকতার দুই মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ২৪ জুন পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ঈদের আগে আর মুক্তি মিলল না তার।
বিএনপির নেতারা জানান, নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে সারা দেশে যারা হামলা-মামলা-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, দলের সেসব পরিবারের কাছে দলের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পৌঁছানো হয়েছে। সারা দেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকর্মীরা এই উপহার পৌঁছে দিয়েছেন।
জানা গেছে, উপহার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে জায়নামাজ, তসবিহ, আতর, টুপি, শাড়ি, লুঙ্গি, খেজুর, কিসমিস, বাদাম, পোলাওয়ের চাল, দুধ, চিনি, লাচ্ছা সেমাই, চকলেট ও বিস্কুট।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় জর্জরিত বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। বাদ যাচ্ছে না সাধারণ মানুষও। ঈদ মানে খুশি বা আনন্দ, সেটা এখন আর নেই। যেখানে একটি দেশের একাধিকবারের জনপ্রিয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিনা দোষে কারাবন্দি সেখানে তাকে কারাগারে রেখে ঈদ আনন্দ হয় কীভাব।’ তিনি অবিলম্বে খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।