নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচারের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ দাবি জানান তিনি। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ।
আলোচনা সভায় মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের প্রত্যক্ষ মদদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে খুন করা হয়। তাই জিয়ার মরণোত্তর বিচার দাবি করছি। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে এ দেশকে স্বাধীন করেছি। এখানে পাকিস্তানের কোনো আদর্শ অনুসরণ করা হবে না।’ স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করে জিয়ার অপরাধ তদন্ত করারও আহ্বান জানান হানিফ।
বিএনপির এক কর্মী মামলার ভয়ে ঢাকায় এসে রিকশা চালান, এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর সমালোচনা করে ফখরুলের উদ্দেশে হানিফ বলেন, ‘যারা রিকশা চালায় তারা কি মানুষ না? যারা রিকশা চালায় তাদের প্রতি কেন আপনার মায়া নেই? আপনার কর্মী মামলার ভয়ে ঢাকায় এসে রিকশা চালায় বলে এতো দরদ আপনার! যখন পেট্রোল বোমা মেরে আপনার কর্মীরা নিরীহ মানুষদের, গাড়ি চালকদের হত্যা করেছে, তখন আপনার মায়া লাগেনি? বিএনপির চোখে অশ্রু মানায় না। খুনির দল, হত্যাকারীর দল বিএনপি। তাই হত্যাকারীর চোখে মায়াকান্না মানায় না, ফখরুল সাহেব।’
‘২০০১ সালে আপনারা ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর আপনার দলের নেতা-কর্মীরা অমানুষিক নির্যাতন করেছে। আপনি তো তখন মন্ত্রী ছিলেন। কই তখন তো আপনার সহানুভূতি দেখিনি! বরং আপনারা উল্লাস করেছেন। নির্বিচারে মানুষ হত্যার সময় কোথায় ছিল আপনার বিবেক?’ বলেন মাহবুব উল আলম হানিফ।
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রতিষ্ঠিত করেই বিভেদ দূর করতে হবে। যারা স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে এখনো পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে, তাদের রাজনীতি করতে দেওয়ার সুযোগ ফুরিয়ে এসেছে। কাজেই তাদের বিতাড়িত করতে না পারলে বিভক্তি রয়েই যাবে।’
আলোচনা সভায় খাদ্যমন্ত্রী মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী কর্নেল ফারুকও আইএসআইয়ের এজেন্ট হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমানকে তার কর্মকাণ্ডের জন্য যুদ্ধের সময়ই সেক্টর কমান্ডার পদ থেকে সরানো হয়েছিল।’
কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি একজন আইনজীবী হিসেবে জানি, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাক্ষীরা জবানবন্দি দিয়েছেন, যে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। তিনি ছিলেন মূল কুশীলব। তদন্তেও এসব উঠে এসেছে।’
খাদ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কখনো স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মাথায় জাতির পিতাকে হত্যা করতে পারেন না। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার আদর্শ কখনো এমন হয় না।’
কামরুল ইসলাম বলেন, ‘তারেক রহমানের চরিত্রেও ভিন্ন কিছু নেই। তারা আইএসআইয়ের এজেন্ডাকে এগিয়ে নিচ্ছেন। এজন্যই ১৯৭১, ১৯৭৫ ও ২০০৪ সালের হত্যাকাণ্ড একই সূত্রে গাঁথা। ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলায় যদি শেখ হাসিনা নিহত হতেন, তবে ওই দিনটিতে তারেক জিয়াও জন্মদিন পালন করতেন।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপিতে অনেক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন, অনেক ভালো মানুষও আছেন। কিন্তু এই দলের মূল নেতৃত্বে রয়েছেন আইএসআইয়ের এজেন্টরা। এদের থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এই নেতৃত্বকে ছুড়ে ফেলতে হবে। তবেই আপনাদের কান্না বন্ধ হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক মিজানুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অশোক তরু, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য শাহীনুর রহমান প্রমুখ।

