বেরোবি প্রতিনিধি : নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ততার দায়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের সাদিয়া আফরোজ নীনা (২৪) নামের এক ছাত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বুধবার রাতে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ওই ছাত্রীকে আটক করা হয়।
ওসির ভাষ্য, আটকের সময় সাদিয়ার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন সেট জব্দ করা হয়। এসব ফোন সেটে মানসিক উত্তেজনা সৃষ্টিকারী ও বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের জখমের ছবি, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ফুটেজ এবং বিভিন্ন জঙ্গি নেতার ছবি ও তাদের বক্তব্যের ফুটেজ পাওয়া গেছে। তার মুঠোফোনে রয়েছে টেলিগ্রাম, অরবিট, অরফক্স নামে তিনটি অ্যাপস (ফিচার)। এ ছাড়া সালাফদের ইলমি শ্রেষ্ঠত্ব ইবনে রজব হাম্মুলী (রা.) অনুবাদ করা একটি বই উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, এসব অ্যাপস ব্যবহার করে সাদিয়া জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং ছবি ও ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে জঙ্গি সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করে দেশের অভ্যন্তরে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করে আসছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসিরুল ইসলামের নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে সাদিয়াকে গ্রেপ্তার করে। লালমনিরহাটের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-বি) হোসেন শহীদ সরওয়ার্দীসহ হাতীবান্ধা থানার পুলিশও অভিযানে অংশ নেয়।
গ্রেপ্তারের পর সাদিয়াকে প্রাথমিক জিজ্ঞাবাসাবাদ করে তার বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে (১৫(৩)/১৬(২) ধারায়) মামলা করা হয়। অভিযানের সময় অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন আসামি পালিয়ে যায় বলেও মামলায় করা হয়।
মামলায় আরও বলা হয়, ‘২০১৫ সাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) নিজ নামে মোট তিনটি আইডি খোলেন সাদিয়া আফরোজ নীনা। এসব ফেসবুক আইডির মাধ্যমে মোহাম্মদ আনাস, মেহেদী হাসান, এমআরএফ ওরফে সোহেলা রানা নামে ১০-১২ জন জঙ্গি সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে দেশের অভ্যন্তরে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করেন তিনি। ওই সদস্যদের নিয়ে গোপন বৈঠক হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে সাদিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ব্যাপারে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত সাদিয়া আফরোজ নীনা নিষিদ্ধ জেএমবি সংগঠনের সদস্য। তার তিনটি মুঠোফোনে মানসিক উত্তেজনাকর ছবি ও ফুটেজসহ জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনসংক্রান্ত বিভিন্ন অ্যাপস পাওয়া গেছে।’
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে লালমনিরহাট ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক এসআই সিদ্দিকুল হককে। তিনি বলেন, ‘সাদিয়া আফরোজ নীনার সঙ্গে জঙ্গি তামিম গ্রুপের সম্পৃক্ততার প্রমাণ থাকায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।’

