ঢাকাWednesday , 7 March 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড ১, যাবজ্জীবন ২

Link Copied!

বরিশাল প্রতিনিধি : বরিশালের গৌরনদীর আলোচিত ঘটনা খাদেম সরদার হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড এবং দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- উপজেলার নন্দনপট্টি এলাকার মৃত সফিজউদ্দিন মৃধার ছেলে নান্নু মৃধা (৪০)। এ ছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নান্নু মৃধার ভাই সেন্টু মৃধা (৩৫) ও উত্তর বাটাজোর এলাকার ফানুজ মৃধার ছেলে আলাম মৃধা (৩৭)। রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি সেন্টু মৃধা আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
বরিশালের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন দুই আসামির উপস্থিতিতে এ রায় প্রদান করেন বলে নিশ্চিত করেছেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন কাবুল। একইসাথে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার বাকি নয় আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল নন্দনপট্টি এলাকার বাসিন্দা খাদেম সরদারের। এ নিয়ে আসামিরা বিভিন্ন সময় খাদেম সরদার ও তার ছেলেদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের সমাধানের জন্য সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেন।
সে অনুযায়ী ২০১৪ সালের ১৭ অক্টোবর দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠকের কথা জানানো হয়। কিন্তু সালিশে বসার আগেই ১৩ অক্টোবর তাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেন আসামিরা। ওই দিন রাতে খাদেম সরদার তার দুই ছেলে শাহ আলম সরদার ও আসলাম সরদারকে নিয়ে বাড়ির পার্শ্ববর্তী মসজিদের এশার নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় আসামিরা তাদের দলবল নিয়ে হামলা চালান খাদেম সরদার ও তার ছেলেদের ওপর। এতে পার্শ্ববর্তী খালে ঝাঁপ দিয়ে ছেলে শাহ আলম সরদার প্রাণে রক্ষা পেলেও আসামিরা উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন খাদেম সরদার ও তার ছেলে আসলাম সরদারকে। এক পর্যায় শাহ আলমের ডাক চিৎকারে গ্রামের লোকজন ছুটে আসলে আসামিরা পালিয়ে যান।
এরপর স্থানীয়রা খাদেম সরদার ও আসলাম সরদারকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। এ সময় সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক খাদেম সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। একইসাথে আসলাম সরদারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে আসলাম সরদার পঙ্গু জীবন যাপন করছেন।
উল্লেখ্য, আসামিদের সাথে জমি বিরোধের পাশাপাশি মামলা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়ে এজাহারে। ওই হত্যাকাণ্ডের পূর্বে আসামি নান্নু মৃধাকে ৯০০ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে পুলিশ। ওই মাদক মামলায় খাদেম সরদারের ছেলে শাহ আলম সরদারকে রাখা হয় সাক্ষী হিসেবে। তাই জমি বিরোধের পাশাপাশি ওই ঘটনার জের ধরেও চালানো হয় এ হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই গৌরনদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন ছেলে শাহ আলম সরদার।
মামলায় মূল ঘাতক নান্নু মৃধাসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়। এরপর গৌরনদী থানা পুলিশ আদালতে একটি অভিযোগপত্র জমা দেয়। কিন্তু ওই চার্জশিটের ওপর বাদী না-রাজির আবেদন দিলে পুনরায় তদন্তের জন্য ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর মামলাটি সিআইডিতে প্রেরণ করা হয়। এতে মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে এজাহার নামিয় ১০ জনের সাথে আরো দুই জনের নাম সামিল করে মোট ১২ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৫ সালের ১৬ জুন আদালতে চার্জশিট প্রদান করেন সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক সেলিম শাহ নেওয়াজ।
আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর রাষ্ট্রপক্ষে ১১ জন ও আসামি পক্ষে দুইজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আজ বুধবার আসামি নান্নু মৃধার উপস্থিতিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।
একইসাথে তার ভাই পলাতক আসামি সেন্টু মৃধা ও উপস্থিত অপর আসামি আলাম মৃধাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এদিকে আদালতে রায় ঘোষণার পর মামলার বাদী বাবা হারানো শাহ আলম সরদার আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আদালতের ওপর আমরা ভরসা রেখেছিলাম, এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায্য বিচার একদিন আমরা পাব। আজকে তাই পেয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা উচ্চ আদালতেও যাব। আসামি যাতে সেখান থেকে কোনোভাবে রক্ষা না পায়।’