আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের আয়োজনের জন্য জার্মানি থেকে স্পেনে প্রত্যার্পণের মুখে থাকা কার্লেস পুজদেমন তার সমর্থকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও বিদ্রোহের দায়ে স্পেনে পুজদেমনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়, যা পরে ইউরোপীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় রূপ নেয়। গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই প্রথম সমর্থকদের উদ্দেশে কথা বললেন পুজদেমন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘স্পেন অতিরিক্ত কর্তৃত্ববাদী আচরণ করছে।’
কাতালোনিয়ার স্বাধীনতাকামী সমর্থকরা পুজদেমনের মুক্তির দাবিতে বার্লিনে মার্চ করেছে। এদিকে, স্পেন পুজদেমনকে তাদের কাছ প্রত্যার্পণ করতে বলেছে। তাকে ফিরিয়ে দিতে ৬০ দিন সময় রয়েছে জার্মানির হাতে।
রোববার পুজদেমন তার সমর্থকদের উদ্দেশে একটি অডিও বার্তা দেন, যেটি ধারণ করেন জার্মানির বামপন্থি ডিউ লিংক পার্টির সংসদ সদস্য ডিয়েটার ডেম। তিনি পুজদেমনকে দেখতে উত্তরের শহর ন্যুয়েমানিস্টারের কারাগারে যান।
অডিও বার্তায় পুজদেমন বলেন, ‘বার্তা হিসেবে আমি বলতে চাই, আমাদেরকে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। আমরা যে পথে আছি আমাদের অধিকার রক্ষায় সে পথেই চলতে হবে। এসব অধিকার জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত। আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার আমাদের আছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এমন এক রাষ্ট্রের কাছে নতি স্বীকার করতে পারি না, যারা দিনে দিনে অতিরিক্ত কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠছে এবং আমাদের অধিকার হরণ করছে। আমরা যেভাবে অহিংস ও সভ্য পন্থায় আন্দোলন করি, যা বিগত বছরগুলোতে বিশ্ব দেখে এসেছে, সেভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। এভাবেই কাতালান তাদের অধিকার আদায় করে থাকে।’
গত অক্টোবরে কাতালোনিয়া স্বাধীনতার পক্ষে গণভোটে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর স্পেন সরকার অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসন হরণ করে নতুন নির্বাচন দেয়। পুজদেমনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তারপর থেকেই বেলজিয়ামে স্বেচ্ছা-নির্বাচিত ছিলেন তিনি। তবে তার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সময় তিনি সুইডেন ছিলেন। সেখান থেকে পালাতে সক্ষম হলেও গত রোববার জার্মানিতে তিনি গ্রেপ্তার হন।
পুজদেমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্পেনে তার ৩০ বছরের জেল হতে পারে।

