নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও প্রাক্তন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান এবং তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে অধিকতর শুনানি হয়নি।
সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুইটি মামলা রোববার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে অধিকতর শুনানির জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন আসামিপক্ষের সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান অন্য মামলায় ব্যস্ত থাকায় সময়ের আবেদন করা হয়। আবুল কালাম আজাদ সময়ের আবেদন করেন।
ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক কেএম ইমরুল কায়েস সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৫ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে অধিকতর শুনানির পরবর্তী দিন ঠিক করেছেন। তবে এদিন মান্নান খান এবং তার স্ত্রী আদালতে হাজিরা দেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট মান্নান খানের বিরুদ্ধে ৭৫ লাখ ৪ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। মামলা দায়েরের তিন দিনের মাথায় ২৪ আগস্ট মান্নান খান ঢাকা সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। অপরদিকে তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একই বছরের ২১ অক্টোবর মামলা করে দুদক। এরপর ২৩ অক্টোবর ঢাকার সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন হাসিনা সুলতানা। এরপর মামলাটি তদন্ত করে ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট মান্নান খানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। অভিযোগপত্রে মান্নান খানের অবৈধ সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাতে দেখা যায়, তার আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৬৬ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং তিনি সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার। তদন্ত শেষে হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৯ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

