কুমিল্লা সংবাদদাতা : কুমিল্লা জেলায় চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরো ধানের ফলন প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হয়েছে। জেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩২৮ হেক্টর নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদ যেমন বেশি হয়েছে, ফলনের দিক থেকেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিগত বেশ কয়েক বছরের তুলনায় এবার ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। হেক্টর প্রতি ধান উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৯ টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর কৃষকরা দুটি স্থানীয় জাতসহ ১৭ প্রকার হাইব্রিড ও ২২ প্রকার উফশী জাতের ধানের চাষ করে। উৎপাদিত ধানের বেশির ভাগ কর্তন করেছে কৃষকরা।
কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দিলীপ কুমার অধিকারী বলেন, কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ সেবা প্রতিনিয়ত দিয়েছেন। ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হয়েছে। জেলার আদর্শ সদর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, সদর দক্ষিণ ও মুরাদনগর উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফলন ভালো হওয়ায় তারা খুশি। এখন ধান গোলায় তুলতে ব্যস্ত কুমিল্লার কৃষকরা। তবে ধান সংগ্রহ, ধানের বাজার মূল্য এসব নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
চাষিরা জানান, কিছু দিন আগেও বাজারে প্রতিমণ ধান বিক্রি হয়েছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকায়। এখন ৮০০ টাকার বেশি বিক্রি করা যাচ্ছে না। ফলন দেখে যতটা খুশি হয়েছিলেন, বাজারদরে ততটা নাখোশ। তাদের মতে, ধানের বাজারদর আরেকটু বেশি হলে প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যাওয়া ফলনের প্রাপ্তিটা পূর্ণতা পেত।
কৃষকরা জানান, ধান কাটার জন্য প্রতিজন শ্রমিককে গড়ে ৬৫০ টাকাসহ তিনবেলা খাবার দিতে হয়। জমি চাষ, পানি সেচ, সার বীজ কেনার খরচ রয়েছে। এখন যদি বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য না পান তাহলে লোকসান গুনতে হবে। জেলা খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সরকার চলতি বছর সারা দেশের ন্যায় কুমিল্লা থেকেও ধান ২৬ টাকা এবং চাল ৩৮ টাকা কেজি ধরে সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

