স্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসির হাত ধরে আর্জেন্টিনা তৃতীয়বারের বিশ্বকাপের ট্রফি জিতবে। রাশিয়া বিশ্বকাপে মেসির হাতে উঠবে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। এমনটাই বিশ্বাস করেন আর্জেন্টিনার হয়ে দুবার বিশ্বকাপ খেলা মার্সেলো গ্যালারডো।
বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনা মোট পাঁচবার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছে। দুবার জিতেছে স্বপ্নের ট্রফি। ১৯৭৮ সালে নেদারল্যান্ডসকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবার জেতে বিশ্বকাপ। আট বছর পর দিয়াগো ম্যারাডোনার হাত ধরে দ্বিতীয় বিশ্বকাপের স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা। এরপর ১৯৯০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে তারা। দুবারই জার্মানির কাছে স্বপ্নের সমাধি দিতে হয়। এর আগে ফাইনাল খেলেছিল ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে।
সবশেষ লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাই হারিয়েছিল শিরোপা। এবার মেসির কাঁধে বিশাল দায়িত্ব। অবসর ভেঙে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের টিকেট পাইয়ে দিয়েছেন বার্সেলোনা স্টার। তাকে ঘিরেই শতশত কোটি আর্জেন্টিনা সমর্থকরা আবার সোনালি ট্রফির স্বপ্ন দেখছেন। সবারই বিশ্বাস মেসি আর্জেন্টিনার ৩২ বছরের অপেক্ষা ঘুচবে।
পাঁচবারের ব্যালন ডি অর জয়ী মেসিকে নিয়ে মার্সেলো গ্যালারডো আরটিকে বলেছেন,‘আমি মনে করি আর্জেন্টিনা সব সময়ই বৈশ্বিক ফুটবলে বড় দল হয়ে প্রাধান্য বিস্তার করেছে। আর্জেন্টিনার থেকে ভালো দুটি বা তিনটা দলই আছে এখন। প্রথমত ব্রাজিল, এরপর জার্মানি এবং সবশেষ স্পেন। এরপরই আমাদের অবস্থান।’
‘আমাদের দলে এখন মেসি রয়েছে। আমাদের বিশ্বকাপ জয়ের সূবর্ণ সুযোগ রয়েছে। আমরা এটা বিশ্বাস করি। এছাড়া মেসি থাকায় আমাদের বিশ্বাস আরও বেড়ে গেছে এবং আমরা মাঠ কাঁপাতেও পারব। তবে এটা সত্য ব্রাজিল, জার্মানি এবং স্পেনও ভালো দল।’- যোগ করেন তিনি।
তবে মেসির ওপর বাড়তি চাপ প্রয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন আর্জেন্টিনাকে ১৯৯৮ ও ২০০২ বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করা গ্যালারডো। ৪২ বছর বয়সি গ্যালারডো বলেছেন,‘এ মুহূর্তে আপনি নিজ দল এবং দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এটা অনেক সৌভাগ্যের বিষয় পাশাপাশি চাপও থাকে। এর অনুভূতি ভিন্ন ধরনের। এজন্য পুরোটা সময় উপভোগ করাই ভালো। বাড়তি চাপ কখনোই বাড়তি সাফল্য এনে দিতে পারবে না। খেলাটা আপন গতিতে এগিয়ে যাবে।’
রাশিয়া বিশ্বকাপে ডি গ্রুপে আর্জেন্টিনা। তাদের প্রতিপক্ষ আইসল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও নাইজেরিয়া। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে হয়তো মাঠে নামবেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার মেসি। ক্লাব জার্সিতে অনেক সাফল্য মেসির। অন্যদিকে জাতীয় দলের জার্সিতে তার প্রাপ্তির খাতা প্রায় শূন্য।
গত বিশ্বকাপে ফাইনালে তুললেও হারতে হয় শেষ মুহূর্তের গোলে। এরপর কোপা আমেরিকার ফাইনালেও দলকে তুলেছিলেন। কিন্তু পেনাল্টি মিসে তার পাওয়া হয়নি শিরোপার স্বাদ। অভিমানে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিশ্বকাপের চিন্তায় ফিরে আসেন জাতীয় দলে। এবার সেই মিশন সাকসেসফুল করার পালা।

