নিজস্ব প্রতিবেদক : একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপের কথা বলছে, এর আগে তা বাস্তাবায়নের জন্য রুট (গতিপথ) নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপি নেতাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের অসম পরিস্থিতিতে কোনো রোডম্যাপই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’ সেজন্য সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণের দাবি তোলেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৬তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সেলিমা রহমান, রুহুল আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শামা ওবায়েদসহ বিএনপির এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীদের নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনায় মোনাজাতে অংশ নেন। পরে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে মাজারে কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে ঢাকা মহানগর বিএনপির উদ্যোগে রাজধানীতে দুস্থদের মাঝে মাঝে কাপড় ও ইফতার সামগ্রী বিতরণের জন্য রওনা দেন খালেদা জিয়া।
এই মুহূর্তে দেশে নির্বাচনের পরিবেশ নেই দাবি করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য রুট থাকতে হবে, তারপর রোডম্যাপ, কিন্তু সেই রুট নেই। এখনো বিরোধী দলের কথা বলার সুযোগ নেই। স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড করার সুযোগ নেই।’
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল বিশেষ করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এই অসম পরিস্থিতিতে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না।’
‘তাই যেকোনো রোডম্যাপ দেওয়া হোক না কেন, প্রথম শর্ত সকল দলের জন্য সমান সুযোগ দিতে হবে এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তারপরই রোডম্যাপ নিয়ে কথা বলা সংযত হবে বলে মনে করে বিএনপি,’ বলেন মির্জা ফখরুল।
জনগণ ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন হতে দেবে না, মেনে নিবে না মন্তব্য করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘সবাইকে সমান সুযোগের মধ্য দিয়ে একটি ইনক্লুসিভ নির্বাচন হতে পারে।’
১৯৮১ সালের এই দিনে ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিপৎগামী কিছু সেনাসদস্যের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন জিয়াউর রহমান।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার হিসেবে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। ‘জেড ফোর্স’ এর অধিনায়ক হিসেবে রণাঙ্গনে বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেন তিনি। বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ বঙ্গবন্ধু তাকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করেন। ‘৭৫ পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসেন তিনি। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।

