লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা : আকাশে মেঘ জমলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। আর সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেতো কথায় নেই। তখন বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে, নয়তো খুঁটি ভেঙে বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ। লক্ষ্মীপুরবাসী এখন এমনই দুর্ভোগে। গত মার্চ মাস থেকেই বিদ্যুৎ নিয়ে এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। জানালেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ফার্মেসি ব্যবসায়ী রাজু আহম্মদ।
তার কথায় ফুটে উঠে লক্ষ্মীপুরে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের বেহাল দশার চিত্র। তিনি জানান, ঝড়-বৃষ্টির দাপট শুরু হওয়ার পর থেকে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এখন নিয়ম হয়ে উঠেছে। সোহাগ নামে একজন বিদ্যুৎ গ্রাহক বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করেছে। যার মাসুলেএখন গ্রাহকদের দিতে হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করলে এত সমস্যা হত না।’
গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের তারে টেম্পার নেই। বেশির ভাগ খুঁটি দুর্বল। হালকা বাতাসেই ছিঁড়ে যায় তার, ভেঙে পড়ে খুঁটি, বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ। এ অবস্থায় জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে চালানো হচ্ছে লক্ষ্মীপুরের বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রম।
আকাশে সামান্য মেঘ জমলেই এবং মাঝারি বেগের হাওয়া ও টিপ টিপ বৃষ্টি শুরু হলেই লক্ষ্মীপুরের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের বুকেও টিপটিপ শুরু হয়ে যায়, এই বুঝি বিদ্যুৎ উধাও হলো। আর একবার গেলে ১০ থেকে ১২ ঘন্টার আগে বিদ্যুৎ ফিরে আসে না। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। প্রচন্ড গরমে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।
জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর ও চৌমূহনী গ্রিড থেকে এ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এখানকার পাঁচটি উপজেলা ও তিন পৌরসভা মিলে চার হাজার কিলোমিটারের বেশি বিদ্যুৎ লাইন আছে। এর আওতায় গ্রাহকসংখ্যা দুই লাখ ৮৫ হাজার।
অন্য দিকে ৯০ শতাংশ বিদ্যুৎ লাইন সুপারি বাগান ও গাছ পালার ভিতর দিয়ে টানা হয়েছে। এ জন্য ঝড়ো হাওয়া বা বৃষ্টির আভাসের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তার কারণেই অগ্রিম লাইন বন্ধ করতে হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সদর উপজেলায় মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ বার বিদ্যুৎ সংযোগ নষ্ট হয়ে পড়ে।
সদর উপজেলার বিদ্যুৎ গ্রাহক ইউসুফ জানান, আকাশে কালো মেঘ দেখলেই সাথে সাথে বিদ্যুৎ সরবরাহ বদ্ধ করা হয়। আর একটু দমকা বাতাস বইলে বিদ্যুৎ থাকে না। সঙ্গে প্রতিদিনের দীর্ঘ লোডশেডিংতো আছেই। তাছাড়া নানা অজুহাতে প্রায় সময় বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায়ও বিঘ্ন ঘটছে।
লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) শাহজাহান কবির মুঠোফোনে বলেন, ‘ঝড়ো হাওয়া বা বৃষ্টির আভাস পাওয়া গেলে নিরাপত্তার কারণেই চাঁদপুর ও চৌমূহনী গ্রিড থেকে লাইন বন্ধ হয়ে যায়। ঝড়ে বৈদ্যুতিক লাইনের ওপরে গাছ ভেঙে পড়ায় গত দেড় মাসে অনেকবার সংযোগ বিকল হয়ে পড়ে। এ ছাড়া লাইনের তার ছিড়ে গেলেও ঠিক করতে সময় লেগে যায়।’

