নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ছেলে সৌমেন সেনগুপ্ত বলেছেন, বাবা মারা গেছেন। এখন রাজনৈতিক বা পারিবারিক যেটাই হোক আমাদের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাবার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ আমি শেষ করবো।
রোববার সকালে রাজধানীর জিগাতলার বসায় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন সৌমেন।
সকালে হাসপাতাল থেকে মরদেহ জিগাতলার বাসায় নিয়ে আসার পর সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহধর্মিনী জয়া সেনগুপ্ত কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘জেলে যাওয়ার পর এই বাড়িতে একাই এসেছিলাম, আজ এই বাড়িতে একাই রয়ে গেলাম। অগ্নিকে সাক্ষি রেখে সাত জনমের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া মানুষটি আমাকে রেখে এভাবে চলে যাবে ভাবতেও পারিনি।’
জয়া সেনগুপ্ত স্বামী হারানোর শোকে বিলাপ করছিলেন, বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। শোবার ঘরে স্বামীর বিছানায় বারবার হাত রেখে বলছিলেন, তুমি কেন আমায় ছেড়ে গেলে! আমি কিছুতে একটু শঙ্কিত হলে তুমি আমায় ভরসা দিতে। এখন আমার কি হবে! কে ভরসা দেবে! আমার সামনে এখন শুধু অন্ধকার। কি করবো, কোথায় যাবো! কার কাছে যাবো তুমি কিছুই বলে গেলে না!
১৯৪৬ সালে সুনামগঞ্জের আনোয়ারাপুরে জন্ম নেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। দ্বিতীয়, তৃতীয়, পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম জাতীয় সংসদসহ মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর তিনি রেলমন্ত্রী হন। পরবর্তী সময়ে তাকে দফতরবিহীন মন্ত্রী করা হয়।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে এলএলবি পাশের পর আইন পেশায় যুক্ত হন। তিনি বর্তমান সংসদের আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলেরও সদস্য ছিলেন। রোববার ভোর ৪টা ১০ মিনিটে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

