যশোর প্রতিনিধি : ১২ ফুট চওড়া পাকা সড়কের প্রায় অর্ধেক অংশ ভেঙ্গে পুকুরে, অন্যদিকে প্রায় আড়াই কিলোমিটারের পিচ ও খোয়া উঠে সৃষ্টি হয়েছে বড়বড় গর্তের। বেহাল অবস্থায় পতিত এ সড়কটি যশোরের মণিরামপুরের।
এটি একটি সংযোগ সড়ক।আকরাম মোড় হতে খেদাপাড়া সড়কের মাঝিয়ালী ঋষিপাড়া সংলগ্ন এলাকায় পাকা রাস্তা ভেঙ্গে পুকুরে বিলীন হতে চলেছে। ১২ ফুট চওড়া পাকা সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ায় যানবাহনসহ জনগণের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত হাজারও মানুষ সড়কটিতে আসা যাওয়া করছেন। গত দুই-তিন মাস ধরে এই অবস্থা হলেও তার খবর রাখেন না সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কেউ।
এব্যাপারে কথা হয় স্থানীয় লোকজনসহ পথচারীদের সাথে। তারা জানান, প্রতিদিন কয়েকটি ভারি ট্রাক এই সড়কে চলাচল করে। তাছাড়া ইজিবাইকসহ শতশত ভ্যান, মোটরসাইকেল ও সাইকেলে করে হাজারও মানুষের চলাচল এই রাস্তায়। দিনের বেলায় চলাচলে কষ্টতো আছেই, রাতের আঁধারে জায়গাটি আরও বিপজ্জনক। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝিয়ালী গ্রামের আব্দুল করিম মাস্টার পুকুরটির মালিক। কয়েক মাস আগে তিনি স্কেভেটর দিয়ে অনেক গভীর করে পুকুর খনন করে পাশের ভাটায় মাটি বিক্রি করেছেন। স্কেভেটরে মাটি কাটা শেষ না হতেই ভারি বর্ষায় রাস্তার প্রায় অর্ধেক অংশ ভেঙ্গে পুকুরে পড়ে গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রেজাউল বলেন, ‘পুকুর খনন করার সময় বাধা দেওয়া হয়েছে। তারা শোনেননি। এরপর বর্ষায় রাস্তার মাটির অংশসহ পাকার অর্ধেক ভেঙ্গে পুকুরে পড়েছে।’ বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে বলে জানান ইউপি সদস্য রেজাউল।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান বলেন, ‘রাস্তার পাশে পুকুর নির্মাণ করতে গেলে কিছু নীতিমালা মেনে চলতে হয়। কিন্তু অনেকে সেটা না মেনেই সড়কের পাশে পুকুর কেটে থাকেন।’
মাঝিয়ালী গ্রামের রাস্তা ভেঙ্গে পুকুরে পড়ার বিষয়টি আমার জানা আছে। দ্রুত কি করা যায় তা দেখছি, ‘বলেন ইঞ্জিনিয়ার সুফিয়ান। এদিকে এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেন ইউএনও ওবায়দুর রহমান।
সড়কটির আকরাম মোড় হতে মাঝিয়ালী ঋষিপাড়া পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তার পিচ ও খোয়া উঠে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তার প্রায় সব অংশে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। অনেক পথচারী একবার রাস্তাটি পার হলে পরে আর যেতে চাননা।
জালালপুর গ্রামের ভ্যানচালক আবুল কাশেম বলেন, ‘দিনে ৩-৪ বার এই রাস্তায় চলাচল করা পড়ে। রাস্তা খারাপ হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে চায় না। অনেক সময় রাতের বেলায় সন্তানসম্ভবা রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া লাগে।’

