নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্তমান নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীলদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন কমিশনার খোঁজার জন্য ‘সার্চ কমিটি’র বিষয়টিকে তামাশা হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। ‘তামাশা’ বন্ধ করে সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক প্রত্যাহারের প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এই আহ্বান জানান। ‘স্বাধীনতা ফোরাম’ নামের একটি সংগঠন এর আয়োজন করে।
সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। এরই মধ্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, এরপর রাষ্ট্রপতি যথাসময়ে সংবিধান অনুসারে ইসি নিয়োগ দেবেন।
সংবিধানের আলোকে রাষ্ট্রপতি সবসময় সিইসি ও ইসি নিয়োগ দিলেও ২০১২ সালে নির্বাচন কমিশন গঠন করা সার্চ কমিটির মাধ্যমে। সে সময় প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান।
এবারও সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন নিয়োগের আভাস দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এবারও আগের প্রক্রিয়ায় ইসি নিয়োগ হবে। ২০১২ সালে যেভাবে বর্তমান ইসি গঠন করা হয়েছে, এবারও সেভাবেই হবে।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে সংবিধানে আইন প্রণয়নের কথা বলা হলেও গত চার দশকের বেশি সময়ে তা হয়নি। আনিসুল হক বলেন, ‘সংবিধানের আলোকে আইন প্রণয়নের বিষয়টি এখনও সরকারের বিবেচনায় আসেনি; তেমন পরিকল্পনা নেই।’
মানববন্ধনে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘সার্চ কমিটির নামে যে তামাশা হচ্ছে, সেই তামাশা বন্ধ করতে হবে। সার্চ কমিটি দিয়ে কী হবে, তা আমাদের ভালোই জানা আছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধান বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে আমাদের কোনো একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র ছাড়া আমাদের কোনো পথ নেই, নির্বাচন ছাড়া কোনো পথ নেই, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভক্তি ছাড়া আমাদের কোনো পথ নেই। সংলাপের মধ্য দিয়ে আমরা জাতীয় সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব।’
সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন বক্তব্য রাখেন।

