
বজ্রপাত
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রতি বছর এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত বজ্রপাতে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হলেও কত মানুষ মারা যাচ্ছেন, তার প্রকৃত হিসেব মেলে না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যে হিসেব করে, সেগুলো দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে করা হয় জানিয়ে সমাজ গবেষকরা বলছেন, প্রকৃত সংখ্যা দ্বিগুণের কাছাকাছি। গত বছর বজ্রাঘাতে প্রায় দুইশ মানুষের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলেও সূত্র বলছে, প্রত্যন্ত গ্রামে-হাওড়ে এ ধরনের মৃত্যুর হার বেশি। তবে বেশিরভাগ মৃত্যু পত্রিকার খবর হয় না বলে তালিকার বাইরে রয়ে যায়। ২০১৫ সালে বজ্রাঘাতে ১৪২ জনের মৃত্যুর পর বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছিল সরকার। যদিও জাতীয় দুর্যোগের বাস্তবিক চিত্র যেমন সামনে নেই, তেমনই বজ্রাঘাতে আহতদের পরবর্তীতে চিকিৎসা ব্যবস্থা কি হচ্ছে এবং তারা কি ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন, তা নিয়ে কোনও আলোচনাও নেই।
এ পরিস্থিতিতে এবারও বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ঝড় হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল-মে মাসে বজ্রপাতের হার বেশি হলেও এবছর মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে বজ্রপাত শুরু হয়েছে এবং রোজই কোনও না কোনও এলাকায় বজ্রপাতে মৃত্যু হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব জিওগ্রাফির অধ্যাপক ড. টমাস ডব্লিউ স্মিডলিনের ‘রিস্ক ফ্যাক্টরস অ্যান্ড সোশ্যাল ভালনারেবিলিটি’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর মার্চ থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৪০টি বজ্রপাত হয়। বছরে দেড় শ’র মতো মৃত্যুর খবর বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকায় ছাপা হলেও আসলে এ সংখ্যা পাঁচশ’ থেকে এক হাজার।
গত বছর দেশে বজ্রপাতে প্রায় ২০০ জন মারা যায়। বেশির ভাগ মৃত্যু হয়েছে হাওর অঞ্চলের নয়টি জেলায়। বজ্রপাতে প্রচুর গবাদি পশুরও মৃত্যু হয়েছে। দুর্যোগ ফোরামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে বজ্রপাতে ২৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই বছর সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় মে মাসে, ৯১ জন।
এ প্রসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বজ্রপাতে দেশে বছরে কত জন মারা যান সে বিষয়ে কোনও সঠিক তথ্য নেই। আমরা যদি পত্রিকা অফিসে যাই সেখানে এক ধরনের তথ্য, আবার বিভিন্ন সংগঠন কিংবা মন্ত্রণালয় আরেক ধরনের তথ্য দেবে। এসব তথ্য সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়। তিনি আরও বলেন, এখন মন্ত্রণালয় অনেক গুছানো অবস্থায় কাজ করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়টি পড়ানো হচ্ছে। আগামীতে আমরা নিশ্চয়ই এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারব।
বজ্রাঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে দুর্যোগ ফোরামের সমন্বয়ক মেহেরুন ঝুমুর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বজ্রপাত হলেও মৃত্যুহার বাড়বে না এমন জায়গায় আমাদের পৌঁছাতে হবে। বড় গাছের অভাবের কারণে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে গেছে মনে করা হলে বড় গাছের ব্যবস্থা করতে হবে। বজ্রপাতের সময় কী করা যাবে না সেসব বেশি বেশি প্রচারের ব্যবস্থা গ্রামেগঞ্জে রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি বজ্রপাতের ঘটনা এত বেড়ে গেছে যে বর্তমানে এটিকে আপদ থেকে দুর্যোগ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বজ্রাঘাতে আহতদের চিকিৎসা কি হচ্ছে এবং তাদের কি ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে সে বিষয়ে কোনও গবেষণা না থাকায় স্পষ্ট কোনও ধারণাও তৈরি করছে না।

