বাগেরহাট প্রতিনিধি : সুন্দরবনে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব-৮) সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবক নিহত হয়েছেন। এসময় দুটি দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। র্যাব নিহত ওই যুবককে বনদস্যু গরিবের বন্ধু বাহিনীর সক্রিয় সদস্য বলে দাবি করেছে।
মঙ্গলবার সকালে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ডাকাতিয়া খাল এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধ হয়। নিহতের বয়স পঁচিশ থেকে ত্রিশ বছরের মধ্যে। তবে র্যাব তার বিস্তারিত পরিচয় জানাতে পারেনি।
র্যাব-৮ এর উপ-অধিনায়ক মেজর সজিবুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সরকারের মাধ্যমে অন্তত ২০টি দস্যু বাহিনী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আত্মসমর্পণ করেছে। সুন্দরবনে গুটি কয়েক দলছুট সদস্য এখনো সুন্দরবনে চাঁদাবাজি করছে। ওই বাহিনীগুলোকে দমন করতে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ডাকাতিয়া খাল এলাকায় র্যাবের একটি টহল দল পৌঁছলে দস্যুরা র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এসময় র্যাবও পাল্টা গুলি করে। প্রায় আধাঘণ্টা বন্দুকযুদ্ধের এক পর্যায়ে দস্যুদল বনের গহীণে পালিয়ে যায়। পরে র্যাব সদস্যরা সেখানে তল্লাশি চালিয়ে অজ্ঞাত এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ এবং তার পাশ থেকে দুটি দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করে। বন্দুকযুদ্ধের পর নদী খালে মাছ ধরার জেলেরা সেখানে পৌঁছে নিহত যুবককে বনদস্যু গরিবের বন্ধু নামে একটি দস্যু দলের সক্রিয় সদস্য বলে শনাক্ত করে বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, কয়েকজন ছলছুট ব্যক্তি গরিবের বন্ধু নামে এই বাহিনী সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করে চাঁদাবাজি ও অপহরণের মত অপরাধে নিজেদের যুক্ত করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।
এদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মংলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তুহিন মণ্ডল বলেন, নিহত একজনের মরদেহ ও দুটি অস্ত্র আমাদের কাছে হস্তান্তর করছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

