নিজস্ব প্রতিবেদক : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার আগামী একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন একতরফা করতে ভারতের সহায়তা চাচ্ছে বলে দাবি করেছে বিএনপি।
ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকাকে উদ্ধৃতি করে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘ওই পত্রিকায় এসেছে, শেখ হাসিনা জানিয়েছেন তার সরকার উত্তর-পূর্ব সীমান্তে জঙ্গিদের দেশছাড়া করেছে, ট্রানজিট দিয়েছে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বরাবর দিল্লীকে সমর্থন করেছে। বাংলাদেশের নির্বাচনের বছরে এবার তাই ভারতের সহযোগিতা চাই।’
‘প্রধানমন্ত্রীর উল্লিখিত বক্তব্যের অর্থ হচ্ছে-শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচন একতরফা করতে গ্যারান্টি চাচ্ছেন ভারতের কাছ থেকে, এটাই একমাত্র প্রতিদান আশা করেন ভারতের কাছ থেকে, অন্যকিছু নয়।’ মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন তিনি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ওই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট করে বলেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে নিজেদের উন্নত দেশে উত্তরণ ঘটাতে শেখ হাসিনার স্বপ্ন বা দৃশ্যকল্প বাস্তবায়নে ভারত তাকে পূর্ণ সমর্থন দেবে। অতএব শেখ হাসিনার শান্তিনিকেতন সফর মহিমামন্ডিত, এক অভূতপূর্ব প্রতিদানের কাব্যিক আলেখ্য, ভোট ছাড়া দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার নিশ্চয়তা পেলেন কী পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে?’
তিনি বলেন, ‘ভারত তাদের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি জলাঞ্জলি দিয়ে শুধুমাত্র জনসমর্থনহীন একটি সরকারকে টেকানোর জন্য বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকারকে অবজ্ঞা করা যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপের সামিল। ভারত যদি আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে তাতে বাংলাদেশের জনগণের মনে ভারতের গণতান্ত্রিক ভাবমর্যাদা ক্ষুন্নই হবে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবেই জনগণের কাছে বিবেচিত হবে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশ সীমান্ত খোলা থাকবে অথচ ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া উঠবে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলো থেকে বাংলাভাষীদের ঠেলে দেওয়ার টালবাহানা, তিস্তার আশ্বাস ঝুলে থাকা, বিপর্যস্তকর রোহিঙ্গা সংকটে ভারতের সহানুভূতি না পাওয়া-এভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর হয় না।’

