নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ফিরিয়ে আনলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বাধা দূর হবে বলে মনে করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দলটির ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন এলডিপির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ড. অলি আহমেদ।
দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের স্বার্থে নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের লক্ষ্যে তত্ত্বাধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি করেন তিনি।
অলি আহমেদ বলেন, আগামী নির্বাচনে সকলের অংশগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এ পরিবেশ সৃষ্টিতে ব্যর্থ হলে আওয়ামী লীগকে কঠিন মাশুল দিতে হতে পারে। আবারও একতরফা কোনো নির্বাচনের পরিকল্পনা করে থাকলে সরকার গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলে দেবে।
সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যেসব বাধা রয়েছে, গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকারকেই তা দূর করতে হবে বলে মন্তব্য করেন ২০ দলীয় জোটের এই শীর্ষ নেতা।
তিনি আরো বলেন, সমগ্র দেশ আজ গুম-খুনের রাজ্যে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থা থেকে জনগণ পরিত্রাণ চায়। এভাবে একটা রাষ্ট্র চলতে পারে না। অন্যদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সমাজ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। এজন্য দায়ী সরকারের উদাসীনতা ও ভ্রান্ত নীতি।
অলি আহমেদ দেশের স্বার্থে বিচার বিভাগকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগকে কলঙ্কিত করা কারো জন্যই শুভ হবে না। এর মাশুল দিতে হবে আমাদের সকলকেই।
রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, এ আশঙ্কা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘সরকারের উচিত অবিলম্বে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এই সমস্যা সমাধান ও মোকাবিলায় অবিলম্বে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি।’
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল করিম আব্বাসী, আবু ইউসুফ খলিলুর রহমান, আবদুল গণি, কামালউদ্দিন মোস্তফা, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, যুগ্ম মহাসচিব তমিজউদ্দিন টিটু প্রমুখ।

