নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের সেই প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত সাংবাদিকদের কাছে বলেন, সেলিম ওসমানের দুই হাত কী করে যে এতো শক্ত আমার জানা নেই। সেদিন সেলিম ওসমানের দুই হাতের থাপ্পরে আমার কান দিয়ে রক্ত বেরিয়ে কাঁধ বেয়ে মাটিতে পড়েছিল। কিন্তু সেলিম ওসমান এতেও আমার দিকে সহানুভুতি না দেখিয়ে আঙ্গুল উঠিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলেন উঠবস কর। এরপর কান ধরে উঠবস করতে গিয়ে আমি মাটিতে পড়ে যাই। এ সময় একজন পুলিশ আমাকে ধরে ফেলে এবং অফিস কক্ষে নিয়ে যায়। পরে অফিস কক্ষে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ বেগম হোসনে আরা আকতারের আদালত থেকে ঘুষ গ্রহণের মামলার অভিযোগ গঠনের আগ পর্যন্ত জামিন পেয়ে তিনি আদালত পাড়ায় উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
এর আগে ১৩ জুলাই শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের এ মামলা বিচারের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে বিচারিক (চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এসএম ওয়াজেদ আলী খোকন জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শ্যামল কান্তি ভক্তের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন জানান, ‘শ্যামল কান্তি ভক্ত অন্যায় ও প্রতিহিংসার শিকার। বিচার বিভাগ স্বাধীন এবং আমরা প্রত্যাশা করি তিনি সুবিচার পাবেন।’
প্রসঙ্গত ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগে গত বছরের ১৩ মে শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠবস করানো হয়। এ ঘটনার দুই মাসের মাথায় ওই বছরের ১৪ জুলাই শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের মামলা হয়। স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক মোর্শেদা বেগম বাদী হয়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ ৪ জনকে সাক্ষী দেখিয়ে ১৭ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার জন্য বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ দেন একই স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক মোর্শেদা বেগম। এরপর আরো ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে আরো ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষক মোর্শেদা বেগমের এমপিওভুক্তের দরখাস্ত কোনো স্থানেই প্রেরণ করেনি। পরবর্তীতে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ফেরত চাইলে তিনি ২০১৬ সালের ১২ মে কোনো টাকা নেয়নি বলে অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে মোর্শেদা বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে বন্দর সহকারী কমিশনার ভূমি তদন্তও করেছেন। গত ২৪ মে শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ওই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেদিন শ্যামল কান্তি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত। গত ৩১ ওই মামলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে শুনানী শেষে আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেন।

