ঢাকাSunday , 4 March 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দশ দিনও যথেষ্ট ছিল না তখন

Link Copied!

স্পোর্টস ডেস্ক : একটা সময় ছিল টাইমলেস টেস্ট। ফল না হওয়া পর্যন্ত খেলে যেত দুই দল। সেখান থেকে বিবর্তিত হয়ে টেস্ট ম্যাচের লাগাম এখন পাঁচ দিনে। আইসিসির মাথায় আবার ‘ভূত’ চেপেছে। তারা পরীক্ষামূলকভাবে চার দিনের টেস্ট আয়োজন করেছে। এখন তো আবার গোলাপি বলে দিবারাত্রির টেস্টও হয়। কিন্তু ওই টাইমলেস টেস্টের যে ঐতিহ্য, যে প্রাণ, যে নিবেদন; সেটা কি এখন আর কোথাও পাওয়া যাবে!
এখন তো টেস্ট ম্যাচ নিশ্চিত ড্রয়ের পথে এগোলেই দুই দলের সম্মতিতে শেষ দিনে প্রায় দেড়-দুই ঘন্টা আগেই খেলা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু টাইলেস টেস্ট ছিল ভিন্ন, অনিন্দ্য সুন্দর। তাইতো ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ টাইমলেস টেস্ট খেলে দক্ষিণ আফ্রিকার এক ক্রিকেটার বলেছিলেন, ‘এ ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে আমাকে দুইবার চুল ছাঁটতে হয়েছিল।’
আর তারই এক সতীর্থ নিজের ভয়াবহতা ব্যক্ত করেছিলেন এভাবে, ‘প্রায় রাতে আমার স্ত্রী ঘুম থেকে উঠে বসে থাকত। আমি জানতাম না কেন। পড়ে অবশ্য শুনেছি, ও দেখত আমি ঘুমের মধ্যেই এলবিডব্লিউর জন্য আবেদন করছি! ম্যাচে তো ৬ উইকেট পেয়েছিলাম ঠিকই। কিন্তু একটাও তো এলবিডব্লিউ না। তবে প্রচুর আবেদন করেছিলাম। তাই ওই ঘোর কাটিয়ে উঠতে পারছিলাম না।’
৭৯ বছর আগে এমনই এক টেস্ট ম্যাচ শুরু হয়েছিল আজকের এই দিনে, ৩ মার্চ। ১৯৩৯ সালের সেই দিনটি ছিল শনিবার। আজকের মতোই রৌদ্রজ্জ্বল দিন ছিল। ম্যাচটি ডারবানে খেলেছিল ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩ মার্চ শুরু হয়ে ম্যাচটি শেষ হয় ১৪ মার্চ। মোট খেলা হয় ১২ দিন। মাঝে দুই দিনের বিশ্রাম এবং একদিন বৃষ্টির পেটে। ব্যাট-বলের লড়াই হয় ৯ দিন। তবুও ম্যাচের ফল বের হয়নি। ম্যাচ অমীমাংসিত থেকেছে। ড্র হয়েছে ‘মিউচুয়াল এগ্রিমেন্টে’।
প্রথম দুই দিনের লড়াই শেষে বিশ্রাম। আবার টানা পাঁচ দিন খেলা। ১১ মার্চ বৃষ্টির জন্য খেলা হয়নি। ১২ মার্চ ছিল রোববার। তখন রোববার কোনো খেলা হতো না। শেষমেশ ১৩ ও ১৪ মার্চ হয় শেষ দুই দিনের খেলা। এরপর ম্যাচ আর এগোয়নি। এর পেছনে মজার এক কারণও রয়েছে।
ইংল্যান্ড দলের জাহাজ ধরার তাড়া ছিল। ডারবান থেকে কেপটাউনে যেতে ট্রেনে সময় লাগত দুদিন। কেপটাউনে সফরের শেষ ম্যাচ ওয়েস্টার্ন প্রভিনেন্সের সাথে খেলে ১৭ মার্চ তারা ইংল্যান্ডের জাহাজ ধরত। সবার ধারণা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচটি পাঁচ দিনের বেশি যাবে না। কিন্তু দুই দল এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, তা ভাবতেও পারেনি কেউ।
১৪ মার্চ ম্যাচের দশম দিন। ইংল্যান্ড জয় থেকে মাত্র ৪২ রান দূরে। আকাশে তখন কালো মেঘ। খেলা চালানোর মতো পর্যাপ্ত আলোও ছিল না। জয়ের জন্য ইংল্যান্ড দ্রুত ব্যাটিং করলেও হঠাৎ শুরু হয় বৃষ্টি। এরপর ম্যাচের থেকে মন উঠে যায় সবারই। চাইলেই পরদিনের জন্য অপেক্ষা করতে পারত ইংল্যান্ড। কিন্তু দেশে ফেরার তাড়া থাকায় রাতেই ট্রেন ধরতে হবে তাদেরকে। তাই আর বসে থাকেনি। দুই দল নিজেদের সম্মতিতে মেনে নেয় ড্র। বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় রচিত হয় নতুন ইতিহাস, দীর্ঘতম টাইমলেস টেস্ট।
বোলাররা ছিলেন একেবারেই নির্বিষ। ব্যাটসম্যান আউট হতে না চাইলে তাদেরকে আউট করাও যেত না! ওই টেস্ট ম্যাচে দুই দলের বোলাররা বল করেছিলেন ৫ হাজার ৪৪৭টি। যদি ক্রিকেটের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী চিন্তা করা হয় তাহলে প্রায় দশটি ওয়ানডে ম্যাচের সমান আর টি-টোয়েন্টি হিসাব করলে ২৪ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সমান বল করেছিলেন বোলাররা।
ম্যাচে নতুন বল নিতে হয়েছিল ১২টি। আর সবচেয়ে বেশি বল করেছিলেন হ্যাডলি ভেরিটি। ইংল্যান্ডের এ বোলার ম্যাচে বল করেছিলেন ৭৬৬টি, মানে একাই ৯৫.৬ ওভার (তখন ৮ বলে হতো এক ওভার)! কল্পনা করা যায়।
বোলারদের কপাল পোড়ার ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা ছিলেন দারুণ খুশি। ব্যাটসম্যানরা রান করলে খুশি হবেন, এটাই প্রত্যাশিত। উইকেট যে দুহাত ভরে তাদেরকে সেই সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল। দুই দল ম্যাচে রান করেছিল ১ হাজার ৯৮১। প্রতিদিন গড়ে রান হয়েছে ২২০। মোট সেঞ্চুরি হয়েছিল ৬টি। দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ড করেছিল ৫ উইকেটে ৬৫৪ রান, যা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ।
৭৯ বছর আগের ম্যাচ আজও চর্চিত। এমন এক ম্যাচ যা শুরু হয়েছিল, কিন্তু শেষ হয়নি! তাইতো ইংল্যান্ড দলের ম্যানেজার হলমেস জাহাজে ওঠার আগে বলেছিলেন, ‘আমি খুশি যে ম্যাচে কোনো ফল হয়নি। এটা প্রমাণ করে ম্যাচটি জয় এবং পরাজয়ের থেকেও বেশিকিছু ছিল। পুরোটাই ক্রিকেটের বাইরে ছিল।’