ঢাকাSunday , 5 February 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শোকে মুহ্যমান রাজনীতিকরা

Link Copied!

Suronjit_Sen_guptaনিজস্ব প্রতিবেদক : অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান এবং দেশের প্রথম সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন রাজনীতিবিদরা। রোববার শোকবাণী ও প্রতিক্রিয়ায় তারা বলেছেন, তার মৃত্যুতে দেশ ও জাতি এক অভিজ্ঞ সম্পদ হারাল, যা অপূরণীয় ক্ষতি।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এক শোকবাণীতে বলেছেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত শুধু একজন রাজনীতিকই ছিলেন না, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নেও তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন। সংসদীয় রাজনীতিতে তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অতুলনীয়। বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। তার মৃত্যুতে দেশ একজন দক্ষ রাজনীতিবিদকে হারাল, এই ক্ষতি অপূরণীয়।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, যা সহজে পূরণ হবার নয়। তার মৃত্যুতে জাতি হারাল একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদকে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ হারাল একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান। আর আমরা হারালাম সকল প্রগতিশীল রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামের একজন সেনানীকে।
অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আবুল মাল আবদুল মু‌হিত বলেছেন, ‘পার্লামেন্ট লস্ট এ গ্রেট পার্লামে‌ন্টা‌রিয়ান। সুর‌ঞ্জিত খুবই জন‌প্রিয় রাজনী‌তিক ছিলেন। তি‌নি দাঁড়া‌লে আর কেউ কথা বল‌তেন না। রোববার ধানমন্ডির জিগাতলায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মরদেহ দেখতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি। একইভাবে তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘বাংলা‌দে‌শের বয়স আর তার রাজনৈতিক জীবনের বয়স সমান। তার সমসাময়িক রাজনী‌তিক আর বে‌শি নেই।’
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রয়াতের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে সাংবাদিকদের কাছে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ‘আব্দুস সামাদ আজাদের প্রয়াণের পর তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব বৃহত্তর সিলেটে ছিল না, আজও নেই।’ আর সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের চলে যাওয়া সিলেট তো বটেই, সমগ্র রাজনৈতিক অঙ্গনেও শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তিনি আরো বলেন, ‘আইনের বিষয়ে কোন জটিলতা তৈরি হলে সবাই তাঁর কাছে যেতেন। এমনকি স্পিকার নিজেও তার কাছে আইনি সহায়তা চাইতেন। তার মতো আস্থাভাজন লোক পেতে হয়তো আমাদের অনেকদিন অপেক্ষা করতে হবে।’
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বেসামরিক বিমান মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘পার্লামেন্ট সম্পর্কে তার যে জ্ঞান ছিল তা অতুলনীয়। পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্বে আঘাত হয় এমন কিছু ভুল হলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিবাদ করতেন। সংবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে, সংশোধনের ক্ষেত্রে তিনি তার অভিজ্ঞতার ছাপ রেখে গেছেন।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রোববার সকালে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব। পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে তিনি নাম্বার ওয়ান বলে আমার মনে হয়। তার মৃত্যুতে বিরাট শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এটা সহজে পূরণ হবে, তা মনে করার কোনো কারণ নেই।’
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-একাংশ) সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন যাবৎ তার অনুপস্থিতি অনুভব করবে। আমরা জাতি হিসেবে একজন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ও ঝানু পার্লামেন্টারিয়ানকে হারালাম। এই ক্ষতি সহজে পূরণ হবার নয়।’
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তার মতো অভিজ্ঞ, সৎ ও নিষ্ঠাবান নেতা বিরল। তার সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক বহুকালের। আমি তাকে মহৎ প্রাণের মানুষ হিসেবে জানতাম। রাজনৈতিক সঙ্কটে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখতেন। মানুষের মাঝে আস্থা তৈরি করতেন। এরকম একজন পার্লামেন্টারিয়ান নেতা চলে যাওয়ায় আমি শোকাহত ও মর্মাহত। আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করি।’